ডেস্ক নিউজ : বিশ্বব্যাপী চলছে অর্থনৈতিক মন্দা। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষ আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছে না। সঞ্চয় ভেঙে খরচ মেটাচ্ছে মধ্যবিত্ত অনেক পরিবার। কমবেশি সব শ্রেণির মানুষই বর্তমানে অর্থনৈতিক টানাপড়েনে আছে। আর্থিক এই সংকটে আমাদের যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
দান-সদকা কিংবা কর্জে হাসানা প্রদানের মাধ্যমে আমরা একে অন্যের পাশে দাঁড়াতে পারি এই সময়। কোনো লাভ কিংবা স্বার্থ ছাড়া শুধু আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সুদবিহীন কাউকে ঋণ প্রদান করাকে ‘কর্জে হাসানা’ বা উত্তম ঋণ বলে। ইসলামে কর্জে হাসানার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। সুদবিহীন এ উত্তম ঋণ আর্থিক ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।
করজে হাসানা প্রসঙ্গে কোরআনের নির্দেশনা : পবিত্র কোরআনের একাধিক স্থানে কর্জে হাসানা প্রদানের প্রতি উৎসাহমূলক আয়াত নাজিল হয়েছে। এ ঋণের বহুগুণ বিনিময় বৃদ্ধি ঘোষিত হয়েছে সেসব আয়াতে। ইরশাদ হয়েছে, ‘কে সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করবে? ফলে আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ, বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেবেন। আর আল্লাহতায়ালাই রিজিক সংকুচিত করেন ও বৃদ্ধি করেন। তোমাদের তার কাছেই ফিরে যেতে হবে। -সুরা আল বাকারা : ২৪৫
‘দান-সদকা প্রদানকারী নারী ও পুরুষ এবং যারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করে, নিশ্চয়ই কয়েক গুণ বৃদ্ধি করে তাদের ফেরত দেওয়া হবে। তা ছাড়া তাদের জন্য আছে সর্বোত্তম প্রতিদান।’ -সুরা হাদিদ : ১৮
ওই আয়াতগুলোতে আল্লাহতায়ালাকে ঋণ দেওয়ার অর্থ হচ্ছে- গরিব-দুঃখী, অভাবী ও সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের যেকোনোভাবে আর্থিক সহায়তা করা। এককথায়, অর্থনৈতিক কল্যাণ সহায়তা করা কর্জে হাসানার অন্তর্ভুক্ত।
ঋণ পরিশোধকারী শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি : ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ করা উত্তম। ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করলে ঋণদাতা ঋণ প্রদানে অনুৎসাহিত ও কঠোর হয়ে যায়। হাদিসে এসেছে, ‘তোমাদের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠ, যে উত্তমরূপে কর্জ পরিশোধ করে।’ -সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৪২৩
অক্ষমকে ঋণ মাফের পুরস্কার : ক্ষমাকারী বান্দা আল্লাহর কাছে অনেক প্রিয়। কারণ ক্ষমা আল্লাহর বিশেষ গুণ। মহান আল্লাহ ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। তাই ঋণ পরিশোধে অপারগ ব্যক্তিকে ক্ষমার পুরস্কার হিসেবে আল্লাহতায়ালা আরশের ছায়া দান করবেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে লোক অভাবী ও ঋণগ্রস্তকে সুযোগ প্রদান করে অথবা ঋণ মাফ করে দেয়, কিয়ামতের দিবসে আল্লাহতায়ালা তাকে নিজের আরশের ছায়ায় আশ্রয় প্রদান করবেন, যেদিন তার আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। -জামে তিরমিজি : ১৩০৬
ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়িয়ে দিলেও দান-সদকার সমতুল্য সওয়াব পাওয়া যায়। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি (ঋণগ্রস্ত) অভাবী ব্যক্তিকে অবকাশ দেবে, সে দান-খয়রাত করার সওয়াব পাবে। -ইবনে মাজাহ : ২৪১৮
কিউএনবি/আয়শা/১১ মার্চ ২০২৩,/রাত ৮:১৮