বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নিজেদের অফিসকক্ষে আগুন লাগিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকদের ঘায়েল করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজলা পরিষদ নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী মো. মনির হোসেন ও তার কর্মী-সমর্থকরা এমন অভিযোগ করেছেন। তারা বলছেন, উপজেলার দুই স্থানে আগুনের নাটক সাজানো হয়েছে।
মো. মনির হোসেন বলেন, উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তন্তর বাজারে স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এবং আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের গাজীর বাজারে অবস্থিত পরিত্যক্ত একটি টিনশেড ঘরে স্থাপিত আনারস প্রতীকের প্রার্থী মুরাদ হোসেন ভূঁইয়ার নির্বাচনী কার্যালয়ে আজ রোববার গভীর রাতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরবর্তী দুটো স্থানে একই কায়দায় আগুন লাগানোর ফলে এটা যে নাটক তা আর বোঝার বাকি নেই জনগণের৷
এই প্রার্থীর অভিযোগ, নির্বাচনে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাকজিল খলিফা কাজল তার পছন্দের প্রার্থী মুরাদের পক্ষ নিয়ে তার লোকজনদের দিয়ে এসব নাশকতামূলক কর্মকান্ড করাচ্ছেন। আর এ ঘটনাকে পুঁজি করে মনির হোসেনের লোকজনকে হয়রানি করার পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদেরকেও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন৷
আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহনেয়াজ ভূঁইয়া বলেন, “গাজীর বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো নাটক। এটা পরিত্যক্ত একটা ঘর। আমি বিগত ২২ বছর ধরে এই ইউনিয়নে যুবলীগের রাজনীতি করছি। আমার কাছে মনে হয়েছে নির্বাচনটাকে বানচাল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এটা করা হচ্ছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী মাত্র দুইজন। এই এলাকার সংসদ সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। কিন্তু আখাউড়ার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে এবং পেশীশক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচনের মাঠে প্রভাব খাটাচ্ছেন।
ধরখার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চৌধুরী বলেন, ‘তন্তরে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে গভীর রাতে কে বা কারা ভেতর দিক থেকে আগুন লাগিয়ে দেয়। পুলিশ দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে আগুন নেভায়।’
প্রার্থী মো. মনির হোসেন বলেন, মুরাদ হোসেন ভূঁইয়া দলীয় প্রার্থী না হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের অফিসকে তার নির্বাচনী অফিস হিসেবে ব্যবহার করছেন। আখাউড়ার মেয়র ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা মুরাদ হোসেন ভূঁইয়াকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী তথা আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের প্রার্থী বলে প্রচার করছেন। যদিও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার নিজের কোন প্রার্থী নেই বলে গণমাধ্যমে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। তবু মেয়রের লোকেরা মুরাদকে আইনমন্ত্রীর প্রার্থী দাবি করে বিশেষ সুবিধা আদায় করার চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবী জানাই।
কিউএনবি/অনিমা/১৯ মে ২০২৪,/রাত ৮:১৮