সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন

আদিবাসী গোষ্ঠীকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ, নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মামলা

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৪ মে, ২০২৫
  • ৩৯ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছে আমাজনের একটি আদিবাসী গোষ্ঠী। সম্প্রদায়টির অভিযোগ, নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে হাই-স্পিড ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ার পর তাদের সমাজকে ‘পর্নোগ্রাফি আসক্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মানহানির মামলায় বলা হয়েছে, মার্কিন এই সংবাদপত্রটি মারুবো গোষ্ঠীকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, যেন তারা ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রাথমিক সুযোগই নিতে অক্ষম এবং তরুণ প্রজন্ম পর্নোগ্রাফিতে ডুবে গেছে।

মামলায় মার্কিন টিএমজেড ও ইয়াহু নিউজকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই দুটি মাধ্যমের বিরুদ্ধ অভিযোগ, তাদের প্রকাশিত সংবাদের ভাষা মারুবো তরুণদের উপহাস করে এবং তাদের সংস্কৃতিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে।

এদিকে, নিউইয়র্ক টাইমস দাবি করেছে, মারুবো সম্প্রদায়ের কেউ পর্নে আসক্ত তাদের প্রতিবেদনে কোথাও বলা হয়নি। আর টিএমজেড ও ইয়াহু নিউজের কাছ থেকে অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, প্রায় ২ হাজার সদস্যের মারুবো আদিবাসী গোষ্ঠী কমপক্ষে ১৮ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছিল, ইলন মাস্কের ইন্টারনেট সেবা ‘স্টারলিংক’ চালু হওয়ার মাত্র নয় মাসের মধ্যেই মারুবো গোষ্ঠী ‘আমেরিকান পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের সমস্যার’ মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষ করে, মোবাইল ফোনে আসক্ত কিশোর-কিশোরী, সহিংস ভিডিও গেমস এবং নাবালকদের পর্নোগ্রাফি দেখার মতো সমস্যা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে ওই সম্প্রদায়ের এক নেতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছিল, তিনি ইন্টারনেটের প্রবল সমালোচক এবং পর্নোগ্রাফির বিষয়টি তাকে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করেছে। তরুণদের মধ্যে আগ্রাসী যৌন আচরণের ঘটনা বাড়ছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

তবে একই প্রতিবেদনে ইন্টারনেটের ইতিবাচক দিকও তুলে ধরা হয়, যেমন, স্বাস্থ্য সমস্যা বা পরিবেশগত ধ্বংসের ক্ষেত্রে দ্রুত প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দূরবর্তী আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন সম্ভব হচ্ছে।

মামলায় অভিযোগ, নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করেছে টিএমজেডসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যম। টিএমজেড একটি প্রতিবেদনের শিরোনামে সরাসরি পর্নোগ্রাফি আসক্তির কথা উল্লেখ করেছে।

প্রতিক্রিয়ার মুখে মূল প্রতিবেদনটি প্রকাশের এক সপ্তাহ পর নিউইয়র্ক টাইমস অবশ্য এই বিষয়ে আরও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেই প্রতিবেদনটির তারা শিরোনাম করে, ‘না, প্রত্যন্ত আমাজন গোষ্ঠীটি পর্নে আসক্ত হয়নি।’

তবু মামলায় দাবি করা হয়েছে, মূল প্রতিবেদনেই মারুবো গোষ্ঠীকে এমনভাবে চিত্রিত করা হয়েছে, যেন তারা ইন্টারনেটের প্রাথমিক ব্যবহার সামাল দিতে অক্ষম এবং তাদের তরুণেরা পর্নে নিমজ্জিত।

মামলায় বাদী হিসেবে যারা নাম উল্লেখ করেছেন, তারা হলেন মারুবো সমাজের নেতা এনোক মারুবো এবং ব্রাজিলিয়ান মানবাধিকারকর্মী ফ্লোরা ডুত্রা। মূলত ফ্লোরা ডুত্রাই ১৫ হাজার ডলার মূল্যের ২০টি স্টারলিংক অ্যানটেনা বিতরণে সহায়তা করেছিলেন।

এনোক মারুবো ও ফ্লোরা ডুত্রার ভাষ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন বিশ্বজুড়ে মিডিয়া ঝড়ের জন্ম দেয়। এর ফলে তারা অপমান, হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে।

টিএমজেডের প্রতিবেদনটিতে এনোক মারুবো ও ফ্লোরা ডুত্রাকে স্টারলিংক অ্যানটেনা বিতরণ করতেও দেখা গেছে। বাদীরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে এমন একটি বার্তা দেওয়া হয়, যেন তারাই ওই সম্প্রদায়ে অশ্লীল কনটেন্ট সরবরাহ করেছেন এবং সমাজ ও নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটিয়েছেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের একজন মুখপাত্র বলেন, ওই প্রতিবেদনটি গভীরভাবে সংবেদনশীল এবং একটি গর্বিত ঐতিহ্য ও সংরক্ষিত সংস্কৃতি সম্পন্ন দূরবর্তী আদিবাসী গ্রামের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সুফল ও জটিলতা তুলে ধরেছে। আমরা এই মামলার বিরুদ্ধে জোরালোভাবে অবস্থান নেব।

কিউএনবি/অনিমা/২৪ মে ২০২৫, /সকাল ৬:১১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit