রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ডোমারে ২৪ প্রহর ব্যাপী শ্রীশ্রী হরিনাম সংকীর্তন অনুষ্ঠিত জয়পুরহাট চিনিকলে তিন দফার দাবিতে শ্রমিক-কর্মচারীদের বিক্ষোভ সরকার কিশোর গ্যাং এর বিরুদ্ধে কঠোর-সালাউদ্দীন বাবু দোকানপাট-শপিংমল খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নরসিংদীতে ছাত্রকে পিটিয়ে শিক্ষক শ্রী ঘরে  নওগাঁর আত্রাইয়ে কলেজ ছাত্রকে অপহরণ করে হত্যার চেষ্টা, আইফোন ছিনতাই যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের দ্বিতীয় ম্যাচেও বাংলাদেশের হার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এআইআইবি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ দেশের সব পরীক্ষা নকলমুক্ত হবেই: শিক্ষামন্ত্রী

পুতিনের পরবর্তী টার্গেট কি মলদোভা

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
  • ৭৬ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কথার পুনরাবৃত্তি করে মলদোভার প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দু বলেছেন, রাশিয়া গোয়েন্দাদের ব্যবহার করে তার দেশে জনগণের মধ্যে আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছে। তবে তার আগে পুতিন অভিযোগ করেছিলেন, ইউক্রেন মলদোভায় থাকা রুশ ঘাঁটিতে আক্রমণ চালাতে পারে। তার এ দাবির পর আশঙ্কা আরও পোক্ত হয় যে, রাশিয়া কি তবে মলদোভাকেও ক্রিমিয়ার মতো সংযুক্ত করে নেবে? 

গত সপ্তাহে পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশে মাইয়া সান্দুর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বাইডেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, মলদোভার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সবসময় সহায়তা দিয়ে যাবে। তারপর বরং আশঙ্কা আরও দৃঢ় হয়েছে যে, মলদোভায় যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি রাশিয়া সহ্য করবে কি না। এ অবস্থায় বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রশ্ন রাখছেন, পুতিনের পরবর্তী টার্গেট কি তবে মলদোভা। 

কী ঘটছে মলদোভায়

ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, তার গোয়েন্দারা মলদোভার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করার রুশ পরিকল্পনা বানচাল করে দিয়েছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে মলদোভা বেশকিছু সংকটের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক সংকট, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতিসহ নানা কারণে চাপের ‍মুখে দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। তার পরপরই রুশপন্থি বিরোধী রাজনীতিবিদরা রাজধানী চিসিনাউয়ের রাস্তায় নেমে আসে ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থি সরকারের বিরুদ্ধে। 

এরই মধ্যে মলদোভার প্রেসিডেন্ট সান্দু সরাসরি রাশিয়াকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, মস্কো মলদোভায় চলমান রাজনৈতিক সংকটের ফায়দা উঠানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেছেন, ‘সরকার শেষ পর্যন্ত কিছু ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, সামরিক প্রশিক্ষণ নেয়া যেসব অন্তর্ঘাতী বেসামরিক ছদ্মবেশ নিয়ে নাশকতা করে যাচ্ছে তাদের চিহ্নত করা।’ এ সময় সান্দু দাবি করেন, ‘তথাকথিত বিরোধী হিসেবে ছদ্মবেশ নেয়া ব্যক্তিরা সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে চিসিনাউতে ক্ষমতার পরিবর্তনের জোর চেষ্টা করে যাচ্ছিল।’

মলদোভার সাবেক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বর্তমানে দেশটির থিংকট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর ইউরোপিয়ান পলিসিস অ্যান্ড রিফর্মসের পরিচালক উলিয়ান গ্রজা বলেন, ‘সবমিলিয়ে এটি স্পষ্ট যে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে হুমকি এবং এ অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষুধা অনেক বেশি।’ তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের পর মলদোভাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। আমরা এখনো উন্নয়নশীল অর্থনীতির ছোট আয়তনের একটি দেশ। এ যুদ্ধ আমাদের ওপর যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করেছে।’ 

