বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন

বিএনপি শেষ পর্যন্ত কী করে, আ.লীগ কতটা ঠেকাতে পারে

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১১ মার্চ, ২০২৩
  • ৮২ Time View

ডেস্ক নিউজ : আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপি হঠাৎ দেখাদেখির কৌশল গ্রহণ করেছে। জানা গেছে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন প্রশ্নে সম্প্রতি দেশের রাজনীতিতে বিদেশি তৎপরতা বাড়ায় দেখাদেখির কৌশল নিয়েছে দুই দলই। এর মধ্যে বিদেশি তৎপরতা কতটা ফলপ্রসূ হয় সেটাও পরিষ্কার হয়ে উঠবে। প্রয়োজন পড়লে আটঘাট বেঁধে নামার প্রস্তুতিও নেওয়া যাবে দেখাদেখির ভেতর দিয়ে।

আওয়ামী লীগ ভালো করে বুঝে উঠতে চায় বিএনপি শেষ পর্যন্ত কী করে, কোথায় গিয়ে ঠেকে। আবার বিএনপিও দেখতে চায়, আওয়ামী লীগ কতটা ঠেকাতে পারে তাদের চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন। এই দেখাদেখির ওপর ভিত্তি করেই আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয়ই তাদের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করবে। দুই দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে তাদের এমন কৌশল গ্রহণের বিষয়টি জানা গেছে।

দুই দলের নেতারাই দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, আগামী মে মাস পর্যন্ত এক দল আরেক দলের কর্মকান্ড দেখবে। তারপর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দুই দলই চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা নেবে এবং সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে আসবে। সে পর্যন্ত বিএনপির সরকারবিরোধী সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ও আওয়ামী লীগের শান্তি-সমাবেশ অব্যাহত থাকবে। মে মাসের পর বিএনপির আন্দোলন আরও বেগবান ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তখন আওয়ামী লীগও আরও শক্ত হাতে দমননীতি অনুসরণ করতে পারে।

ওই নেতারা বলেন, মে মাসের পর এক দল আরেক দলকে ‘হ্যাঁচকা টান মারার’ চিন্তা করছে। বিএনপি মনে করে, এখনই চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গেলে নির্বাচন পর্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়বে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। এতে করে আন্দোলন নিষ্ফল হয়ে যেতে পারে। আওয়ামী লীগ মনে করছে, বিএনপি সর্বশক্তি দিয়ে আন্দোলনে নামলে তাদের ভুলগুলো পুঁজি করে অ্যাকশনে যেতে পারবে তারা।

তবে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপিকে জনবিচ্ছিন্ন করে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে, এমনটাই তারা মনে করছেন। সেই সুযোগের উপযুক্ত ব্যবহার করে সরকার বিএনপির আন্দোলন দুর্বল করতে পারবে, এমন বিশ্বাসও তাদের আছে। এ ছাড়াও দেখাদেখির মধ্য দিয়ে সময়ক্ষেপণ করার নীতি অনুসরণ করেছে আওয়ামী লীগ। কারণ রাজনীতির পরিবেশ শান্ত রেখে এগিয়ে যেতে পারলেও সুফল পাবে ক্ষমতাসীনরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আওয়ামী লীগ মনে করে, বিএনপিসহ দেশের সব রাজনৈতিক দল ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের ভেতর দিয়ে টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দেশ পরিচালনা করবে। তিনি বলেন, ‘আসলে দেখাদেখি বলতে আমি বুঝি, বিএনপি যা করবে গণতান্ত্রিক পথে করতে পারবে। অগণতান্ত্রিক আচরণ করতে গেলে শক্তভাবে তার জবাব দেওয়া হবে।’

বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি কী হবে সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে তারা এ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাচ্ছেন না, সেটি পরিষ্কার করেছেন। একই সঙ্গে তারা এ সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অনড় থাকবেন। এ জন্য নিয়মমাফিক যে আন্দোলনের কর্মসূচি চলছে, সেটিই ভিন্ন আঙ্গিকে নতুনত্ব দিয়ে মে মাস পর্যন্ত টেনে নেবে।

জানা গেছে, ৬ মার্চ বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে অনুযায়ী ১০ দফা দাবির আন্দোলন আরও বেগবান করে সরকারের পতনের লক্ষ্যে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টির জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানাতে সহযোগী সংগঠনগুলোকে সেমিনার আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলটির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে রয়েছে যুবদল, কৃষক দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, শ্রমিক দল, মহিলা দল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, জাসাস, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল ও উলামা দল। এরা প্রত্যেকে আলাদা কর্মসূচি পালন শেষ করতে করতে রোজা চলে আসবে। রোজায় কঠোর কোনো কর্মসূচি না রাখার বিষয়ে মত একাধিক নেতার।

তবে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মাঝখান সময়ে রোডমার্চ বা লংমার্চের কর্মসূচি আসতে পারে বলে জানিয়েছেন বিএনপির একাধিক নেতা। এ কর্মসূচি চলতি মার্চ মাসেই পালনের কথা ছিল। ২৩ ফেব্রুয়ারি রংপুর বিভাগ দিয়ে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফলে এটি পিছিয়ে যায়। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এ ধারাবাহিক বৈঠক শেষ হবে ১৬ মার্চ ময়মনসিংহ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বসার মধ্য দিয়ে।

এখন পর্যন্ত রংপুর, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুরের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারেক রহমান। বৈঠকে প্রায় সব নেতাই একই সুরে বলেছেন, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মধ্যবর্তী সময়ে বড় ধরনের কর্মসূচি দিতে। দলটির হাইকমান্ডও মনে করছেন, ওই সময় রোডমার্চ বা লংমার্চের মতো কর্মসূচি দেওয়া যেতে হবে।

তবে দলটির একাধিক সিনিয়র নেতা নিশ্চিত করেছেন, একতরফা নির্বাচনের ঘোষণা বা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করলে হরতাল, অবরোধের মতো কর্মসূচিতে যাচ্ছে না বিএনপি। জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আন্দোলন বলেকয়ে হয় না। সময় ও পরিবেশ বলে দেবে কী ধরনের কর্মসূচি দিতে হবে। জনগণকে সম্পৃক্ত করে দাবি আদায়ের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী সময় সময় আমাদের আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি পরিবর্তন হবে।’

দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘৭ মার্চ ভাষণের পর যা হয়নি, ২৫ মার্চের ঘটনার পর স্বাধীনতার আন্দোলনের গতি কোথায় দাঁড়িয়েছে? এরশাদবিরোধী আন্দোলনও মিছিল, মিটিং, মানববন্ধনের মধ্যে কর্মসূচি সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ডা. শামসুল আলম খান মিলন হত্যার পর বলে দিতে হয়নি কী করতে হবে। আমরা সময় ধরে ধরে, পরিস্থিতি, পরিবেশ বুঝে কর্মসূচি দিচ্ছি। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, আন্দোলনের ধারাও তার রূপ তত পরিবর্তন করবে।’

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেন, দল দুটি নিজেদের অনড় অবস্থান থেকে সরে আসতে পরোক্ষভাবে বিদেশিদের পরামর্শ রয়েছে। বিরোধ তুঙ্গে না তুলে দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে রাজনৈতিক সমাধানে আসুক তারা এটা চায় বিদেশিরা। এ জন্য প্রয়োজনে সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টি করারও অনুরোধ রয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতি। দেখাদেখির রাজনীতির পর্বে সংলাপের সুযোগও এসে যেতে পারে।

বিদেশি তৎপরতার প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশের সবাই জানে বিএনপি কিছু হলেই বিদেশিদের কাছে ধরনা দেয়। দেশের মানুষের কাছে যায় না তারা।’ তিনি বলেন, দেশের মানুষের ওপর ভরসা না থাকায় বিদেশিদের কাছে দেশের বিরুদ্ধে বিচার নিয়ে যাওয়ার ফল কখনো ভালো হয় না।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর এক সদস্য বলেন, ক্ষমতাসীনদের ওপর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ সব দলের অংশগ্রহণে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের চাপ রয়েছে। আবার ইতিবাচক অবস্থানে গিয়ে বিএনপিকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারেও চাপ রয়েছে। বিএনপিবিহীন নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক বলে বিবেচিত হবে না বলে বিদেশিরা বারবার বলছে।

তিনি বলেন, এ চাপ সামলাতে বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে আসার ব্যাপারে বিদেশিদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছে সরকারি দল। তাতে করে অনেকটা দায়মুক্ত হতে পারবে আওয়ামী লীগ। এসব হিসাব করে আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে, বিএনপি নির্বাচনের বাইরে থাকবে বললেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আসতেই হবে। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে হবে সরকারকে।

দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনের মতো এবারের নির্বাচন করে পার পাওয়া আওয়ামী লীগের জন্য অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। এবার তা মেনেও নেবে না বিদেশিরা। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে পর্যাপ্ত দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক কাজ করবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং বিএনপি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে ধরে নিয়েই ক্ষমতাসীনরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা সফরে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। দলীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এবার যেনতেন নির্বাচন হবে না বলেও জানান দিচ্ছেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সেটাও নিশ্চিত করতে চান তিনি।

কাজী জাফর উল্যাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সংবিধান সম্মতভাবে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করবে, নির্বাচনকালীন সরকার কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’ তিনি বলেন, ‘এটাই সরকারের অবস্থান।’

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১১ মার্চ ২০২৩,/রাত ৮:০৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit