লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক : বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য সচেতনদের বেশিরভাগই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও ওজন নিয়ন্ত্রণে বীজ জাতীয় খাবার পছন্দের তালিকায় রাখেন। তেমনই চিয়া ও তিসির (ফ্লাক্সসিড) বীজ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
চিয়া এবং তিসির বীজ হল ফাইবার, ম্যাগনেশিয়াম এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ। এ ছাড়া আকারে ছোট এবং হালকা স্বাদের কারণে যেকোনো খাবারের সাথে সহজেই এসব বীজ মেশানো যায়। যার কারণে বর্তমানে স্মুদি, সিরিয়াল এবং সালাদের মত খাবারের সাথে এসব বীজ জনপ্রিয় সংযোজন হয়ে উঠেছে।
চিয়া সিড মূলত মরুভূমিতে জন্মানো সালভিয়া উদ্ভিদের বীজ। এটি মধ্য আমেরিকার অনেক অংশে পাওয়া যায়। এটি সাধারণত শস্যের তালিকায় পড়লেও একে এক ধরণের ভেষজও বলা হয়। প্রাচীন অ্যাজটেক জাতির প্রধান খাদ্য তালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত বলে বিশেষজ্ঞরা দাবি করে থাকে। চিয়া সিড দেখতে অনেকটা তিলের দানার মতো।
তিসির বীজ বা ফ্ল্যাক্সসিড হল এক প্রকার ফাংশনাল ফুড ৷ এই বীজের উৎপত্তি মধ্যপ্রাচ্যে। এই বীজ চিয়া বীজের তুলনায় আকারে কিছুটা বড় ও চ্যাপ্টা হয়ে থাকে। সাধারণত সোনালি বা বাদামী রঙের হয় তিসির বীজ।
খেতে মচমচে এই বীজে শরীরের জন্য উপকারী লিগন্যানস, ফাইবার, প্রোটিন, আলফা লিনোলেনিক অ্যাসিড বা ওমেগা থ্রির মতো পলিআন স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। অন্যান্য খাবারের চেয়ে ৮০০ গুণ বেশি লিগন্যানস থাকায় এ বীজটিকে সুপারফুড বলা হয়।
চিয়া ও তিসির বীজ আকারে ছোট হলেও পুষ্টিগুণে ভরপুর দুটোই। এবং দুটোতেই সমান পুষ্টিগুণ রয়েছে। মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার (ইউএসডিএ) অনুসারে ১০ গ্রাম চিয়া বীজে অথবা ১০ গ্রাম তিসির বীজে নিম্নলিখিত পুষ্টিগুণ রয়েছে,
কার্বোহাইড্রেট ২.৯ গ্রাম, প্রোটিন ১.৮ গ্রাম, ফাইবার ২.৭ গ্রাম, স্বাস্থকর চর্বি ৪.২ গ্রাম, আয়রন ০.৫৭ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ৮১.৩, ক্যালসিয়াম ২৫.৫ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ৩৯.২ মিলিগ্রাম, জিংক ০.৪৩ মিলিগ্রাম, এনার্জি ৫৩.৪ ক্যালোরি।
পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ কোন বীজে উপকারিতা বেশি তা নিয়ে দ্বিধাদন্দে থাকেন অনেকেই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, পুষ্টিগুণের দিক থেকে দুইটি বীজই একদম সমান।
১. দুটোতেই আছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও আঁশ। যে কারণে এদেরকে ‘সুপার ফুড’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
২. দুই বীজই রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল করে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে।
৩. চিয়া এবং তিসির বীজে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতেও সাহায্য করে।
৪. প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করে। শরীরের শক্তি ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়।
৫. দুটো বীজেই দ্রবণীয় ফাইবার থাকে যা হজম শক্তিতে আরও উন্নত ও ভালো করার মাধ্যমে ওজন কমাতে সহায়তা করে।
৬. এসব বীজে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকেও ধীর করে দেয়, যা ব্লাড সুগার (রক্তের চিনি) স্বাভাবিক রাখে, ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমে।
৭. প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকায় হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় বিশেষ উপকারী।
৮. শরীর থেকে টক্সিন (বিষাক্ত পদার্থ) বের করে দিতে সাহায্য করে এবং কোলন পরিষ্কার রাখে। ফলে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।
কিউএনবি/অনিমা/২৮ জানুয়ারী ২০২৪,/রাত ১১:১৬