সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশিদের চিকিৎসায় হাসপাতাল সুনির্দিষ্ট করেছে চীন

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ৬৬ Time View

ডেস্ক নিউজ : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ঘোষণা করেছেন যে, চিকিৎসার জন্য ভারতীয় ভিসা পেতে সমস্যায় পড়া বাংলাদেশিদের জন্য ঢাকার নিকটতম চীনের শহর কুনমিংয়ে দুই থেকে তিনটি হাসপাতাল মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন।

রোববার তার সাম্প্রতিক চীন সফরের ফলাফল সম্পর্কে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “ভারতে ভিসা সমস্যা অব্যাহত থাকায় আমরা চিকিৎসার জন্য বিকল্প গন্তব্য খুঁজছিলাম। ভারতীয় ভিসার সমস্যার কারণে আমরা বিশ্বাস করি এটি একটি কার্যকর বিকল্প।”

উপদেষ্টা বলেন, কুনমিং ইউনানের রাজধানী হওয়ায় ইউনানের ডেপুটি গভর্নর তার সাথে দেখা করতে বেইজিং যান এবং বাংলাদেশি রোগীদের জন্য হাসপাতাল মনোনীত করার সিদ্ধান্ত জানান।

হোসেন বলেন, “আমি চীনা কর্তৃপক্ষকে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার এবং বাংলাদেশি চিকিৎসা প্রার্থীদের জন্য ভিসা ফি কমানোর অনুরোধ করেছি।”

উপদেষ্টা বলেন, চীন সরকার ঢাকার উপকণ্ঠে পূর্বাচলে সরকারি মালিকানাধীন জমিতে একটি বৃহৎ সরকারি হাসপাতাল নির্মাণে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জমি (এই উদ্দেশ্যে) প্রদান করব।”

সরকারি হাসপাতাল স্থাপন ছাড়াও চীনের সাথে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় একটি তৃতীয় স্তরের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও তৈরি করা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

হোসেন তার চীনা প্রতিপক্ষ ওয়াং ইয়ের আমন্ত্রণে গত ২০ থেকে ২৪ জানুয়ারি বেইজিংয়ে সরকারি সফরে ছিলেন। তিনি তার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং চীনা ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করার জন্য সাংহাই সফর করেন।

হোসেন বলেন, “আমরা উন্নয়ন প্রকল্প এবং ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আমাদের সকল দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।” তিনি বেইজিংকে ঋণের সুদের হার কমাতে এবং ঋণ পরিশোধের সময়কাল ২০ বছর থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ করেছেন।

তিনি বলেন, চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী “ঋণ পরিশোধের সময়কাল বাড়ানোর বিষয়ে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন এবং সুদের হার কমানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন”।

হোসেন বলেন, আলোচনার সময় তিনি ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে ঢাকার “বিশেষ উদ্বেগ” উত্থাপন করেছেন। এই নদীটি চীন থেকে ভারতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

তিনি বলেন, “আমরা চীনকে এ বিষয়ে তাদের গবেষণা সম্পর্কে আমাদের অবহিত করার অনুরোধ করেছি।”

উপদেষ্টা বলেন, চীনা পক্ষ তাকে আশ্বস্ত করেছে যে, তাদের পদক্ষেপ বাংলাদেশে জলপ্রবাহের ওপর প্রভাব ফেলবে না। তিস্তা নদী প্রকল্পে সম্ভাব্য চীনা সহায়তা সম্পর্কে তার প্রতিপক্ষের সাথে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে হোসেন নেতিবাচক উত্তর দেন, “তিস্তা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি”।

উপদেষ্টা বলেন, নবায়নকৃত চুক্তির সম্ভাব্য পরিবর্তনের জন্য চলমান পর্যালোচনার পর ঢাকা এবং বেইজিং উভয়ই দ্বিপাক্ষিক জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা চুক্তি নবায়ন করতে সম্মত হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা বেইজিংয়ের সাথে আমাদের মতামত শেয়ার করেছি এবং তারা তাদের মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করেছে। খসড়া চূড়ান্ত করতে কিছুটা সময় লাগবে, তবে এটি সম্পন্ন হবে।”

হোসেন বলেন, তার সফরের সময় ‘ইয়ালুজাংবু-যমুনা’ নদীর ওপর জলবিদ্যুৎ-সম্পর্কিত তথ্য বিনিময়ের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

কিউএনবি/অনিমা/২৭ জানুয়ারী ২০২৫,/সকাল ১০:৫০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit