আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তোশাখানা মামলার রায় ইসলামাবাদ হাইকোর্ট স্থগিত করলেও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ফাঁস (সাইফার) করার অভিযোগে ফেঁসে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান। সাইফার মামলায় আপাতত আগামী দুই সপ্তাহ কারাগারেই থাকতে হবে পিটিআই প্রধানকে।
পাকিস্তানী গণমাধ্যম জিও টিভি বুধবার এক খবরে এ তথ্য জানায়।
এক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাটক জেলা কারাগারে অনুষ্ঠিত শুনানিতে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের অধীনে প্রতিষ্ঠিত একটি বিশেষ আদালত সাইফার মামলায় পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খানের বিচারিক রিমান্ড ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে। অর্থাৎ আগামী দুই সপ্তাহ কারাগারেই আটক থাকতে হবে ইমরানকে।
শুনানি পরিচালনা করতে কারাগারে আসা বিচারক আবুল হাসনাত জুলকারনাইন এই সিদ্ধান্ত জারি করেন।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে বুধবার অ্যাটক জেলা কারাগারেই সাইফার মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে প্রসিকিউটর জুলফিকার নাকভি ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এফআইএ) প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ইমরান খানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পিটিআইয়ের আইনজীবী সালমান সাফদার। পিটিআই প্রধানের আইনজীবী পরে উন্মুক্ত আদালতে মামলার শুনানির অনুরোধসহ গ্রেপ্তার পরবর্তী জামিনের আবেদন জানান।
গত বছর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে তাকে পদচ্যুত করার পিছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগে সরব হয়েছিলেন ইমরান খান। সে ব্যাপারেই একটি নথি তিনি গত বছরের এপ্রিলে প্রকাশ্য জনসভায় দেখিয়ে বলেন, এটা বিদেশি ষড়যন্ত্রের প্রমাণ। সেটা নিয়েই পরে গোপন তথ্য প্রকাশের (সাইফার) মামলা দায়ের হয় ইমরানের বিরুদ্ধে।
এর আগে মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) তোশাখানা মামলায় ইমরান খানকে তিন বছরের কারাদণ্ডের সাজা স্থগিত করে জামিন দেয় ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (আইএইচসি)। কিন্তু বিশেষ আদালত সাইফার মামলায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে আটক রাখার এবং ৩০ আগস্ট আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ দেয়।
ফলে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের রায় স্থগিতাদেশের পরেও অবিলম্বে জেল থেকে মুক্তি পাননি ইমরান খান।
কিউএনবি/অনিমা/৩০ অগাস্ট ২০২৩,/বিকাল ৪:১১