বাদল আহাম্মদ খান,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : রোদের প্রখরতা হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যাচ্ছে। কেউ আসছেন আইসক্রিম নিয়ে, কেউবা শরবত কিংবা প্যাকেট জাতীয় পানীয় নিয়ে। ইন্দ্রজিৎ পাল তাদেরই একজন। কথার ফাঁকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে বললেন, ‘দাদা আপনারাই জিতবেন। আমি বলে গেলাম আপনারাই জিতবেন।’ কৌতুহল বশত জানতে গেলে বললেন পূর্ব পুরুষের বাড়ি বাংলাদেশে।ভারতের কলকাতার বিজয় স্পোর্টস ক্লাবের পাশের মাঠে চলছিলো আরেকটি ম্যাচ। বাংলাদেশ লেখা জার্সি পড়া দেখে এ প্রতিবেদকের বাড়ি বাংলাদেশ কিনা জানতে চাইলেন সৌমজিৎ মজুমদার। বাবা যশোরের মা চট্টগ্রামের এবং বোন ঢাকায় থাকেন জানিয়ে আগমনের কারণ জানতে চাইলেন। হুইল চেয়ারে বসে ক্রিকেট খেলার কথা জেনে তিনি আপ্লূত হয়ে শুভ কামনা জানালেন।বাংলাদেশকে নিয়ে ভালো প্রত্যাশা ভারতের কলকাতাবাসীর। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সেখানে টি-টুয়েন্টি হুইল চেয়ার ক্রিকেট সিরিজ শুরু হয়েছে।
রবিবার প্রথম ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেব বাংলাদেশের অধিনায়ক এমদাদুল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ছয় উইকেকটে ৪০ রান করতে সক্ষম হয়েছে।ভারতের অধিনায়ক সমরজিৎ জানান, সারাদেশ থেকে তারা খেলোয়াড় সংগ্রহ করেন। পরে সেখান থেকে বাছাই করা খেলোয়াড়দের নিয়ে টিম গঠন করা হয়। সিরিজ জয়ের ব্যাপারে তারা বেশ আশাবাদী।
বাংলাদেশ দলের প্রতিষ্ঠাতা হেদায়তুল আজিজ মুন্না বলেন, ‘গত কয়েকদিন আমাদের খেলোয়াড়রা বেশ ভালো অনুশীলল করেছে। গত সিরিজের মতো এবারও আমরা জয়লাভ করবো বলে আশা রাখছি।’ফিরে দেখা টানা ১২ ঘন্টার জার্নি। রাত জেগে থাকার ক্লান্তি আছে। তবুও কেউ বিছাবায় গা এলিয়ে দেয়নি। মাঠে কিভাবে কি করতে হবে এ নিয়েই যেন ব্যস্ততা। গরম নিয়ে আলোচনায় একটু ভীতি থাকলেও সেটা উপেক্ষা করে তিনটি ম্যাচই জিততে চায় বাংলাদেশ।
হুইল চেয়ারে বসে চার-ছক্কা মারতে শনিবার স্থানীয় সময় সকাল পৌণে আটটরা ভারতের কলকাতায় আসে বাংলাদেশের ‘হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল’। কলকাতা বিমানবন্দরে দলের ২৫ সদস্যকে ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানানো হয়।এর আগে বাংলাদেশ দলের সদস্যরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একত্রিত হয়ে শুক্রবার রাত ১২টায় ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। সেখান থেকে সাড়ে সাতটার বিমানে চড়েন তারা। ৭, ৮ ও ৯ মে কলকতার স্টেডিয়ামে ভারতের হুইল চেয়ার ক্রিকেট দলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মোট তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। আগামী ১১ মে রাত সাড়ে আটটার দিকে তারা একই পথে দেশে ফিরবেন বলে কথা রয়েছে।ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন ড্রিম ফর ডিজ-অ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশন এ হুইল চেয়ার ক্রিকেট দলটি গঠন করেছে। টি-টোয়েন্টির তিন ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক এই সিরিজে ওই হুইল চেয়ার ক্রিকেট দলের সঙ্গে ভারতের দিল্লীর হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল অংশ নিবেন। দুটি দলের সদস্যরা কলকাতার নিউ টাউনের নবপ্রজন্ম ক্রীড়াঙ্গনে অবস্থান করছেন।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে সারা দেশের শারীরিক প্রতিবন্ধীদের নিয়ে ডিডিএফ হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল গঠন করে প্রতিবন্ধী হেদায়েতুল আজিজ মুন্না। দিল্লী-২০১৭সালে এই দল ডিডিএফ হুইল চেয়ার ক্রিকেট টিম টি-টোয়েন্টি খেলতে প্রথমবার ভারতে যায়। দেশের বাইরে হুইল চেয়ার ক্রিকেট খেলায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশের পক্ষে ডিডিএফ হুইল চেয়ার ক্রিকেট টিমই ছিল প্রথম দল। ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল ভারতের হুইল চেয়ারের ক্রিকেট দলের সঙ্গে খেলে তারা জয়ী হয়।ড্রিম ফর ডিজ-অ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশন হুইলচেয়ার ক্রিকেট দলের প্রতিষ্ঠাতা হেদায়েতুল আজিজ জানান, ভারত থেকে আমন্ত্রণ পাওয়ার পর খেলার সরঞ্জাম ও হুইলচেয়ার এবং ক্রিকেট খেলার অনুশীলন নিয়ে তাঁরা অনেক পরিশ্রম করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ভারত সফরের বিমান ভাড়া বাবদ তিন লাখ টাকা দিয়েছেন। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন মো. শাহগীর আলম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান চিকিৎসক আবু সাঈদ, স্বপ্ন তরী নামের একটি সংগঠন ও আবদুল মালেক নামে এক ব্যক্তি তাদেরকে অর্থের জোগান দেওয়াসহ বিভিন্ন কাজে সহায়তা করেছেন।
কিউএনবি/অনিমা/০৭ মে ২০২৩,/বিকাল ৪:০৫