ডেস্ক নিউজ : মুফতি জাকারিয়া হারুন
পুরো নাম: আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ছোটবেলা থেকেই জ্ঞানের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গ লাভ করেন এবং সাহাবিদের মধ্যে সর্বোচ্চ জ্ঞানী হওয়ার জন্য পরিচিত হন। তিনি প্রায় ১৬৬০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
হে আল্লাহ! তুমি তাকে কোরআনের জ্ঞান দাও এবং তাকে দ্বীনের গভীরতা দান কর।
এ দোয়া তার জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে অসাধারণ ভূমিকা পালন করে।
খলিফা আলী (রা.)-এর সময় তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। বসরায় থাকাকালীন তিনি ইসলামের জ্ঞান প্রচারে অসাধারণ অবদান রাখেন।
তাফসির শাস্ত্রে ইবনে আব্বাস (রা.)-এর অবদান অসামান্য। তিনি কোরআনের অর্থ বোঝা, ব্যাখ্যা করা এবং প্রচারে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে তাফসির শাস্ত্রের অগ্রদূত বলা হয়। তার ব্যাখ্যাগুলো তাবেয়ি এবং পরবর্তী তাফসিরকারীদের জন্য মূলভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
তিনি প্রতিটি আয়াতের নাজিলের প্রেক্ষাপট, কারণ এবং সময় সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখতেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি বিভিন্ন যুদ্ধ, সামাজিক ঘটনা এবং নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত আয়াত ব্যাখ্যা করতেন।
ইবনে আব্বাস (রা.) তাফসিরের ব্যাখ্যায় বিভিন্ন স্তর ব্যবহার করতেন
তার ছাত্ররা (যেমন, মুজাহিদ, ইকরিমা, সাঈদ ইবনে জুবাইর) পরবর্তী প্রজন্মের তাফসিরকারীদের মধ্যে অন্যতম। তিনি বসরায় বসে তাফসির শেখাতেন এবং তার তাফসির সমগ্র ইসলামি জগতে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি তাফসিরের ক্ষেত্রে কোনো অতিরঞ্জন বা ভুল তথ্য দেওয়া পছন্দ করতেন না। তার তাফসির রসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে হতো। প্রসিদ্ধ তাফসির ব্যাখ্যা-
وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا (সুরা তহা: ১১৪)
তিনি ব্যাখ্যা করেন,
এটি এমন একটি দোয়া, যা জ্ঞান অন্বেষণের জন্য প্রতিটি মুসলমানের করণীয়।
فَسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ (সুরা নাহল: ৪৩)
তিনি ব্যাখ্যা করেন,
এখানে আহলুল জিকির বলতে নবী, আলেম, এবং জ্ঞানীদের বোঝানো হয়েছে।
সুরা নাস-এর তাফসির তিনি বলেন,
এই সুরা মানুষের অন্তরের শয়তানি প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার দোয়া।
তাফসিরের মৌলিক ভিত্তি ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ব্যাখ্যাগুলো পরবর্তী তাফসির রচনার ভিত্তি গড়ে দেয়।
তার তাফসির বর্ণনা পরবর্তী অনেক তাফসির গ্রন্থে (যেমন, ইবনে কাসিরের তাফসির) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
তার ছাত্ররা ইসলামি জগতে তাফসিরের জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়, যা শাস্ত্রের প্রসারে সহায়ক হয়।
কিউএনবি/আয়শা/০৬ ডিসেম্বর ২০২৪,/বিকাল ৩:৪০