আন্তর্জাতিক ডেস্ক : শুক্রবার রুশ সামরিক বাহিনী ও সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে রাশিয়ান ভাড়াটে সেনাদল ওয়াগনারের প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন।
তবে শনিবার সন্ধ্যার মধ্যেই বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর মধ্যস্থতায় বিদ্রোহ থেকে সরে আসে তারা। নিরাপত্তা প্রদান ও মামলা প্রত্যাহারের শর্ত সাপেক্ষে বেলারুশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ওয়াগনার প্রধান।
তবে সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন, ক্ষণস্থায়ী এই বিদ্রোহের পর ভবিষ্যৎ কি এই ভাড়াটে দলটির? এ ছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধেরই বা কি হবে?
এ বিষয়ে সিএনএনের সাথে শনিবার কথা বলেন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন সেনা মেজর মাইক লিয়ন্স। তিনি বলেন, ‘ওয়াগনার একটি স্বাধীন যুদ্ধ কোম্পানি। তাদের ভালো সুবিধা দেওয়া হত, ভালো খাবার পেত, আলাদা পোশাক ছিল তাদের। আমি মনে করি না যে তারা খুব সহজে রাশিয়ান সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হবে। সেখান থেকে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। তাই আমি মনে করি একটি সমস্যা হতে চলেছে।’
তিনি আরও বলেন, “হয়তো কেউ কেউ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। অনেক সেনা আবার প্রিগোজিনের প্রতি অনুগত, দেশের প্রতি নয়, মিশনের প্রতি নয়। আমি মনে করি আমাদের কাছে আরও অনেক প্রশ্ন আছে যার উত্তর এখনই নেই।”
কি হবে প্রিগোজিনের?
এদিকে বিদ্রোহ থেকে সরে বেলারুশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওয়াগনার প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা এখনো বিপদ শেষ হয়নি ওয়াগনার বসের।
পুতিন বিশ্বাসঘাতকদের ক্ষমা করেন না। এমনকি যদি পুতিন বলে, ‘প্রিগোজিন, তুমি বেলারুশে যাও, সে এখনও একজন বিশ্বাসঘাতক এবং আমি মনে করি পুতিন তাকে কখনই ক্ষমা করবেন না,” এমনটাই বলছিলেন মার্কিন বার্তা সংস্থা সিএনএনের সাবেক মস্কো ব্যুরো চিফ এবং রাশিয়ান বিষয়ক দীর্ঘদিনের বিশেষজ্ঞ জিল ডগার্টি।
জিল ডগার্টির মতে, পুতিনের জন্য প্রিগোশিন একটি হুমকি, তা তিনি যেখানেই থাকুন না কেন।
তিনি আরও বলেন, “এটা সম্ভব যে আমরা প্রিগোজিনকে “বেলারুশে নিহত হতে” দেখতে পাচ্ছি। তবে এটি মস্কোর জন্য একটি কঠিন সিদ্ধান্ত কারণ প্রিগোজিনের এখনো অনেক সমর্থন রয়েছে, সে যেখানেই থাকুক না কেন। তবে সে হুমকিস্বরূপ।”
প্রিগোশিনের বিদ্রোহের জেরে শনিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন পুতিন। তিনি তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, যা কিছু ঘটছে, তা বিশ্বাসঘাতকতা। এটি রুশ জনগণের পিঠে ছুরি চালানোর শামিল। সশস্ত্র বিদ্রোহের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়ার অঙ্গীকার করেন পুতিন।
ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কি?
এদিকে ওয়াগনার গ্রুপের বিদ্রোহের কারণে অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে ইউক্রেন যুদ্ধ। যদিও বিদ্রোহের মাঝেই ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
সিএনএন এর প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে এখনও অনেক কিছুই অস্পষ্ট রয়ে গেছে। বিদ্রোহের পর ওয়াগনার এবং ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে প্রিগোজিনের ভূমিকা কী হবে এবং তার সমস্ত যোদ্ধা রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সাথে চুক্তিবদ্ধ হবে কিনা তা এখনও স্পষ্ট করেনি রাশিয়া বা ওয়াগনার কেউই।
কিউএনবি/অনিমা/২৫ জুন ২০২৩,/বিকাল ৪:০৬