শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন

বসুন্ধরা কিংসের ট্রেবল জয়ের ম্যাচ

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২২ মে, ২০২৪
  • ৬১ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক : পেশাদার ফুটবলে অভিষেকের পর ঘরোয়া ফুটবলে রেকর্ডের হিমালয় গড়ছে যেন বসুন্ধরা কিংস। ইতিহাস লেখা ও শুধুই রেকর্ডের ছড়াছড়ি। ১৯৪৮ সালে প্রথম বিভাগের মাধ্যমে ঘরোয়া আসর শুরু হওয়ার পর যা কোনো ক্লাবের পক্ষে সম্ভব হয়নি। ২০১৮-১৯ মৌসুমে অভিষেকের পর বসুন্ধরা কিংস স্বল্প সময়ের মধ্যে যে রেকর্ড গড়েছে তা বিশ্বের অনেক খ্যাতনামা দলের পক্ষেও সম্ভব হয়নি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে ম্যানচেস্টার সিটিই প্রথম দল হিসেবে এবার টানা চারবার শিরোপা জিতল। অথচ বসুন্ধরা কিংস অভিষেকের পাঁচ মৌসুমের মধ্যে টানা পাঁচবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ জিতে বিরল রেকর্ড গড়েছে।

শুধু লিগ নয় পাঁচ মৌসুমে সব মিলিয়ে ১০টি শিরোপার ট্রফি ঘরে তুলেছে কিংস। তিনটি স্বাধীনতা কাপ ও দুটি ফেডারেশন কাপ। আজ দেশের ফুটবল কিং বসুন্ধরা কিংস চতুর্থবারের মতো জনপ্রিয় আসর ফেডারেশন কাপের ফাইনাল খেলতে নামবে। প্রতিপক্ষ ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডান। ময়মনসিংহ রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে ফাইনাল শুরু হবে বিকাল ৩টায়। নির্ধারিত সময় ড্র থাকলে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে ম্যাচ গড়াবে। এখানেও ফল নিষ্পত্তি না হলে টাইব্রেকারে ফলাফল নির্ধারিত হবে।

দুই ক্লাব ফাইনালে দুই লক্ষ্য নিয়ে লড়বে। কিংসের টার্গেট স্বাধীনতা কাপ, লিগের পর ফেডারেশন কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ট্রেবল জেতা। রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে চললেও কিংস এখনো এক মৌসুমে তিন আসরে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। ঢাকা মোহামোডান ও শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের এ কৃতিত্ব রয়েছে। অবশ্য ওই সময় কিংস ফুটবলে দলই গড়েনি। আজ চ্যাম্পিয়ন হলে অভিষেকের পাঁচ মৌসুমের মধ্যে ট্রেবল জেতাটাও হবে অনন্য রেকর্ড।

বসুন্ধরার চোখ ট্রেবলে। অন্যদিকে মোহামেডানের মৌসুমে একটা ট্রফিই ঘরে তোলা। স্বাধীনতা কাপে কিংসের কাছে হেরে শিরোপা জিততে পারেনি সাদা-কালোরা। লিগও হাতছাড়া হয়ে গেছে। ফেডারেশন কাপের ট্রফি ঘরে তুললে তা হবে মোহামেডানের জন্য বড় প্রাপ্তি। কেননা গতবারের মতো এবারও আবাহনী ট্রফিশূন্য। সেখানে মোহামেডান গতবার ফেডারেশন কাপ জিতেছে এবারও তা ধরে রাখতে চায়। কিন্তু তা কি সম্ভব? কেননা প্রতিপক্ষ দলটা যে ভয়ংকর শক্তিশালী বসুন্ধরা কিংস। চলতি মৌসুমে দুই দলের এটি হবে চতুর্থ দেখা। স্বাধীনতা কাপ ফাইনাল ও পেশাদার লিগে দুই লেগে তারা মুখোমুখি হয়েছিল। এর মধ্যে লিগের প্রথম লেগে মোহামেডান হারায় কিংসকে। স্বাধীনতা কাপ ও দ্বিতীয় লেগে কিংসের জয়। দুটোতেই ব্যবধান ছিল ২-১।

শক্তির বিচারে কিংস এগিয়ে থাকলেও মোহামেডান যে পারবে না একথা কোনোভাবেই বলা যাবে না। গত ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে কিংসকে হারিয়েই    মোহামেডান ফাইনালে জায়গা করে নেয়। আর যেভাবে শিরোপা জিতেছিল তা যেন রূপকথাকেও হার মানায়। সুতরাং প্রতিপক্ষ দলটা মোহামেডান বলেই সব পজিশনে সতর্ক থাকবে কিংস। মৌসুমে মোহামেডানের কাছে এক হার ও শেখ রাসেল আর পুলিশের বিপক্ষে ড্র করলেও অস্কারের শিষ্যরা যে ফর্মে রয়েছেন, তা ধরে রাখতে পারলে ট্রেবল জেতাটা কঠিন হবে না। তিন ব্রাজিলিয়ান- অধিনায়ক রবসন, মিগেল, ডরিয়েলটন, সেই সঙ্গে উজবেক গুফুরভ ছন্দে তো আছেনই। রাকিব, সোহেল রানা, বিশ্বজিত, তপুরাও দুর্দান্ত খেলছেন। সেরা একাদশে শেখ মোরসালিন থাকলে তিনিও জ্বলে উঠতে পারেন।

সবমিলিয়ে ম্যাচে কিংসকে ফেবারিট বলাটা ভুলও হবে না। তবে ফাইনালে কাউকে ফেবারিট বলাটা বেমানান এটাও ঠিক। মোহামেডান লিগে হঠাৎ করে ছন্দ হারিয়েছে। তাই বলে এটা ভাবাটা ঠিক হবে না আজ ফাইনালে মøান থাকবে। দিয়াবাতের কথা তো মনে আছে, তিনি গতবার ফাইনালে আবাহনীর বিপক্ষে কোন রূপ ধারণ করেছিলেন? তার জাদু এখনো চোখে ভাসে। তিনি তো আজও অধিনায়ক হয়ে মাঠে নামবেন। তাকে নিয়ে তো আলাদা সতর্ক থাকতেই হবে কিংসকে। উজবেকিস্তানের মোজাফর মোজাফফরও কম যান না। এবারের লিগে যে কজন সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করছেন তাদের মধ্যে অন্যতম। সানডেও জ্বলে উঠছেন। স্থানীয়দের মধ্যে মুরাদ, মেহেদী, শাহারিয়ার, জাফর ইকবাল, বাললুও ভালো খেলছেন।

উল্লেখ্য, ফেডারেশন কাপে মোহামেডান ১১ ও বসুন্ধরা কিংস দুই বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সেমিফাইনালে বাদ পড়া আবাহনী সর্বোচ্চ ১২ বার শিরোপা জিতেছে।

ফাইনালে প্রতিপক্ষ মোহামেডান

১৯৫৯ সালে ঢাকা মোহামেডান প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগ,  স্বাধীনতা কাপ, আগা খান গোল্ড কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথম ট্রেবল শিরোপা জেতে। এর পর ২০০২ সালে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, জাতীয় লিগ ও ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় দ্বিতীয়বার ট্রেবল জেতে। ২০১২-১৩ মৌসুমে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র পেশাদার লিগ, স্বাধীনতা কাপ ও ফেডারেশন কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ট্রেবল জেতে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২২ মে ২০২৪,/সন্ধ্যা ৬:০০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit