শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
টেস্ট ক্রিকেটে রুটের বিশ্বরেকর্ড সৌদি পাইপলাইনে হামলার ঘটনা প্রমাণ করে ‘ইরানকে বিশ্বাস করা যায় না’ সৌদির তেল পাইপলাইনে হামলার নিন্দায় ইরাক-কুয়েত-বাহরাইন রাষ্ট্র-প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নারীরা সমানভাবে সক্ষম: রিজভী জাতীয় ঈদগাহ এলাকা থেকে দুই মরদেহ উদ্ধার যুক্তরাষ্ট্রে জি-২০ সম্মেলনে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাত করতে চান জেলেনস্কি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মতিউর রহমান মোল্লা আর নেই ফরিদপুরে বস্তায় অজ্ঞাত ব্যক্তির ছয় টুকরো মরদেহ উদ্ধার মোখায় হুথিদের ওপর সৌদি সমর্থিত বাহিনীর ড্রোন হামলা, ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে যা জানা গেল ‘বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল ইরান’, স্বীকার নৌমন্ত্রীর

এক মুক্তি যোদ্ধার হৃদপিন্ডের বুক পকেটে ভালোবাসা।

লুৎফুন্নাহার রুমা,ময়মনসিংহ ।
  • Update Time : শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ১৮৮ Time View

লুৎফুন্নাহার রুমা,ময়মনসিংহ : হৃদপিন্ডের বুকপকেটে নিয়ে বেঁচে আছেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ৫২ বছর ধরে প্রেমিকার ছবি। মুন্সিগঞ্জ জেলার বীর মুক্তিযুদ্ধা তানেসউদ্দিন।জোহরা তার প্রেমিকার নাম। তিনি চিরকুমার হয়ে রয়ে গেলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়ে , বিয়ে কেন করেননি? প্রসঙ্গে তানেসউদ্দিন বলেছিলেন, ‘আমি এখনও স্বপ্নে জোহরাকে দেখি। জোহরার মতো সুন্দর কখনোই কাউকে লাগেনি।’ তানেসউদ্দিন আর জোহরার প্রেমের শুরু ১৯৬৪ সালে। তানেসউদ্দিন তখন ক্লাস টেনে পড়েন। আর জোহরা ক্লাস এইটে। কিশোর মনের চঞ্চলতা, ভীরুতা নিয়েই হয়েছিল প্রেমের শুরু।

জোহরার সঙ্গে দেখা করার জন্য প্রায়ই সন্ধ্যায় তানেসউদ্দিনকে মেঘনা নদী পার হতে হতো নৌকায় করে। দেখা করে আবার নৌকায়ই ফিরতেন তিনি। একদিন তাঁদের সন্ধ্যায় দেখা হওয়ার কথা। আগে থেকেই জোহরাকে খবর দেওয়া হয় আর তাই সন্ধ্যায় মেঘনা নদীর ওপারে জোহরা অপেক্ষা করছিলেন। এদিকে পারাপারের জন্য নেই কোনো নৌকা। কীভাবে ওপারে যাবেন তানেসউদ্দিন? উপায় না পেয়ে সাঁতরে মেঘনা পার হয়েছিলেন তিনি। ওপারে উঠে জোহরার সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সেই রাতে উত্তাল জোয়ারের মধ্যে সাচ্চা প্রেমিকের মতো ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। এমন পাগলামীর জন্য জোহরার বকাও খেয়েছিলেন।

তাতে কী? সম্পর্কের গভীরতাটুকু তো বোঝাতে পেরেছিলেন। একসময় ঘনিয়ে এল মুক্তিযুদ্ধের বছর। সাল ১৯৭১। চারদিকে যুদ্ধের ডাক। সেই ডাকে সাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তানেসউদ্দিন। এ কথা শুনে কেঁদে বুক ভাসিয়েছিলেন জোহরা। প্রথমে আপত্তি করেছিলেন, কিন্তু পরে সম্মতি দিয়েছিলেন ঠিকই। তানেসউদ্দিন জোহরাকে বলেছিলেন, ‘দেশ স্বাধীন করে তবেই তোমাকে বিয়ে করব। তুমি অপেক্ষা কইরো।’ বিদায় দেওয়ার সময় তানেসউদ্দিনকে খামে মোড়ানো একটি চিঠি দিয়েছিলেন জোহরা। খামের ভেতর ১০০ টাকার একটি নোট ছিল। আর চিঠিতে লেখা ছিল, ‘শুধু টাকাই রাইখো না, সঙ্গে আমার ভালোবাসাও রাইখো।

‘সেই থেকে যুদ্ধের শেষ অব্দি তিনি সেই চিঠি খানা বুক পকেটেই ভালোবাসা রেখে বিজয়ের স্বপ্ন লালন করেন। কলকাতা, আগরতলায় যুদ্ধ প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফেরেন তানেসউদ্দিন। লোকেশন রেকি করেন। মিটিং করেন। শত্রুপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এভাবেই মুক্তিযুদ্ধের দিন কাটতে থাকে তাঁর। জোহরা কেমন আছে? কী করছে? এসব ভেবে মাঝেমধ্যে আনমনা হয়ে পড়েন। স্টেনগান মাথায় ঠেকিয়ে ভবিষ্যতের কথা ভাবতেন তানেসউদ্দিন। দীর্ঘ নয়মাস পর যুদ্ধ শেষ হয়। যুদ্ধ শেষে তানেসউদ্দিন সর্বপ্রথম জোহরাদের বাড়িতে ছুটে যান।

গিয়ে জানতে পারেন, জোহরা ও তার বাবাকে পাকিস্তানি মিলিটারিরা হত্যা করেছেন। রণক্ষেত্রে বসেও যে মন পড়ে থাকতো মেঘনা নদীর কাছে, যেখানে উত্তাল স্রোত ঠেলে যেতে হয়। যেখানে চাঁদের আলোর নিচে জোহরার আঁচল বিছানো। সেই জোহরার স্থান হলো হৃদপিণ্ডের বুক পকেটে। ৫২ টা বছর মেয়েটি সেখানে আছে। সেখানেই থাকবে! তবুও ভালোবাসা ফুরালো না। আজীবন প্রেম বয়ে চলেছেন খাঁটি প্রেম

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৯ জানুয়ারী ২০২৪,/সন্ধ্যা ৬:২৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit