স্পোর্টস ডেস্ক : প্রিমিয়ার লিগের ৩৮ ম্যাচের মৌসুমে এরই মধ্যে কমপক্ষে ৩০ ম্যাচ খেলে ফেলেছে প্রায় সকল দলই। শুধু ব্রাইটন ও লিভারপুলই খেলেছে ২৯ ম্যাচ। শীর্ষ দুইয়ে থাকা আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটি খেলেছে যথাক্রমে ৩১ ও ৩০ ম্যাচ। এই ৩১ ম্যাচে ২৩ জয় ও ৫ ড্রয়ে ৭৪ পয়েন্ট আর্সেনালের। অন্যদিকে ৩০ ম্যাচে ২২ জয় ও ৪ ড্রয়ে ৭০ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে সিটি।
তৃতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ৩০ ম্যাচে ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে বেশ পিছিয়ে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে ইউনাইটেড। ৮ ম্যাচে এই ১১ পয়েন্টের ব্যবধান ঘুচানো এক প্রকার অসম্ভবই। তাই বলাই যায়, আর্সেনাল বা সিটির মধ্যেই কেউ পাচ্ছে এবারের লিগ শিরোপা
চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই দারুণ ফর্মে আর্সেনাল। শীর্ষ স্থানটা একপ্রকার নিজেদের সম্পত্তি বানিয়েই রেখেছে তারা। তবে স্বস্তি নেই গানারদের। কারণ শুরুতে ছন্দ খুঁজে পেতে কিছুটা বেগ পেতে হলেও মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে রীতিমতো অপ্রতিদ্বন্দ্বী সিটিজেনরা। একের পর এক জয় ছিনিয়ে নিয়ে তাড়া করছে আর্সেনালকে। তাতে চাপে পড়েই হয়ত শেষ দুই ম্যাচেই পয়েন্ট হারিয়ে শিরোপার সমীকরণ কঠিন করে তুলেছে গানাররা।
মিকেল আর্তেতার তরুণ গানার ব্রিগেড পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকলেও শিরোপা জয়ের সম্ভাবনায় পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটিকেই ফেবারিট মানছেন অনেকেই। গত দুই আসরের শিরোপাজয়ী সিটির সামনে হ্যাটট্রিকের সুযোগ। অন্যদিকে আর্সেনালের সামনে সুযোগ ২০০৩-০৪ মৌসুমের পর ফের লিগের শিরোপাটা উঁচিয়ে ধরার। আর্সেন ওয়েঙ্গারের ‘দ্য ইনভিন্সিবল’ দলটা সেবার লিগ জয়ের পথে একটি ম্যাচও হারেনি। এমন কীর্তি এর আগে বা পরে আর কেউই কখনো দেখাতে পারেনি।
২০ বছরের শিরোপাখরা কাটাতে দারুণ গতিতেই এগিয়ে যাচ্ছিল আর্সেনাল। তারুণ্য নির্ভর দলটির বুকায়ো সাকা, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি, মার্টিন ওডেগার্ডরা জাদুকরি ফুটবল উপহার দিয়েছেন মৌসুম জুড়েই। এক সময়ে তো দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে এগিয়েও ছিল অনেকটাই। কিন্তু মৌসুমের শেষ কোয়ার্টারে এসে পথ হারিয়েছে দলটি। টানা দুই ম্যাচে ২ গোলের লিড নিয়েও ড্র করতে হয়েছে তাদের। লিভারপুলের পর অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ড্র করে শিরোপার দৌড়ে কার্যত পিছিয়েই পড়েছে আর্তেতার দল। লিগে আর্সেনালের পরবর্তী ম্যাচগুলোর প্রতিপক্ষের সঙ্গে তুলনা করলে সিটি প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে সহজ প্রতিপক্ষ। তাই পা হড়কালেই শিরোপা স্বপ্নের সলিল সমাপ্তি ঘটতে পারে গানারদের।
লিগে বাকি সাত ম্যাচে আর্সেনালের প্রতিপক্ষ সাউদাম্পটন, ম্যানসিটি, চেলসি, নিউক্যাসল, ব্রাইটন, নটিংহ্যাম ফরেস্ট ও উলভারহ্যাম্পটন। শিরোপাপ্রত্যাশী ম্যানসিটির বিপক্ষে ম্যাচটি আবার তাদের মাঠেই। কঠিন এই ম্যাচটি ছাড়াও চতুর্থ স্থানে থাকা নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচটিও খেলতে হবে প্রতিপক্ষের মাঠে। এছাড়া কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে সপ্তম স্থানে থাকা ব্রাইটন ও এই মৌসুমে নিজেদের হারিয়ে খোঁজা চেলসিও। এক ম্যাচ বেশি খেলে ৪ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা চেলসির জন্য চাপটা আরও বেশি স্কোয়াডের গভীরতার অভাবের কারণে। মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়লে বা ছন্দ হারালে তার বিকল্প খুঁজে পেতে বেগ পেতে হবে মিকেল আর্তেতাকে। আর টানা ম্যাচ খেলার ক্লান্তি তো আছেই।
অন্যদিকে সিটির ম্যাচ রয়েছে ব্রাইটন, আর্সেনাল, ফুলহাম, ওয়েস্ট হ্যাম, লিডস ইউনাইটেড, এভারটন, চেলসি ও ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে। সিটির আট প্রতিপক্ষের মধ্যে সেরা দশে রয়েছে চারটি দল। তবে আর্সেনালকে যেখানে সেরা চারে থাকা দুটি দলের সঙ্গে লড়তে হবে, সেখানে সিটির লড়তে হবে একটি দলের সঙ্গে। আর এই মুহূর্তে যেমন আগুনে ফর্মে আছে গার্দিওলার দল তাতে তাদের পয়েন্ট হারানোর চিন্তা করাটাই বাড়াবাড়ি। সিটির স্কোয়াডের গভীরতাও তাদের শক্তির জায়গা। আর সিটির জন্য হলান্ডের অতিমানবীয় গোলস্কোরিং ক্ষমতা হতে পারে এক্স ফ্যাক্টর। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গোল করার মতো এই মুহূর্তে কেউই নেই প্রিমিয়ার লিগে।
তবে ফুটবল অনিশ্চয়তার খেলা। পরিসংখ্যান বা সাম্প্রতিক ফর্ম যেমনই হোক, মাঠে নেমে নির্দিষ্ট দিন দল কেমন পারফর্ম করছে তার ওপরই নির্ভর করবে ফল। মাঠের খেলায় যে প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করতে পারবে, দিনশেষে শিরোপা নিয়ে উল্লাস করতে তাদেরই দেখা যাবে।
কিউএনবি/আয়শা/১৭ এপ্রিল ২০২৩,/রাত ৯:০০