সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর জীবনী ও তাফসির শাস্ত্রে অবদান

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ১৩৯ Time View

ডেস্ক নিউজ : মুফতি জাকারিয়া হারুন

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

পুরো নাম: আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব।

উপাধি: তুরজুমানুল কোরআন (কোরআনের অনুবাদক) এবং হিবরুল উম্মাহ (উম্মাহর জ্ঞানী)।
জন্ম: ৬১৯ খ্রিস্টাব্দে, মক্কায়।
মাতা: উম্মে ফাদল লুবাবা বিনতে হারিস।
ইসলাম গ্রহণ: শিশুকালেই ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চাচাতো ভাই এবং ঘনিষ্ঠ সাহাবি।
মৃত্যু: ৬৮৬ খ্রিস্টাব্দে (৬৮ হিজরি), তায়েফে।

জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ছোটবেলা থেকেই জ্ঞানের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গ লাভ করেন এবং সাহাবিদের মধ্যে সর্বোচ্চ জ্ঞানী হওয়ার জন্য পরিচিত হন। তিনি প্রায় ১৬৬০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।

নবীজির দোয়া 
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য দোয়া করেছেন,

হে আল্লাহ! তুমি তাকে কোরআনের জ্ঞান দাও এবং তাকে দ্বীনের গভীরতা দান কর। 

এ দোয়া তার জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে অসাধারণ ভূমিকা পালন করে।

দ্বীন প্রচারে ভূমিকা

খলিফা আলী (রা.)-এর সময় তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। বসরায় থাকাকালীন তিনি ইসলামের জ্ঞান প্রচারে অসাধারণ অবদান রাখেন। 

তাফসির শাস্ত্রে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর অবদান

তাফসির শাস্ত্রে ইবনে আব্বাস (রা.)-এর অবদান অসামান্য। তিনি কোরআনের অর্থ বোঝা, ব্যাখ্যা করা এবং প্রচারে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।

তাফসির শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপন

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে তাফসির শাস্ত্রের অগ্রদূত বলা হয়। তার ব্যাখ্যাগুলো তাবেয়ি এবং পরবর্তী তাফসিরকারীদের জন্য মূলভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

কোরআনের প্রেক্ষাপট এবং নাজিলের কারণ (আসবাবুন নুজুল)

তিনি প্রতিটি আয়াতের নাজিলের প্রেক্ষাপট, কারণ এবং সময় সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখতেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি বিভিন্ন যুদ্ধ, সামাজিক ঘটনা এবং নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত আয়াত ব্যাখ্যা করতেন।

তাফসিরের বিভিন্ন স্তর

ইবনে আব্বাস (রা.) তাফসিরের ব্যাখ্যায় বিভিন্ন স্তর ব্যবহার করতেন

ভাষাগত ব্যাখ্যা: কোরআনের শব্দের অর্থ এবং ব্যাকরণ বিশ্লেষণ।
প্রেক্ষাপট: আয়াতের নাজিলের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা।
দূরদর্শী ব্যাখ্যা: ভবিষ্যতের জন্য আয়াতের শিক্ষাগুলো বিশ্লেষণ করা।
কোরআনের কাব্যিক এবং ভাষাগত সৌন্দর্য বিশ্লেষণ
তিনি কোরআনের ভাষার অলঙ্কারিক দিকগুলোর ব্যাখ্যা দিতেন। উদাহরণ: সূরা আদিয়াত-এর শপথের আয়াতগুলো নিয়ে তার গভীর ভাষাগত বিশ্লেষণ প্রসিদ্ধ।

ছাত্র ও তাফসির প্রচার

তার ছাত্ররা (যেমন, মুজাহিদ, ইকরিমা, সাঈদ ইবনে জুবাইর) পরবর্তী প্রজন্মের তাফসিরকারীদের মধ্যে অন্যতম। তিনি বসরায় বসে তাফসির শেখাতেন এবং তার তাফসির সমগ্র ইসলামি জগতে ছড়িয়ে পড়ে।

তাফসিরের নির্ভুলতা

তিনি তাফসিরের ক্ষেত্রে কোনো অতিরঞ্জন বা ভুল তথ্য দেওয়া পছন্দ করতেন না। তার তাফসির রসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে হতো। প্রসিদ্ধ তাফসির ব্যাখ্যা-

وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا (সুরা তহা: ১১৪)

তিনি ব্যাখ্যা করেন,

এটি এমন একটি দোয়া, যা জ্ঞান অন্বেষণের জন্য প্রতিটি মুসলমানের করণীয়।

فَسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ (সুরা নাহল: ৪৩)

তিনি ব্যাখ্যা করেন, 

এখানে আহলুল জিকির বলতে নবী, আলেম, এবং জ্ঞানীদের বোঝানো হয়েছে। 

সুরা নাস-এর তাফসির তিনি বলেন, 

এই সুরা মানুষের অন্তরের শয়তানি প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার দোয়া। 

তাফসির শাস্ত্রে তার অবদানের প্রভাব

তাফসিরের মৌলিক ভিত্তি ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ব্যাখ্যাগুলো পরবর্তী তাফসির রচনার ভিত্তি গড়ে দেয়।

তাফসির শাস্ত্রের উন্নয়ন তিনি তাফসিরের ক্ষেত্রে ভাষাগত বিশুদ্ধতা, প্রেক্ষাপট, এবং সুন্নাহর সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

তাফসির গ্রন্থ প্রণয়ন

তার তাফসির বর্ণনা পরবর্তী অনেক তাফসির গ্রন্থে (যেমন, ইবনে কাসিরের তাফসির) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

ছাত্রদের মাধ্যমে প্রসার

তার ছাত্ররা ইসলামি জগতে তাফসিরের জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়, যা শাস্ত্রের প্রসারে সহায়ক হয়।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৬ ডিসেম্বর ২০২৪,/বিকাল ৩:৪০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

November 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit