বাদল আহাম্মদ খান ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার এক ইউপি চেয়ারম্যানকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে সরাইল থানা পুলিশ জেলা ও গোয়েন্দা পুলিশের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে । সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের নির্যাতিত ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে গতকাল রোববার সকালে এ মামলা দায়ের করেন। জেলা ও দায়রা জজ এশারমিন নিগার এ মামলাটি গ্রহণ করে শুনানী শেষে পরে আদেশ দেবেন মর্মে রেখে দেন। পরে বিকেলে মামলাটির আদেশের জন্য আগামী ১৫ মার্চ পরবতী তারিখ ধার্য করেন।নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এর ১৫(১)ধারায় রজুকৃত এ মামলার আসামীরা হলেন সরাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সরাইল থানার পরিদর্শক মো. শেহাবুর রহমান,উপ পরিদর্শক (এস,আই) মো.জয়নাল আবেদীন,উপ পরিদর্শক পঙ্কজ দাশ, সহকারি উপ পরিদর্শক দিলিপ কুমার নাথ এবং জেলা গোয়েন্দা বিভাগের এক উপ পরিদর্শকসহ সরাইল থানা ও ডিবির অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জন পুলিশ সদস্য।
ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মামলা আরজিতে দাবি করেন,গত ২ ফেব্রয়ারি ইউনিয়নের সীতাহরণ গ্রামের মোঃ হারিছ মিয়া এবং সোলাইমান মিয়ার লোকজনের মধ্যে ঝগড়ার প্রেক্ষিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তিনি বিষয়টি সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোনে অবহিত করলে তিনি ছুটিতে আছেন জানিয়ে পরিদর্শক তদন্তের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। ইউপি চেয়ারম্যান পরবর্তীতে সরাইল থানা পুলিশের বিভিন্নস্তরের কর্মকর্তাসহ জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন একাধিক কর্মকর্তার সাথেও টেলিফোনে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্টরা ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। এদিকে বিবদমান দুপক্ষের লোকজনের বিরোধ মীমাংসার জন্য তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে যোগাযোগ করতে থাকেন।মামলার বিবরণে ইউপি চেয়ারম্যান দাবি করেন ,বিবদমান দুপক্ষ পরদিন অর্থ্যাৎ গত ৩ ফেব্রয়ারি বিকেলে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে ইউপি চেয়ারম্যান এস.আই শঙ্কর দাশকে (মামলা ৩ নং আসামী) প্রথম ফোন দেন। এদিকে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চেয়ারম্যানকে ফোন দিয়ে জানান, তিনি ফোর্স পাঠাচ্ছেন এবং তিনি ( ইউপি চেয়ারম্যান) যেন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিস্থিতি সামালদেন। পরে সরাইল থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা বিভাগ ঘটনাস্থলে পৌছে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এদিকে জেলা পুলিশের এক উর্দ্ধতন কর্মকর্তা চেয়ারম্যানকে হোটাসআপে ফোন দিয়ে রাতের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসার জন্য অনুরোধ জানান।
এদিকে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য তিনি এসময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে পরামর্শ করাকালে গত ৩ ফেব্রয়ারি সন্ধ্যা সোয়া ৬ টায় একাধিক পিকআপে এবং ৫/৭টি মোটর সাইকেল যোগে সরাইল থানা পুলিশ এবং জেলা গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থল সীতাহরণ বাজারে গিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে স্থানীয় লোকজনকে সরিয়ে দিয়ে অতর্কিত চেয়ারম্যান মোস্তাফিজকে মারধর শুরু করে । এ সময় মোস্তাফিজুর রহমান নিজেকে ইউপি চেয়ারম্যান পরিচয় দেয়ার পর মামলার ১ নং আসামি পরিদর্শক শেহাবুর রহামন এবং ২ নং আসামি উপ পরিদর্শক জয়নাল আবেদীন তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে বলেন,এলাকায় ঝগড়া বিবাদ হলে চেয়ারম্যান সালিশে মীমাংসা করে ফেলেন । থানায় কোন মামলা হতে দেন না এ কথা বলে তাকে আসামীর এলোপাথারী মারধর করে এক পর্যায়ে তাকে পিকআপ ভ্যানে ওঠিয়ে সরাইল উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসায় নিয়ে আসে । এ সময় সাবেক ইউপি মেম্বারসহ ৫জনকে ধরে থানায় নিয়ে আসে এবং পরদিন তাদের মিথ্যা অভিযোগে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আদালতে প্রেরণ করেন।
এদিকে খবর পেয়ে পানিশ্বর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ তৌহিদ মিয়া এবং ইউপি সদস্য ইমান আলী সিএনজিযোগে উপজেলা চেয়ারম্যানের সরকারি বাসা থেকে চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে তার জেলা শহরের বাসায় নিয়ে যান । তিনি দাবী করেন পুলিশের ভয়ে ঘটনার দিন তিনি হাসপাতালে না গিয়ে বাসায় চিকিৎসা নেন।ঘটনার পরদিন ৪ ফেব্রয়ারী তিনি পুলিশ সুপার বরারব লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে তার অভিযোগ লিখিতভাবে গ্রহণ না করায় গত ৭ ফেব্রয়ারি তিনি ডাকযোগে পুনরায় পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগটি পাঠান। মামলায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক , উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার না পেয়ে আদালতে মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন। মামলার আবেদনে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের অনুরোধ জানান ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সরাইল থানার পরিদর্শক মোঃ শেহাবুর রহমানের সাথে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করে না পেয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আদালতে মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কিছুদিন আগে মামতো ভাই ফুফাতো ভাইয়ের মধ্যে বিরুধের জের ধরে ঝগড়ার প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি শান্ত করার লক্ষ্যে স্থানীয় কিছু সর্দার মাতবরের সাথে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকেও আটক করা হয়েছিলো । চেয়ারম্যানকে শারীরিক ভাবে নির্যাতনের কোন ঘটনা ঘটেনি।পরে বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি সম্মানজনক ফয়সালার একাধিকবার চেষ্টা করেছেন। এ ছাড়া চেয়ারম্যান সাহেব পুলিশ সুপার মহোদয়ের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেছেন যা তদন্তাধীন ।
কিউএনবি/অনিমা/১৩ মার্চ ২০২৩,/সকাল ১১:১৫