আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অধিকৃত পশ্চিম তীরে হাজার হাজার ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছে ইসরায়েল সরকার। যদিও পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ রয়েছে, তারপরও এমন পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির কট্টোর ডানপন্থী সরকার।
বার্তা সংস্থা দা গার্ডিয়ান জানায়, আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য ইসরায়েলের সুপ্রিম প্ল্যানিং কাউন্সিলের বৈঠকে আলোচ্যসূচিতেই রাখা হয়েছে এ বিষয়। যেখানে রয়েছে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে চার হাজার ৫৬০টি বসতি স্থাপনের অনুমোদনের পরিকল্পনা। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচকে এ বসতি স্থাপন দ্রুত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
যদিও চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এক হাজার ৩৩২টি হাউজিং ইউনিট। পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন ও ইসরায়েলের প্রভাব বিস্তৃতে কাজ চলবে বলে জানান ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী।
ইসরায়েলের এ পদক্ষেপে “গভীরভাবে উদ্বিগ্ন” বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ফিলিস্তিনের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ায় এমন সিদ্ধান্ত না নিতে ইসরায়েলকে বারবার অনুরোধ করেই আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া সমস্যা সমাধানে ইসরায়েলকে সংলাপে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
একটি বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নীতি হিসাবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন একতরফা পদক্ষেপের বিরোধিতা করে। এটি শান্তির পথে বাধা।”
এদিকে ইসরায়েলের এ সিদ্ধান্তে সোমবার ইসরায়েলের সাথে যৌথ অর্থনৈতিক কমিটির বৈঠক বয়কট জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থী দল হামাস এই পদক্ষেপের নিন্দা করে জানায়, “আমাদের ভূমিতে ইসরায়েলকে বৈধতা দেয়া হবে না। আমাদের জনগণ সব উপায়ে এটি প্রতিহত করবে।“
তবে ইহুদি বসতি স্থাপনকারী দলগুলো এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে।
১৯৭৬ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইসরায়েলের দখল করে নেওয়া পশ্চিমতীরে বসতি স্থাপনকে বেশিরভাগ দেশই অবৈধ বলে বিবেচনা করে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি সংঘাতের অন্যতম মূল কারণও হচ্ছে, সেখানে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ।
কিউএনবি/অনিমা/১৯ জুন ২০২৩,/বিকাল ৩:৪০