স্পোর্টস ডেস্ক : উইম্বলডনের গত আসরে খেলতে পারেননি রাশিয়া ও বেলারুশের কোনো টেনিস তারকা। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে সমর্থন করেছিল বেলারুশ। তারপর বৃটিশ সরকারের পরামর্শ নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে দুই দেশকে নিষিদ্ধ করেছিল অল ইংল্যান্ড লন টেনিস ক্লাব (এইএলটিসি)।
তবে এই বছরের উইম্বলডনের জন্য তুলে নেওয়া হয় সেই নিষেধাজ্ঞা। ফলে বছরের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্লামে খেলতে পারবেন রাশিয়া ও বেলারুশের খেলোয়াড়েরা।
এ বছর মার্চে ওই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় অল ইংল্যান্ড লন টেনিস ক্লাব (এইএলটিসি)। তবে সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় কিছু শর্তও। এর মধ্যে প্রধান শর্ত হচ্ছে, রাশিয়া ও বেলারুশের খেলোয়াড়েরা নিজ দেশের জাতীয় পতাকা ব্যবহার করতে পারবেন না, তাদের খেলতে হচ্ছে স্বতন্ত্র প্রতিযোগী হিসেবে। তারা নিজ দেশ থেকে কোনো অর্থ সাহায্য নিতে পারবেন না। ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের প্রতি কোনো ধরনের সমর্থন প্রকাশ করতে পারবেন না।
অল ইংল্যান্ড লন টেনিস ক্লাব (এইএলটিসি) তাদের বিবৃতিতে বলেছিল, ‘ব্রিটিশ সরকার, লন টেনিস অ্যাসোসিয়েশন এবং আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে শর্তগুলো যত্নসহকারে তৈরি করা হয়েছে। শর্তগুলো ব্রিটেনের ক্রীড়া সংস্থাগুলোর জন্য সরকারের নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’
গত বছর উইম্বলডনের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা টেনিস-বিশ্বেই বিতর্ক তৈরি করেছিল। খোদ নোভাক জোকোভিচ বলেছিলেন, ‘এভাবে খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ করা ভুল সিদ্ধান্ত’, রাফায়েল নাদাল ওই নিষেধাজ্ঞাকে বলছিলেন ‘খুবই অন্যায্য’।
নিষেধাজ্ঞার ফলে সেই সময় পুরুষদের টেনিস র্যাঙ্কিংয়ের ২ নম্বর খেলোয়াড় ও ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন রাশিয়ার দানিল মেদভেদেভ, মেয়েদের র্যাঙ্কিংয়ের ৪ নম্বর বেলারুশের আরিনা সাবালেঙ্কা খেলতে পারেননি উইম্বলডনে।
অল ইংল্যান্ড লন টেনিস ক্লাবের সিদ্ধান্তের পক্ষে-বিপক্ষেও নানা রকম কথা হচ্ছে। উইম্বলডনের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও মস্কোতে জন্ম নেওয়া কাজাখস্তানের ইয়েলেনা রিবাকিনা বলেছেন, ‘এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত।’ অন্যদিকে মেয়েদের টেনিসের ১ নম্বর খেলোয়াড় পোল্যান্ডের ইগা সিওনতেক বলেছেন, ‘রাশিয়া ও বেলারুশের খেলোয়াড়দের এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ক্রীড়াবিশ্ব আসলে ব্যর্থ হলো মস্কোকে একটা কঠোর বার্তা দিতে।
কিউএনবি/অনিমা/২৮ জুন ২০২৩,/সকাল ৮:১৪