শার্শা(যশোর)সংবাদদাতা : বাংলাদেশের অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা বেনাপোল। বেনাপোল দেশের ব্যবসা বাণিজ্য এবং প্রতিবেশী দেশের সাথে যোগাযোগের অনেক বড় একটা মাধ্যম। আর এই প্রথম শ্রেনীর পৌর সভায় আগামী ১৭ জুলাই পৌর মেয়র পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই বেনাপোল পৌর সভার আসন্ন মেয়র পদে নির্বাচনে স্বতন্ত্র মোবাইল প্রতিকের মেয়র প্রার্থী আলহাজ¦ মফিজুর রহমান সজন তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে ১৫ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষনা করেছেন।
এ সময় তিনি বেনাপোল পৌরসভাকে আধনিকায়ন করতে উন্নয়ন এবং অগ্রগতির লক্ষ্য নিয়ে মানুরেষর কল্যাণে কাজ করতে চাই। তিনি শাসক হওয়ার দুঃসাহস না নিয়ে বেনাপোল পৌরসভার সেবক হিসেবে সকলের দোয়া, সহযোগিতা এবং সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন। তিনি ১৭ জুলাই বেনাপোল পৌর সভার সকল শ্রেনীর ভোটারের কাছে তাদেও মুল্যবান ভোট প্রর্থনা করেন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিজুর রহমান সজন বেনাপোল তার ব্যাবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে বেনাপোল ও শার্শা উপজেলার সকল শ্রেনীর সাংবাদিক ও সুধী শ্রেনীর ব্যাক্তিদের সাথে নিয়ে তিনি তার নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষনা করেন। নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ যোগ্য বিষয় হলো,পৌরসভার সার্বিক উন্নয়নে একটি দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সে অনুযায়ী বেনাপোলকে একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরী হিসাবে গড়ে তোলা।
বেনাপোল পৌরসভায় একটি আধুনিক ও উন্নতমানের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা। পৌরসভার বিগত দিনের অসমাপ্ত উন্নয়নমূলক কাজগুলো সম্পন্ন করা এবং নতুন রাস্তাঘাট, ব্রিজ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে বেনাপোলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা। পৌরসভার অভ্যন্তরে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের দ্বারা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা।
পৌরসভার নাগরিকদের এবং ব্যবসায়ীদের জন্য সহনীয় মাত্রায় পৌর কর নির্ধারন করা, সেবার মান বৃদ্ধি করা। জন্ম-মৃত্য সনদ, নাগরিকত্ব সনদ এবং সকল ধরনের ট্রেড লাইসেন্স ফি যৌক্তিক এবং সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা। শিক্ষিত তরুণদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে কর্মসংস্থানে সহায়তা করা। অসহায় ও বয়স্কদেরকে বয়স্ক ভাতার আওতায় নিয়ে আসা।
পৌরসভার পক্ষ থেকে একটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং বাৎসরিক “বেনাপোল পৌর ফুটবল টুর্নামেন্ট” এবং “বেনাপোল পৌর ক্রিকেট টুর্নামেন্টে”র আয়োজন করা। পৌরসভার পক্ষ থেকে পৌর এলাকার গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা করা এছাড়া এস.এস.সি, এইচ.এস.সি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ভালো ফলাফলকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করা। বেনাপোল পৌরসভাকে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসাবে গড়ে তুলতে কার্যকরি ভূমিকা গ্রহণ করা।
মেয়রের কার্যক্রমকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে “জনতার মুখোমুখি মেয়র” শীর্ষক কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকদের সমস্যা ও সেগুলো সমাধানের উপায় এবং পৌরসভা কেন্দ্রিক যেকোনো কার্যক্রম সম্পর্কে পৌরবাসীর সাথে মত বিনিময় করা। পৌর এলাকার মধ্যে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরন ও প্রত্যেকটি রাস্তায় বৈদ্যুতিক লাইট স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা। পৌর এলাকায় একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ পাবলিক লাইব্রেরি স্থাপন করা।
পৌর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সাধন, নাগরিকদের পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদান এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ ও ইভটিজিং বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, গরীব, অসহায় মানুষদের আর্থিক সহায়তার খাত বৃদ্ধি করা। পৌর এলাকায় মশক নিধন, রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা, যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনার স্তুপ বন্ধ করে একটি স্থায়ী বর্জ্য অপসারণ কেন্দ্র স্থাপন এবং পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট স্থাপনে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহন করা। রাজনৈতিক পরিচয় নয়, পৌরবাসী হিসাবে সকলকে তার প্রাপ্য সেবা নিশ্চিতকরণ।
সর্বোপরি বেনাপোল পৌরসভাকে একটি শতভাগ দুর্নীতি মুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তুলতে দৃঢ় ও অঙ্গীকারবদ্ধ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিজুর রহমান সজন বলেন নির্বাচনের এখনও ৩দিন বাকি। তারপরেও তিনি গত ৬/৭দিন ধরে বেনাপোলের কোন এলাকায় নির্বাচনি প্রচার চালাতে পারেনি। কারন বেনাপোল পৌর এলাকার সব স্থানে অচেনা অজানা বহিরাগতদের আনা গোনা রয়েছে চোখে পড়ারমত। তিনি বলেন নির্বাচন কালীন সময়ে তার প্রচার মাইক ভাংচুর, তার কর্মিদের মারপিক করা সহ বিভিন্ন বাধা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে লিখিত ও মৌখিক ভাবে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু তার তেমন কোন প্রতিকার তিনি পাননি বলে জানান।
তিনি সরকারের ঘোষনামত অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল প্রশাসনের নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের আহবান জানান। অন্যথায় বেনাপোলের পৌর নির্বাচন একটি কলঙ্ক জনক অধ্যায় সৃষ্ঠি হবে বলে জানান তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে মফিজুর রহমান সজন বলেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে নয় নির্বাচনের শেষ সময় পর্যন্ত জনগনের দেওয়া ভোটের ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। তিনি আরও বলেন ইভিএমে নিরপেক্ষ ভোটে প্রশাসন কতৃক যান্ত্রিক ভাবে ভোটের কারচুপি না হলে বিপুল ভোটে তার মোবাইল প্রতিকের বিজয় হবে বলে মনে করেন। তিনি নির্বাচনের দিন সকল পর্যবেক্ষক সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভুমিকা পালনের আহবান করে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাব জানিয়ে শেষ করেন।
কিউএনবি/আয়শা/১৩ জুলাই ২০২৩,/সন্ধ্যা ৬:৩৩