রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শহর হারিয়ে বড় ধাক্কা খেল মিয়ানমারের জান্তা

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৪
  • ১০১ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তিন বছর আগে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখলকারী সামরিক শাসকরা সেদেশের বিদ্রোহীদের কাছে আরও একটি বড় পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে। এবার তাদের দখল থেকে থাইল্যান্ড সীমান্তের সাথে লাগোয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর বিদ্রোহীদের কাছে হাতছাড়া হয়েছে।

পূর্বসীমান্তের শহর মায়াওয়ারি শহরের কয়েকশো সৈন্য কারেন বিদ্রোহীদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। থাইল্যান্ডের সাথে মিয়ানমারের যেসব ব্যবসা-বাণিজ্য হয়, তার বেশিরভাগই এই সীমান্ত শহর দিয়ে হয়ে থাকে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অন্য বিদ্রোহী বাহিনীগুলোর সাথে মিলে এই শহরে হামলা চালিয়ে আসছিল কারেন বিদ্রোহীরা।

শুক্রবার কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন ঘোষণা করেছে যে, মায়াওয়ারি শহরের ১০ কিলোমিটার দূরে থানগানিয়াং শহরে অবস্থিত ব্যাটেলিয়নের আত্মসমর্পণ গ্রহণ করেছে।

কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, অনেক তরুণ যোদ্ধারা বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র দেখাচ্ছে, যা তারা সৈন্যদের কাছ থেকে জব্দ করেছে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক পরাজয়ের এটি সর্বশেষ উদাহরণ।

গত কয়েক মাসে চীন সীমান্ত সংলগ্ন শান রাজ্যের এলাকা এবং বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যের বিপুল এলাকা বিদ্রোহীদের কাছে হারিয়েছে সামরিক জান্তা।

হাজার হাজার সৈন্য এর মধ্যেই হয় নিহত হয়েছে অথবা আত্মসমর্পণ করেছে অথবা পালিয়ে গেছে। এর ফলে সেদেশের বাসিন্দাদের জন্য সামরিক বাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করেছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার।

মিয়ানমার ১৯৪৮ সালে স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন স্বশাসনের জন্য যুদ্ধ করে আসছে।

তবে নব্বইয়ের দশকে তারা সরকারি বাহিনীর কাছে বেশ কয়েকটি পরাজয়ের মুখোমুখি হয়। এরপর ২০১৫ সাল থেকে সরকারের সাথে তাদের একটি যুদ্ধবিরতি চলছে। কিন্তু ২০২১ সালে সামরিক বাহিনীর অভ্যুত্থানের পর সেই পরিস্থিতি বদলে যায়।

কারেন যোদ্ধারা ঘোষণা করে, অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি বাতিল হয়ে গেছে।

সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর, মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনের কাছাকাছি এবং থাই সীমান্তের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো যোগাযোগের মাধ্যম থাকা কারেন রাজ্যটি সরকারি বিরোধীদের কাছে সবচেয়ে পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

বিভিন্ন শহর থেকে আসা অনেক তরুণ যোদ্ধাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন। এই যোদ্ধারা সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ঘাটিতে নতুন করে হামলা শুরু করেছে।

সেই সাথে কারেন ন্যাশনালিস্ট ডিফেন্স ফোর্স এবং কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মির মতো অন্য বিদ্রোহী বাহিনীগুলোর সাথে মিলে যৌথ হামলা শুরু করেছে কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন।

থাই সীমান্ত সংলগ্ন প্রচারক ও জুয়ারি চক্রের অর্থায়নে শক্তিশালী মিলিশিয়া বাহিনী এতদিন ধরে সামরিক বাহিনীকে সমর্থন করে আসলেও এ বছরের শুরুর দিকে পক্ষবদল করেছে।

এরপর থেকে বিদ্রোহীদের পাল্লা অনেক ভারী হয়ে উঠেছে।

দেশের বহু এলাকায় যুদ্ধে বিপর্যস্ত মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী কারেন রাজ্যে নতুন করে সৈন্য পাঠাতে পারছে না। এর ফলে তাদের সীমান্তের সঙ্গে প্রধান সড়কের নিয়ন্ত্রণ হারাতে হয়েছে। পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে এখন বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান হামলা আরও বাড়িয়েছে সামরিক বাহিনী।

কারেন রাজ্যের এই যুদ্ধে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে।  

সূত্র : বিবিসি

কিউএনবি/অনিমা/০৭ এপ্রিল ২০২৪/দুপুর ১২:২৬

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit