শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সারা দেশে হাম উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু গিনেস রেকর্ডে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ঘোড়া ‘হুগো’, বাড়ছে এখনও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্সে যোগ দিতে দক্ষিণ আফ্রিকা যাচ্ছেন ডেপুটি স্পিকার শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হলো কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব এক দিনে ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৯০ ফুটবলকে বিদায় বলে দিলেন ঘানার ফুটবলার আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনীতিতে সৎ, যোগ্য ও মেধাবী মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী বাব আল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন হুতিদের হাতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পক্ষে নন ইরানের প্রেসিডেন্ট

মহাসমাবেশ থেকে আ.লীগ নিষিদ্ধসহ ১২ দফা দাবি জানাল হেফাজত

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৩ মে, ২০২৫
  • ৮৭ Time View

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সমাবেশে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধসহ ১২ দফা দাবি পেশ করেন হেফাজত নেতারা। সেইসঙ্গে দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (৩ মে) মহাসমাবেশে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ১২ দফা দাবি পেশ করেন নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক এসব দাবি পেশ করেন।

এ সময় আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ্ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ দেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ দেশ বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম উপস্থিতি ছিলেন।

দাবি পেশকালে হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে গণহত্যাসহ জুলাই আন্দোলনের ৮৪ জন মাদ্রাসা ছাত্র-শিক্ষকসহ সব শহীদকে স্মরণ করেন। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহত পঙ্গুত্ব বরণকারীদের দ্রুত সুস্থতা ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে হেফাজতের মহাসচিব বলেন, ‘নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিন মাসের মধ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ২৩ মে বাদ জুমা চার দফা দাবির ভিত্তিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল করা হবে।’

গণমাধ্যম সংস্কারের কথাও তুলে ধরেন হেফাজতের নেতারা। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয় এমন সংবাদ ও প্রচার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানান তারা।

দুপুর ১টা ১১ মিনিটে আমিরের মুনাজাতের মাধ্যমে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

হেফাজতের ১২ দফা দাবির মধ্যে যা আছে

১. নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন ও তাদের কোরআন বিরোধী প্রতিবেদন অবিলম্বে বাতিলপূর্বক আলেম-ওলামাদের পরামর্শক্রমে ধর্মপ্রাণ বৃহত্তর নারী সমাজের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে নতুন কমিশন গঠন করতে হবে। নারীর সামাজিক উন্নয়নে পশ্চিমা মূল্যবোধ নয়, বরং আমাদের নিজস্ব সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের আলোকেই বাস্তবমুখী সংস্কারের দিকে যেতে হবে।

২. সংবিধানে আল্লাহর ওপরে পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন করতে হবে। ধর্মপ্রাণ গণমানুষের ঈমান ও আমল রক্ষার্থে বহুত্ববাদ নামক আত্মঘাতী ধারণা থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে। এছাড়া লিঙ্গ পরিচয়, লিঙ্গ বৈচিত্র্য, লিঙ্গ সমতা, তৃতীয় লিঙ্গ বা থার্ড জেন্ডার ইত্যাদি শব্দের মারপ্যাঁচে, কাউকে বাদ দিয়ে নয় এমন ধোঁয়াশাপূর্ণ স্লোগানের অন্তরালে এবং অসাম্প্রদায়িক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শব্দের আড়ালে এলজিবিটি ও ট্রান্সজেন্ডারবাদের স্বীকৃতি ও অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সমাজবিধ্বংসী ধর্মবিরুদ্ধ সমকামীবান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠার পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে।

৩. শাপলা চত্বর ও জুলাই গণহত্যার বিচারে গতি আনতে ট্রাইব্যুনালে সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের আগেই শেখ হাসিনা ও তার চিহ্নিত দোসরদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

৪. গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করব বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম ও তৎপরতা নিষিদ্ধ করতে হবে।

৫. আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.) এর নামে কটূক্তিকারী ও বিষোদ্‌গার বন্ধে কঠোর আইন করতে হবে। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ধর্মীয় অবমাননা সংক্রান্ত শাস্তির আইনি ধারাগুলো বাদ দেওয়ার সুপারিশ বাতিল করতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

৬. চট্টগ্রামে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতে শহীদ সাইফুল ইসলাম হত্যার উসকানিদাতা চিন্ময় দাসের জামিন প্রত্যাহারপূর্বক তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে।

৭. ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে সারা দেশে প্রতিবাদী আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও ইসলামমনা তরুণদের বিরুদ্ধে হওয়া মিথ্যে ও বানোয়াট সব মামলা অতিসত্বর প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তি করতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারকে। সেই সঙ্গে জঙ্গি নাটক বা জঙ্গি কার্ড খেলে বাংলাদেশকে ইসলামপন্থি ও আলেম-ওলামাদের গত ১৫ বছর যারা নির্যাতন চালিয়েছিল তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

৮. গাজার মুসলমানদের ওপর অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলের চলমান গণহত্যা ও ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে আমাদের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই সরকারকে কূটনৈতিকভাবে আরও উচ্চকণ্ঠ হতে হবে এবং দেশের সর্বস্তরের জনতাকে ইসরায়েলি ভারতীয় পণ্য বয়কট করতে হবে।

৯. ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশ। শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায়ে থেকে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত সর্ব পর্যায়ে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

১০. রাখাইনকে মানবিক করিডোর প্রদানে সরকারের সম্মত হওয়া সম্পূর্ণরূপে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। আমাদের ভৌগোলিক নিরাপত্তার স্বার্থে এ অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে অবশ্যই অনতিবিলম্বে ফিরে আসতে হবে।

১১. চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে ভিনদেশি মিশনারি অপতৎপরতা ও দৌরাত্ম্য বন্ধে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে বাংলাদেশে ভৌগোলিক ও খণ্ডতায় ও নিরাপত্তা সংকট কমাতে আলেম সমাজের দাওয়াতি কার্যক্রমকে আরও নিরাপদ ও সুযোগ করে দিতে হবে। সেখানে সামরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও বৃদ্ধি করা ছাড়াও পাহাড়ি ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক সমঝোতা ও স্থিতিশীলতা বিনির্মাণে রাষ্ট্রীয় তৎপরতা আরও বাড়াতে হবে।

১২. কাদিয়ানীদের বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। সাধারণ মুসলমানদের ঈমান আকিদা রক্ষার্থে কাদিয়ানীদের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।

কিউএনবি/অনিমা/০৩ মে ২০২৫, /বিকাল ৫:৩১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit