লাইফস্টাইল ডেস্ক : সম্প্রতি ভারতের দিঘায় কাঁকড়া খেয়ে এক যুবকের মৃত্যু হলে অনেক গবেষক এ নিয়ে বিশদ গবেষণা করতে শুরু করে। চিকিৎসকরা বলছেন, যারা চিংড়ি খেলে অ্যালার্জি সমস্যায় ভোগেন তাদের কাঁকড়াসহ যে কোনো সামুদ্রিক মাছই খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
চিকিৎসা শাস্ত্রে, অ্যালার্জি হলো আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি ত্রুটি। তাই অ্যালার্জিতে যেসব খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে তা যদি অ্যালার্জি রোগী না মেনে চলে, তবে সেই খাবার খাওয়ার পর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে পালমোনারি ইডিমা তৈরি করতে শুরু করে। এ সমস্যাকে চিকিৎসা পরিভাষায় বলা হয় ভ্যাসোডাইলেশন।
এ অবস্থায় শ্বাসনালীর ওপরের অংশ বন্ধ হয়ে যায়। এতে রোগী নাকের ছিদ্র পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এমন অনুভব করতে শুরু করেন। যথেষ্ট পরিমাণ রক্ত এসময় হার্টে পৌঁছায় না। মস্তিষ্কেও রক্ত পৌঁছানোর পরিমাণ কমতে কমতে থাকে। এ অবস্থায় ১৫ মিনিটের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে অ্যালার্জি রোগী।
ন্যাশনাল অ্যালার্জি অ্যাসমা ব্রঙ্কাইটিস ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ডা. অলোক গোপাল ঘোষালের মতে, চিংড়ি, কাঁকড়া কিংবা যে কোনো সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার ফলে শরীরে চুলকানি, ঠোঁট ফুলে ওঠা লক্ষণগুলোকে তেমন অ্যালার্জি রোগীর ক্ষেত্রে তেমন ঝুঁকি নেই বলে আগে মনে করা হতো। যা এখন আর তা ভাবার সুযোগ নেই।
কোন খাবারে অ্যালার্জি তা টেস্ট করে বোঝার নেই। তাই এ বিষয়ে ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কৌশিক লাহিড়ি বলেন, তিন ধরনের খাবার থেকে অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এগুলো হলো ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন। এর মধ্যে প্রাণীজ প্রোটিন থেকেই বেশি সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।
কোনো কারণে খাবার খাওয়ার পর এ সমস্যায় ভুগলে সমস্যা ও মৃত্যু এড়াতে রোগীকে সব সময় অ্যাড্রেনালিন এপিনেফ্রিন ইনজেকশন সঙ্গে রাখা উচিত। চিকিৎসক এই ইনজেকশন পুশ করলে অ্যালার্জি রোগীরা অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু এড়াতে পারবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কিউএনবি/আয়শা/০৩ মে ২০২৩,/সন্ধ্যা ৭:২৮