শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় আজ

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৭৮ Time View

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টের রায় হবে আজ রোববার (১ ডিসেম্বর)।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের রোববারের কার্যতালিকায় রায়ের জন্য মামলা দুটি (ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিল) ৫৪ ও ৫৫ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

এর আগে ২১ নভেম্বর হাইকোর্টের একই বেঞ্চ আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি গ্রহণ শেষ করেন। সেদিন আদালত মামলা দুটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় রায়ের জন্য মামলা দুটি আদালতের রোববারের কার্যতালিকায় উঠল।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মামলা দুটি রোববার রায়ের জন্য এসেছে। কার্যতালিকায় ৫৪ ও ৫৫ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে। এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মনে করেন, ন্যায়বিচার হলে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সব আসামি উচ্চ আদালতে খালাস পাবেন।

আইনজীবীরা জানান, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় করা মামলায় (হত্যা ও বিস্ফোরক মামলা) ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ রায় দেন। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন ও ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দেন বিচারিক আদালত। রায়ের পর ২০১৮ সালে বিচারিক আদালতের রায়সহ মামলা দুটির নথিপত্র হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়। এটি সংশ্লিষ্ট শাখায় ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসাবে নথিভুক্ত হয়।

আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, কোনো ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এটি ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসাবে পরিচিত। পাশাপাশি দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের জেল আপিল, নিয়মিত আপিল ও বিবিধ আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ডেথ রেফারেন্স এবং এসব আপিল ও আবেদনের ওপর সাধারণত একসঙ্গে শুনানি হয়ে থাকে।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল-জেল আপিলের শুনানি শুরু হয় ২০২২ সালের ৪ ডিসেম্বর। গত দেড় বছর বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ মামলার শুনানি হয়েছে। ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। তার ক্ষমতাচ্যুতির পর বিচার বিভাগেও পরিবর্তন আসে।

প্রধান বিচারপতির পদ থেকে ওবায়দুল হাসানের পদত্যাগের পর আপিল বিভাগের আরও পাঁচ বিচারপতি পদত্যাগ করেন। নতুন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ গত ১১, ১২ ও ১৫ আগস্ট ৫৪টি হাইকোর্ট বেঞ্চ পুনর্গঠন করেন। বেঞ্চ পুনর্গঠনের পর মামলাটি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চে আসে। এই বেঞ্চে মামলার ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের ওপর গত ৩১ অক্টোবর শুনানি শুরু হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জসিম সরকার, রাসেল আহমেদ এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল লাবনী আক্তার। আদালতে লুৎফুজ্জামান বাবর ও আবদুস সালাম পিন্টুসহ দণ্ডিত বেশ কয়েকজনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এসএম শাহজাহান। তিনজন দণ্ডিতের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

কিউএনবি/অনিমা/০১ ডিসেম্বর ২০২৪,/সকাল ১০:৪০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit