ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে গিয়ে বিজেপির হামলার শিকার এমপিরা!
Reporter Name
Update Time :
শনিবার, ১১ মার্চ, ২০২৩
৮৯
Time View
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরায় ভোট পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে গিয়ে নিজেরাই হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস সংসদ সদস্যরা। ক্ষমতাসীন বিজেপি কর্মীরাই ওই হামলা চালিয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। অন্যদিকে ত্রিপুরা পুলিশ বলছে, সংসদ সদস্যদের দলটিতে থাকা কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর হলেও কেউ শারীরিকভাবে আহত হননি। তবে বিজেপি বলছে এ ধরনের হামলার কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের পর বিরোধী বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের কর্মীদের বাড়ি-দোকান ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বাম এবং কংগ্রেসের সাতজন সংসদ সদস্য ও বিধানসভার সদস্যরা তিনটি দলে ভাগ হয়ে শুক্রবার ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছিলেন। সিপাহীজলা জেলার নেহাল চন্দ্র নগর এলাকায় সংসদ সদস্যদের ওপরে হামলা হয় বলে অভিযোগ করছে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস জোট।
এমপিদের ওপরে হামলা
সংসদ সদস্যদের দলটিতে রয়েছেন সিপিআইএমের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘আমরা তিনটি দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছিলাম। একটি দলের ওপরে আক্রমণ হয়েছে। বিজেপির কর্মীরা জয় শ্রীরাম বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সৌভাগ্য যে কোনো এমপি শারীরিকভাবে আহত হননি।’
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ টুইট করে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সংসদ সদস্যদের দলের সামনে একদল ব্যক্তি স্লোগান দিচ্ছে। তারপর ওই ভিডিওতেই একটি গাড়ির কাঁচ ভাঙ্গা হয়েছে দেখা যায়।
ত্রিপুরা পুলিশের সহকারী আইজি (আইন শৃঙ্খলা) জ্যোতিষ্মান দাস চৌধুরী সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, ‘বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের সংসদ সদস্য, বিধায়ক ও স্থানীয় নেতাদের একটি দল নেহাল চন্দ্র নগরে গিয়েছিলেন। কিছু ব্যক্তি সেখানে স্লোগান দিচ্ছিলেন আর কয়েকজন দুষ্কৃতি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পুলিশ এসকর্ট সংসদ সদস্য ও বিধায়কদের সেখান থেকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যায়। কেউ শারীরিকভাবে আহত হননি, কিন্তু তিন–চারটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
বিজেপি অবশ্য বলছে এ ধরনের কোনো হামলাই হয়নি সিপাহীজলার নেহাল চন্দ্র নগরে।
বিজেপির মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য বলছেন, ‘শুক্রবারের যে ঘটনাটার কথা বলা হচ্ছে, সেটা সম্পূর্ণভাবে অসত্য। মুখ্যমন্ত্রী নিজে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন, আর আমরা স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেছি। নেহাল চন্দ্র নগরে এমপিদের যে দলটি গিয়েছিল, তাদের সঙ্গে দল দুটির ত্রিপুরার নেতারাও ছিলেন। এরাই সাধারণ মানুষকে দিয়ে বলানোর চেষ্টা করছিলেন যে সেখানে সন্ত্রাস হয়েছে ইত্যাদি। তখন স্থানীয় মানুষরাই বিরোধিতা করেন, স্লোগান দিয়েছেন এদের বিরুদ্ধে। কোনো হামলা হয় নি।’
ভোট পরবর্তী সহিংসতা বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস অভিযোগ করছে, বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই বিরোধী কর্মীদের ওপরে হামলা চালাচ্ছে বিজেপি। এ রকম ৬৬৯টি হামলার বিস্তারিত তথ্য তারা রাজ্য পুলিশ মহানির্দেশকের কাছে জমা দিয়েছেন।
ত্রিপুরায় ভোটের পর বিরোধী দলীয় কর্মীদের ওপর ৬৬৯টি হামলার ঘটনা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছবি : সিপিআইএম
ঘটনাগুলো সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে যাওয়া ওই সংসদ সদস্যদের দলটির সদস্য সিপিআই এমের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘আমাদের দলীয় কর্মীদের ওপরে আক্রমণগুলো হয়েছে একেবারে পরিকল্পনা করে। কোনো এলাকায় হয়তো সাত-আটটি বাড়ি আছে, বাকি বাড়িগুলোর কিছু হয়নি, শুধু সিপিআইএম কর্মীর বাড়িতেই হামলা হয়েছে। বেছে বেছে দোকানে আগুন লাগানো হয়েছে। আমি নিজে যে দলটিতে ছিলাম, ক্ষতিগ্রস্তরা আমাদের বলেছেন হামলার পরে তারা থানার কাছাকাছিও যেতে পারছেন না। সেদিকে গেলেই তাদের ওপরে আবারও আক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে থানা এলাকা থেকে। আমি পুলিশের সঙ্গেও কথা বলেছি, তাদের কাছে যখন জানতে চাই যে অভিযোগ কেন নেওয়া হচ্ছে না, তখন থানার অফিসার চুপ।’
বিজেপি যা বলছে দলের মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য বলছেন, ‘নির্বাচন পরবর্তী হিংসাত্মক ঘটনা নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে ত্রিপুরাকে হেয় প্রতিপন্ন করার একটা চেষ্টা চালাচ্ছে বিরোধীরা। ভোটের পর থেকে গণনা পর্যন্ত বাম ও কংগ্রেসের কিছু নেতা বার বার উস্কানিমূলক কথা বলেছেন।’
মুখপাত্র বলেন, ‘বাম নেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী কীভাবে একজন নারী পুলিশ অফিসারকে রীতিমতো অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করছেন, হুমকি দিচ্ছেন, তা তো টিভির পর্দায় মানুষ দেখেছেন। তা স্বত্বেও মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা একেবারে বুথ স্তরের কর্মীদের কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়া হয়েছে যে কোনো প্ররোচনায় পা দেওয়া যাবে না। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানো যাবে না।’
তিনি আরো বলেছেন, ২০১৮ সালের আগে বামপন্থীদের আমলে নির্বাচনের পরে কী ধরণের সহিংসতা হতো, তা ত্রিপুরার মানুষ মনে রাখবেন।