মলদোভাকে নিয়ে রাশিয়ার পরিকল্পনা কী

মস্কো যদিও বারবার মলদোভার ব্যাপারে নিজেদের নিষ্ক্রিয় বলে দাবি করছে; কিন্তু তারা মলদোভায় যা করছে তার সঙ্গে ২০১৪ সালের কর্মকাণ্ডের বেশ সাদৃশ্য রয়েছে। ওই সময় ক্রিমিয়া সংযুক্ত করে নেয়ার আগে তারা এমনটা করেছিল। এমনকি গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আক্রমণ চালানোর আগে তারা যা করেছিল, তার সঙ্গেও সাদৃশ্য রয়েছে। 

গত মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) পুতিন ২০১২ সালের একটি পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক আদেশ প্রত্যাহার করেছেন। এ আদেশের মাধ্যমে রাশিয়া সে সময় মলদোভাকে স্বাধীন বলে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এর মাত্র একদিন পর রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে যে, ইউক্রেন খুব শিগগিরই মলদোভার রুশপন্থি স্বাধীনতাকামী অঞ্চল ট্রানসিনিস্ট্রিয়ায় আক্রমণ চালাবে। তবে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি। মলদোভাও এ অভিযোগকে বাতিল বলে উড়িয়ে দিয়েছে। 

তবে রাশিয়ার এমন দাবি পশ্চিমা নেতাদের সতর্ক করে দিয়েছে। কারণ, এর আগে পুতিন ইউক্রেনের বিষয়েও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিলেন। সে সময় পুতিন অভিযোগ করেছিলেন, ইউক্রেন রুশপন্থি স্বাধীনতাকামী দনবাস অঞ্চলে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুতিন রাশিয়ার নিরাপত্তার দাবি তুলে ইউক্রেনে আক্রমণ চালিয়েছিলেন। বিপরীতে পশ্চিমারা ২০১৪ সাল থেকে অভিযোগ করে আসছে, রাশিয়াই দনবাসের বিদ্রোহীদের সহায়তা দিয়ে আসছে।   

এ বিষয়ে উলিয়ান গ্রজা বলেন, ‘এমন উদাহরণ আমরা আগেও দেখেছি। আমরা দেখছি যে, রাশিয়া প্রোপাগান্ডা বা অপপ্রচারের মাধ্যমে মলদোভায় একটি পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধের সঙ্গে রাশিয়া প্রোপাগান্ডা চালানোর যেসব হাতিয়ার আগে ব্যবহার করেছে এখন আবারও সেগুলোর ব্যবহার বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং রাশিয়া মলদোভায় তার রাজনৈতিক পুতুলদের নাড়াচাড়া বাড়িয়েছে।’

মলদোভায় রাশিয়ার অপারেটরদের উপস্থিতি রয়েছে উল্লেখ করে পোলিশ প্রধানমন্ত্রী মাতেউস মোরভিকি সিবিএস নিউজকে বলেছেন, ‘আমি মলদোভায় রাশিয়ার গোয়েন্দাদের উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছি। দেশটি খুবই দুর্বল এবং আমাদের উচিত তাদের সাহায্য করা।’ 

মলদোভায় কেন রুশ ঘাঁটি

মলদোভায় রাশিয়ার আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে ট্রানসিনিস্ট্রিয়া নামক অঞ্চলটি। মলদোভার অভ্যন্তরে অবস্থিত এই অঞ্চলটি স্বাধীন হতে চায় এবং বিগত কয়েক দশক ধরেই এই অঞ্চলটিতে কয়েক হাজার রুশ সেনা মজুত রয়েছে। 

