২০১০-১১ মৌসুমে মিলানকে লিগ জেতানোর অন্যতম নায়ক ছিলেন ফ্লামিনি। অবে এক ইনজুরিতে পড়ে বাকি দুই মৌসুমেই আর মাঠে নামতে পারেননি। ২০১৩ সালে ফ্রেঞ্চ তারকাকে ছেড়ে দেয় মিলান। ফ্লামিনি ফিট হয়ে আবারও যোগ দেন আর্সেনালে। কিন্তু এ যাত্রাও খুব একটা পাত্তা পাননি। ২০১৬ সালে পাকাপাকিভাবে গানারদের ডেরা ছাড়েন তিনি। এরপর গেতাফে এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের হয়ে কিছুদিন খেলে ফ্লামিনি যোগ দেন তার ব্যবসায়। সেখান থেকেই জীবনের মোড় ঘুরে যায় এই ফুটবলারের।
আর্সেনালে থাকা অবস্থায় ২০০৮ সালে ফ্লামিনি যৌথভাবে জিএফ বায়োকেমিক্যালস নামে একটি কোম্পানির প্রতিষ্ঠা করেন। এটি বিশ্বের প্রথম কোম্পানি যারা লুভেনিক এসিড প্রস্তুত শুরু করে। লুভেনিক এসিড পরিবেশবান্ধব জ্বালানী প্রস্তুতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হওয়ায় ধীরে ধীরে এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। এইক এসিড দিয়ে পরিবেশবান্ধব ভেষজনাশক, পারফিউম, প্লাস্টিক এবং ঔষধও প্রস্তুত করা হয়। ফলে ফুলে ফেঁপে উঠতে থাকে ফ্লামিনির ব্যবসা।
২০২০ সালে ফোর্বসের এক প্রতিবেদন জানায়, ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মালিক ফ্লামিনি। ২০২০ সালে গোল ডটকমের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি মাসে তার উপার্জন ছিল ৫৫ হাজার ৩৮৬ ইউরো। প্রতি বছরই সেই সংখ্যাটা হুড়মুড় করে বাড়ছে। বিশ্বের যেকোনো ধনী ফুটবলার, মেসি-রোনালদো কিংবা এমবাপে-হলান্ড এর চেয়ে তার আয় বহুগুণে বেশি। সম্প্রতি ইউরোপের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সাবেক ক্লাব আর্সেনালকে কিনে নেয়ার প্রতি নাকি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ফ্লামিনি। পরবর্তীতে দলামিনি অবশ্য এ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি।
ফুটবলার কিংবা ব্যবসায়ীর বাইরে এখন পরিবেশকর্মী হিসেবেও এখন বেশ পরিচিত ফ্লামিনি। নিজের কোম্পানির মাধ্যমে প্লাস্টিক পুনপ্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানী প্রস্তুত করে পরিবেশকর্মী হিসেবেও বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। অনেকেই ধারণা করছেন, ফুটবলেও আবার ফিরতে পারেন সাবেক আর্সেনাল তারকা।