বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৫ অপরাহ্ন

কৃষি উন্নয়নে ইসলামের অনুপ্রেরণা

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২০ মার্চ, ২০২৩
  • ১৩৩ Time View

ডেস্ক নিউজ : ইসলাম তার অনুসারীদের মানবিক উন্নয়নের এমন কোনো দিক নেই, যেখানে দিকনির্দেশনা দেয়নি। সেই ধারাবাহিকতায় কৃষি ক্ষেত্রেও ইসলাম গুরুত্বারোপ করেছে। কোরআন ও সুন্নাহের অনেক আয়াত ও হাদিসে কৃষি উন্নয়ের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। কৃষিবিমুখ হওয়ার কারণেই কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও খাদ্য আমদানি করে চাহিদা পূরণ করতে হয়। কৃষি উন্নয়নে মুসলিমদের স্বর্ণোজ্জ্বল ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিলে খাদ্যে স্বনির্ভর হওয়া যেত। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা যে বীজ বপন করো, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? তোমরা তাকে উৎপন্ন  করো, না আমি উৎপন্নকারী? (সুরা ওয়াকিয়া, আয়াত: ৬৩)

হাদিসেও জমি চাষাবাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে মহানবী (সা.) বলেন, ‘যার কোনো জমি আছে সে যেন তাতে চাষাবাদ করে। অথবা অন্য ভাইকে তাতে চাষাবাদ করতে দেয়।’ (বুখারি, হাদিস : ২৪৯৩) কৃষি কাজে পানি একটি অপরিহার্য উপাদান। সেই পানি সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তিনিই আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, তারপর তা দ্বারা আমরা সব রকমের উদ্ভিদের চারা উদগত করি; অতঃপর তা থেকে সবুজ পাতা উদগত করি। যা থেকে আমরা ঘন সন্নিবিষ্ট শস্যদানা উৎপাদন করি। …’ (সুরা : আনাম, আয়াত : ৯৯)

যুগে যুগে মুসলিম খলিফাগণ কৃষি উন্নয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। কৃষক ও চাষাবাদবান্ধব নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে খাল-বিল ও নালা খনন করে কৃষির অন্যতম উপাদান পানি প্রবাহ অবাধ করেছেন। কৃষক প্রজাদের আবেদনে সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.) ‘নহরে সাদ’ খননের প্রস্তুতি নেন। খননকাজ কিছুদূর এগোনোর পর বিশাল এক পাহাড় বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় তা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী হাজ্জাজ বিন ইউসুফ (তার যুগে) আবার খননকাজ শুরু করেন। তিনি এবার দায়িত্বশীলদের নির্দেশ দিলেন যে তোমরা দেখো খননকর্মীদের দৈনিক খাবারের মূল্য কত? যদি খাদ্যের ওজন একজন শ্রমিকের খননকৃত পাথরের ওজনের সমপরিমাণও হয় তবু তোমরা খননকাজ বন্ধ করবে না। (মুজামুল বুলদান : ৫/৩২১)।

অনেক খলিফা কৃষকের ফসল উৎপাদনের আগেই অগ্রিম আর্থিক অনুদান দিতেন। যেন তারা সহজে চাষাবাদ করতে পারে। যুদ্ধকালীন মুসলিম সেনাপতিগণ সৈন্যদের কঠোরভাবে নিষেধ করতেন যেন তারা কোনো ফসলি জমিন নষ্ট না করে। ক্ষেতখামারে অগ্নিসংযোগ না করে। একজন কৃষক যে ধর্মেরই হোক না কেন, তাকে যেন আক্রমণ না করা হয়। (মুজামুল বুলদান : ২/২৭৪)

এমনই ছিল আমাদের পূর্বসূরিদের সোনালি ফসল উৎপাদনে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, আজকের দিনে কৃষিকে নিম্নমানের পেশা হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই আসুন, আত্ম-অহমিকা পরিত্যাগ করে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতগুলো কাজে লাগিয়ে খাদ্য উৎপাদনে মনোযোগী হই। আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন।

লেখক : প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও মুহাদ্দিস

saifpas352@gmail.com

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২০ মার্চ ২০২৩,/রাত ৯:৫৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit