রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আগামী মাসেই শুরু হবে বাংলা কিউআরে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন: গভর্নর উন্নয়নে গুরুত্ব পাবে সব উপজেলা: এলজিআরডি মন্ত্রী ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর রোনালদোকে নিষিদ্ধ করল পর্তুগাল হরমুজ খুললেও কাটছে না জ্বালানি সংকট, কবে কমবে পেট্রল-ডিজেলের দাম? স্ত্রীর থেকে আলাদা ৩৫ বছর, কেন আইনি বিচ্ছেদে যাননি নানা পাটেকর? ‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই ভারতের আসল বস’, আম্বানিকে খোঁচা মাস্কের ১৭০ কি. মি বেগে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানল হ্যারিকেন ইসাইয়াস ‘কখনো ক্ষমা চাননি’, নানা পাটেকরকে নিয়ে ফের মুখ খুললেন তনুশ্রী ‘মিস্টার মোদি যা খুশি করুন, আপনাকে আমরা ঘিরে ফেলছি, আমরা পেছাব না’

পেনশন কর্মসূচি ‘প্রত্যয়’ নিয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও ব্যখ্যা

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২ জুলাই, ২০২৪
  • ৫৯ Time View

ডেস্ক নিউজ : পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা যেহেতু ৬৫ বছর থেকে অবসরে যান, তাই প্রত্যয় কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর তারা ৬৫ বছর থেকেই আজীবন পেনশন পাবেন। এ জন্য আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন করবে সরকার। একই সঙ্গে গত ৩০ জুনের আগে চাকরিতে যোগদানকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নতুন স্কিমে যুক্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। মঙ্গলবার ‘প্রত্যয় সম্পর্কে কিছু বিষয়ে অধিকতর স্পষ্টিকরণ’শীর্ষক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলেছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।

এক বার্তায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ বলেছে, সমাজের সর্বস্থরের মানুষকে একটি টেকসই পেনশন ব্যবস্থায় আনার লক্ষ্য নিয়েই স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত এবং তার অঙ্গসংগঠনের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ‘প্রত্যয়’ স্কিম চালু করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশে ৪০৩টি স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৯০টির মত প্রতিষ্ঠানে পেনশন ব্যবস্থা চালু আছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড (সিপিএফ) এর আওতাধীন। সিপিএফ সুবিধার আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মচারীরা এককালীন আনুতোষিক পান, পেনশন পান না।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারি, স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের বিপুল সংখ্যক জনসাধারণ একটি সুগঠিত পেনশনের আওতার বাইরে থাকায় সরকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত যেসব শিক্ষক/কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিতে আছেন, তারা আগের মত সব পেনশন সুবিধা পাবেন।

বর্তমানে সরকারি পেনশনে ‘আনফান্ডেড ডিফাইন্ড বেনিফিট’ সিস্টেমের পেনশন ব্যবস্থা প্রচলিত আছে। ফলে পেনশনের যাবতীয় ব্যয় প্রয়োজন অনুযায়ী জাতীয় বাজেট বরাদ্দ থেকে মেটানো হয়। ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ‘ফান্ডেড ডিফাইন্ড কনট্রিবিউটরি’ পদ্ধতির পেনশন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। সে কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বেতন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে মাসিক জমার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রত্যয় স্কিমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর প্রাপ্ত মূল বেতনের ১০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা, যেটা কম হয়, তা কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বেতন থেকে কেটে রাখবে এবং সমপরিমাণ অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা দেবে। সেই টাকা প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্পাস হিসাবে জমা করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, ‘আনফান্ডেড ডিফাইন্ড বেনিফিট’ সিস্টেমের পেনশন ব্যবস্থায় সরকারের আর্থিক সংশ্লেষ ক্রমাগত বৃদ্ধি পায় যা দীর্ঘমেয়াদে কোনক্রমেই টেকসই ব্যবস্থা নয়। অপরদিকে ‘ফান্ডেড ডিফাইন্ড কনট্রিবিউটরি’ পেনশন সিস্টেমে প্রাপ্ত কন্ট্রিবিউশন এবং বিনিয়োগ মুনাফার ভিত্তিতে একটি ফান্ড গঠিত হয় বলে দীর্ঘমেয়াদে এটি একটি টেকসই পেনশন ব্যবস্থা। ভারতেও ২০০৪ সাল থেকে ফান্ডেড কন্ট্রিবিউটরি পেনশন ব্যবস্থা চালু আছে।

নতুন পেনশন ব্যবস্থাপনা প্রবর্তনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে আনা সম্ভব হবে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ জানায়, কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদনের পর নিজ বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে একই পদে বা উচ্চতর কোনো পদে নিয়োগ পেলে তিনি সার্ভিস প্রটেকশন ও পে প্রটেকশন পান বলে সেটি নতুন নিয়োগ হিসাবে গণ্য করা হয় না। সেক্ষেত্রে তার বিদ্যমান পেনশন সুবিধার আওতায় থাকার সুযোগ থাকবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মচারী যারা ২০২৪ সালের ১ জুলাই এবং তার পরে নতুন নিয়োগ পাবেন, কেবল তারা প্রত্যয় স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হবেন।

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইনে ৬০ বছর বয়স থেকে পেনশনপ্রাপ্তির কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ৬৫ বছরে অবসরে যাবেন বলে তখন থেকে আজীবন পেনশন পাবেন। এক্ষেত্রে সরকার আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন করবে। লাম্পগ্রান্ট, পিআরএল ও প্রভিডেন্ট ফান্ড বর্তমান ব্যবস্থায় বহাল থাকবে।

কন্ট্রিবিউটরি পেনশন সিস্টেমে অংশগ্রহণকারীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এককালীন নয় বরং মাসিক পেনশনের যুক্তিসংগত পরিমাণ নির্ধারণ করাই অগ্রগণ্য। সে কারণে এক্ষেত্রে আনুতোষিকের ব্যবস্থা রাখা হয়নি বরং বিদ্যমান মাসিক পেনশনের কয়েকগুণ বেশি মাসিক পেনশন দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রত্যয় স্কিমে মাসিক ৫০০০ টাকা বেতন থেকে কাটা হলে, একই পরিমাণ অর্থ প্রতিষ্ঠান জমা করলে ৩০ বছর পর একজন পেনশনার প্রতি মাসে ১,২৪,৬৬০ টাকা হারে আজীবন পেনশন পাবেন। তার নিজ আয়ের মোট জমা অর্থের পরিমাণ হবে ১৮ লাখ টাকা। আর তিনি যদি ১৫ বছর ধরে পেনশন পান, সেক্ষেত্রে তার মোট প্রাপ্তি হবে ২ কোটি ২৪ লক্ষ ৩৮ হাজার ৮০০ টাকা যা তার জমার প্রায় ১২ দশমিক ৫ গুন। পেনশনার পেনশনে যাবার পর ৩০ বছর জীবিত থাকলে তার জমার প্রায় ২৫ গুণ অর্থ পেনশন পাবেন।

বিদ্যমান ব্যবস্থায় পেনশনার আজীবন পেনশন পান। তার অবর্তমানে পেনশনারের স্পাউস এবং প্রতিবন্ধী সন্তান আজীবন পেনশন পান। নতুন পেনশন ব্যবস্থায়ও পেনশনার আজীবন পেনশন পাবেন। পেনশনারের অবর্তমানে তার স্পাউস বা নমিনি পেনশনারের পেনশন শুরুর তারিখ থেকে ১৫ বছর হিসাবে যে সময় অবশিষ্ট থাকবে সে পর্যন্ত পেনশন প্রাপ্য হবেন। যেমন, একজন অবসরে যাবার পর ৫ বছর পেনশন পেয়ে তারপর মারা গেলে, তার স্পাউস বা নমিনি আরো ১০ বছর পেনশন পাবেন।

কিউএনবি/অনিমা/০২ জুলাই ২০২৪,/সন্ধ্যা ৭:০১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit