স্পোর্টস ডেস্ক : প্রায় দেড় বছর ধরে অফফর্মের সঙ্গে লড়ছিলেন স্টিভ স্মিথ। গড়টাও কমছিল তরতর করে। অনেকেই তো তার শেষও দেখে ফেলেছিল। সেই স্মিথ অবশেষে প্রিয় প্রতিপক্ষকে পেয়েই জ্বলে উঠলেন। ব্রিসবেন ও মেলবোর্নে টানা দুই টেস্ট সেঞ্চুরি হাঁকালেন। বাজে সময় পেছনে ফেলে একটা মাইলফলকের সামনেও পৌঁছে গেলেন।
সিডনিতে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির শেষ টেস্টে ৩৮ রান করতে পারলেই ১০ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলবেন স্মিথ। রানের বন্যা বইয়ে দেয়া এই ডানহাতি যে সিডনিতেই মাইলফলক ছুঁবেন, সে ব্যাপারে প্রায় নিশ্চিত ছিলেন সবাই। শত হলেও এটাই যে তার ঘরের মাঠ। এই সুযোগ কে হাতছাড়া করে!
কিন্তু স্মিথ করেছেন। ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ১০ বছর পর বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি ঘরে তোলার দিনে অস্ট্রেলিয়ার সেরা ব্যাটার মাত্র ১ রানের জন্য ১০ হাজার রান পূর্ণ করতে পারেননি। সিডনি টেস্টের পর ১১৪ টেস্টের ২০৪ ইনিংসে ৫৫.৮৬ গড়ে স্মিথের রান ৯৯৯৯! নামের পাশে ৩৪টি সেঞ্চুরি ও ৪১টি হাফ সেঞ্চুরি।
সিডনি টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩৩ রানে আউট হয়েছিলেন স্মিথ। ব্যাট হাতে স্বছন্দই ছিলেন। কিন্তু প্রসিধ কৃষ্ণার বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে হতাশ করেন তিনি। অথচ তখন স্মিথকে বরণ করতে বাউন্ডারি লাইনের বাইরে মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম ১০ হাজার রান করা অ্যালান বোর্ডার। তার পাশ দিয়েই হতাশায় মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়েন স্মিথ।
দ্বিতীয় ইনিংসে কাজটা আরও সোজা ছিল তার জন্য। দরকার মোটে ৫ রান। একে একে চারটা সিঙেলও নিয়ে ফেললেন তিনি। ফের বাউন্ডারি লাইনের বাইরে হাজির বোর্ডার। এবারও হতাশ করলেন স্মিথ। প্রসিধ কৃষ্ণার হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা বলে ক্যাচ দিলেন গালিতে।
ক্রিকেটে নার্ভাস নাইন্টি একটা অতিপরিচিত ব্যাপার। শচীন টেন্ডুলকার তো নব্বইয়ে আউট হওয়াকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ৯,৯৯০ এর ঘরে আউট হওয়া বিরলই বটে। টেস্ট ক্রিকেটে ১০ হাজার রানই অবশ্য করতে পেরেছেন মোটে ১৪জন। তাদের মধ্যে তিনজনের আছে এই নার্ভাস ৯,৯৯০ এর অভিজ্ঞতা। যাদের মধ্যে একজন আবার স্মিথের মতোই ৯,৯৯৯ রানে আটকেছিলেন।
টেস্ট ক্রিকেটে ৯.৯৯০ এর ঘরে আটকানো প্রথম নামটা ব্রায়ান লারার। প্রিন্স অব ত্রিনিদাদ খ্যাত লারা ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এজবাস্টন টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ১০ হাজার রান থেকে ২০ রান দূরে ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ইংলিশ অফস্পিনার অ্যাশলে জাইলস ১৩ রানে ফেরান তাকে। অর্থাৎ লারা থামেন ১০ হাজার রান থেকে মোটে ৭ রান দূরে।
পরের টেস্টটি ছিল ওল্ড ট্রাফোর্ডে। প্রথম ইনিংসে অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের বলে লারা আউট হন রানের খাতা খোলার আগে। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে অপেক্ষার অবসান হয়। দ্বিতীয় ঘটনাটি মাহেলা জয়াবর্ধনের। ২০১১ সালে এই লঙ্কান কিংবদন্তি সেঞ্চুরিয়নে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলতে নামেন ৯৯৮৪ রান নিয়ে। জয়াবর্ধনে সেই টেস্টে আটকে যান ৯,৯৯৯ রানে। তবে স্মিথের চেয়ে তার দুঃখটা আরও বড়। জয়াবর্ধনে যে রানআউট হয়েছিলেন। ডারবানে বক্সিং ডে টেস্টে ঘুচেছিল সেই আক্ষেপ।
তৃতীয় নামটি অ্যালিস্টার কুকের। ইংল্যান্ডের এই কিংবদন্তি ২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চেষ্টার লি টেস্টে খেলতে নেমেছিলেন ১৯ রান দূরে থেকে। কিন্তু প্রথম ইনিংসে ১৫ রানে আউট হয়ে যান তিনি। তবে বাকিদের মতো আরেক টেস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়নি কুককে। পরের ইনিংসেই ৪ মেরে ১০ হাজারি ক্লাবে পৌঁছান তিনি।
স্মিথের অপেক্ষা অবশ্য বাকিদের চেয়েও বেশি। অস্ট্রেলিয়ার আগামী সিরিজ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাকে। এই জানুয়ারিতেই শ্রীলঙ্কা সফরে যাবে অস্ট্রেলিয়া। আগামী ২৯ জানুয়ারি গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া। সেই টেস্টেই মাইলফলক ছোঁয়ার সুযোগ থাকবে স্মিথের। সেই টেস্টে ব্যর্থ হলে সুযোগ থাকবে ৬ ফেব্রুয়ারি মাঠে গড়ানো সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও। ঘরের মাঠে মাইলফলক স্পর্শ করার সুযোগ মিসের আক্ষেপ স্মিথ পূরণ করতে পারেন অধিনায়কের বেশে। লঙ্কায় যে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কত্ব স্মিথের কাঁধেই।
কিউএনবি/আয়শা/০৫ জানুয়ারী ২০২৫,/রাত ১০:২৩