মাত্র ১৩০০ বর্গমাইলের এই অঞ্চলটি স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকেই রুশ ঘাঁটি হিসেবে কাজ করছে। নিয়েস্তার নদীর তীরে অবস্থিত এই ছিটমহলটি ১৯৯০ সালে নিজেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু পরের বছর সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর তারা মলদোভা কিংবা রোমানিয়ার সঙ্গে যোগ না দিয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এবং সে বছরই মলদোভা স্বাধীন হয়ে গেলে রাশিয়া শান্তি রক্ষার দোহাই দিয়ে ট্রানসিনিস্ট্রিয়ায় ঢুকে পড়ে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহায়তা করতে থাকে।

সে সময় রুশ সৈন্য ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে এবং মলদোভার সেনাদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। পরে কোনো ফলাফল ছাড়াই ১৯৯২ সালে যুদ্ধ শেষ হয় এবং মলদোভার সেনারা ট্রানসিনিস্ট্রিয়া ছেড়ে যায়। তবে ট্রানসিনিস্ট্রিয়া এখনো বিশ্বের দেশগুলো দ্বারা স্বীকৃত নয়, এমনকি রাশিয়াও স্বাধীন বলে স্বীকৃতি দেয়নি। ট্রানসিনিস্ট্রিয়ার ওপর এখনো নামমাত্র অধিকার মলদোভার রয়ে গেছে কিন্তু কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে এখানকার ৫ লাখ বাসিন্দার ভাগ্য এখনো ঝুলে রয়েছে। 

মলদোভা কেন গুরুত্বপূর্ণ

পূর্ব ও পশ্চিম ইউরোপের মধ্যে সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ হলো মলদোভা। দেশটির সরকারের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভালো বোঝাপড়া রয়েছে। গত বছর দেশটি ইউরোপিয় ইউনিয়নের সদস্যপদ প্রার্থী হয়েছে। কিন্তু দেশটির সমস্যা হলো বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন যেটিকে রাশিয়া ক্রমাগত উসকে দিচ্ছে। 

গত বছর শুরু হওয়া ইউক্রেন যুদ্ধে মলদোভার এই অঞ্চলটি অন্যতম আলোচিত স্থান ছিল। বিশেষ করে এখান থেকে রাশিয়ার সেনাদের সহায়তা দেয়া হয়েছে। বেশ কিছু রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের সীমা অতিক্রম করে মলদোভায় গিয়ে পড়েছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসেও রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র মলদোভার আকাশসীমা পেরিয়েছে। এর বাইরে বিগত বছরের এপ্রিলে ট্রানসিনিস্ট্রিয়ায় বেশকিছু বিস্ফোরণ বিশ্লেষকদের মনে প্রশ্ন জাগিয়ে ‍তুলেছিল যে, রাশিয়া কী তবে এই অঞ্চলটিকে ইউক্রেন যুদ্ধে টেনে নামাতে চান কি না। 

তবে তারপর থেকে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অগ্রগতি সাময়িকভাবে সেই ভয়গুলোকে প্রশমিত করেছিল। তবে মলদোভার কর্মকর্তারা পশ্চিমাদের সতর্ক করে আসছিলেন যে, পুতিনের আক্রমণের তালিকায় ইউক্রেনের পরই হয়তো মলদোভার স্থান। গত মাসে, মলদোভার সিকিউরিটি সার্ভিসের প্রধান সতর্ক করেছিলেন, ২০২৩ সালের শুরু রাশিয়া মলদোভার পূর্বাঞ্চলে আক্রমণ করতে পারে এমন ঝুঁকি খুবই বেশি। মলদোভা ন্যাটো সদস্য নয় এমন অবস্থান দেশটিকে পুতিনের সামনে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে।

রাশিয়া যদি ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলকে কেন্দ্র করে এবং ইউক্রেনের ওদেসার মধ্য দিয়ে একটি পথ তৈরি করে নিতে পারে। তবে তা তাদের ট্রানসিনিস্ট্রিয়ায় সঙ্গে সরাসরি সংযোগের সুযোগ দেবে, যা রাশিয়াকে ন্যাটোর সীমান্তের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছানোর সুযোগ দেবে।

(সিএনএন থেকে অনূদিত )

কিউএনবি/আয়শা/২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩/দুপুর ২:২৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit