বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫২ অপরাহ্ন

ভারতের কুম্ভমেলাকে ঘিরে বিপর্যয় চলছেই

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ৯৫ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের প্রয়াগরাজে কুম্ভমেলাকে ঘিরে বিপর্যয় থামছেই না। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কখনো অগ্নিসংযোগ, কখনো পদপিষ্টের ঘটনা দেখা গেছে। সব মিলিয়ে মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত।

গত ১৩ জানুয়ারি প্রয়াগরাজে এই মেলা শুরু হয়েছে, তা চলবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, কুম্ভমেলায় গিয়ে তিনটি নদীর (গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতী) মিলনস্থলে গোসল করলে পুণ্য লাভ করা যায়। আর তাই প্রতিবছর এই অমৃতস্নানের জন্য কয়েক লাখ পুণ্যার্থীর সমাগম হয় এই কুম্ভমেলায়।

স্বভাবতই এ বছরও প্রতিদিনই লাখো লাখো মানুষ পুণ্য লাভের আশায় জমায়েত হচ্ছেন কুম্ভমেলায়। গোসল সেরে ফের তারা নিজেদের গন্তব্যে ফিরেও যাচ্ছেন। আর তখনই বিভিন্ন ক্ষেত্রে মেলার ব্যবস্থাপনায় ফাঁক ফোঁকর ধরা পড়ছে। তা সেই প্রয়াগরাজের মেলা প্রাঙ্গণই হোক, কিংবা রেলস্টেশন চত্বর!

মেলা শুরুর কয়েকদিন পরেই গত ১৯ জানুয়ারি মেলা প্রাঙ্গণে সেক্টর-১৯’এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। ভয়ংকর আগুনের গ্রাসে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল ১৮০টি তাবু। তাবুতে ভেতরে থাকা বিভিন্ন বস্তু সামগ্রী পুড়ে গেলেও প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি।

গত ২৯ জানুয়ারি মৌনী অমাবস্যার দিন প্রয়াগরাজে তিন নদীর মিলনস্থলে পুণ্যস্নানের সময় হুড়োহুড়িতে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে, তাতে ৩০ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় প্রায় অর্ধশতাধিকের বেশি মানুষ। এরপরই নড়েচড়ে বসে উত্তর প্রদেশ প্রশাসন। যদিও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এরপরেও ফের একবার মেলা প্রাঙ্গণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এরপর গত ৭ ফেব্রুয়ারি কুম্ভমেলা প্রাঙ্গণের সেক্টর-১৮ এলাকায় হরিহরা নন্দ ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গতকাল শনিবার প্রয়াগরাজ-মির্জাপুর মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়। নিহতরা সকলেই নারী এবং তারা সকলেই ছত্তিশগড় থেকে উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে কুম্ভমেলায় যাচ্ছিলেন। ওই সড়ক দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন।

শনিবারই প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ এলাকার ১৯ নম্বর সেক্টরের একটি আশ্রমে আগুন লেগে সাতটি তাঁবু পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফের দুর্ঘটনা। এবারের দুর্ঘটনাস্থল দিল্লি রেলওয়ে স্টেশন। কুম্ভমেলায় অংশ নিতে যাওয়ার জন্য ট্রেন ধরতে গিয়ে হুড়োহুড়িতেই ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রাণ গেল ১৮ জনের। নিহতদের মধ্যে পুরুষ, নারী ছাড়াও রয়েছে কয়েকটি শিশু।

জানা গেছে, এদিন রাতের দিকে পরপর দুটি ট্রেন (স্বতন্ত্র সেনানি এবং ভুবনেশ্বর-রাজধানী) দেরিতে চলাচল করছিল। ফলে স্টেশনে বহু যাত্রী জড়ো হয়ে গিয়েছিলেন। এরই মধ্যে রাত ১১টা নাগাদ একটি বিশেষ ট্রেন (প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেস) ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। তার ওপরে একেবারে শেষ মুহূর্তে ট্রেনের প্ল্যাটফর্মও বদল করা হয়। আর সেই ট্রেন ধরতেই প্রত্যেকেই তাড়াহুড়ো করেন। কেউ রেললাইন টপকে, কেউ সিঁড়ি, কেউ আবার এস্কেলেটর ব্যবহার করে সেই ট্রেন ধরতে গেলে তাতেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। প্ল্যাটফর্মে উপচে পড়া ভিড় থাকা সত্ত্বেও কিভাবে এত বেশি সংখ্যায় জেনারেল ক্যাটাগরির টিকিট বিক্রি করা হলো, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অন্যদিকে নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে আর্থিক ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

কিউএনবি/অনিমা/১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫,/রাত ৯:৩৭

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit