বাদল আহাম্মদ খান ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কসবা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে দুই লাখ ৮৩ হাজার ৯২৫ টাকা ফেরত নিতে মতামত দিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (মাউশি)। নিয়মবহির্ভুতভাবে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মাউশি এ মতামত দিয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি বরাবর চিঠি দিয়েছেন। কুইক নিউজের হাতে থাকা তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে পাওয়া টাকাও ঠিকভাবে ক্যাশ বইয়ে লিপিবদ্ধ করেননি। এছাড়া তিনি বিদ্যালয়ের আয় সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ক্যাশ বইয়ের সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করেননি, নিয়ম বহিভর্‚তভাবে ঋণ দানসহ আরো নানা অনিয়মের সঙ্গে তিনি জড়িত।
কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, ২০২২ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে পৃথক দু’টি অভিযোগ দায়ের হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এর কাছে মো. খলিল মিয়া নামে এক ব্যক্তি এ অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছরের ২৬ আগস্ট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা, সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা (নাজমুল হক সিকদার) কে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ উল আলম। এরই প্রেক্ষিতে ১৪ সেপ্টেম্বর তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ প্রতিবেদন যায় মাউশির কাছে। ৩১ জানুয়ারি মাউশির সহকারি পরিচালক (মাধ্যমিক উইং) কাওছার আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকেদুই লাখ ৮৩ হাজার ৯২৫ টাকা ফেরত নেওয়ার মতামত দেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তহবিলে প্রায় দেড় লাখ টাকা গরমিল থাকার বিষয়টি তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায়। টিউশন ফি বাবদ ৬৪ হাজার ৫৬০ টাকা ক্যাশ বইয়ে না থাকার বিষয়টি সঠিক। দুদক থেকে ৪১০০ টাকা পাওয়া গেলেও ক্যাশ বইয়ের ১৮০৫ টাকা উল্লেখ আছে। পরিচালনা কমিটির অনুমোদন ছাড়াই প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন দুই লাখ ৬৯ হাজার ৮৬৪ টাকা ঋণ দেওয়ার অভিযোগ সত্যতা পাওয়া যায়। অভিযোগের পর এক লাখ ৫১ হাজার ৭৫০ টাকা ব্যাংকে জমা দেন। এসব টাকা প্রধান শিক্ষক থেকে আদায়যোগ্য বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন।প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, শিক্ষকদের সঙ্গে আলাপ করে নিজেদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির জন্য প্রধান শিক্ষকের হাত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। অফিস সহকারি ও আইসিটি শিক্ষক দিয়ে ক্লাশ করানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। বিদ্যালয়ে আয়-ব্যয় নিরীক্ষণে কোন কমিটি বা উপকমিটি করা হয়নি। মাউশির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জেলা প্রশাসক ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। চাকুরি শর্ত বিধিমালা-১৯৭৯ এর ১১ (সি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ি প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে দুই লাখ ৮৩ হাজার ৯২৫ টাকা আদায় পূর্বক বিদ্যালয়ের ফান্ডে জমা করে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে মাউশিকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয় চিঠিতে। বিদ্যালয়ের সভাপতির কাছে দেওয়া ওই চিঠির অনুলিপি জেলা প্রশাসকসহ বেশ কয়েকজনের কাছে দেওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন। মঙ্গলবার বিকেলে কথা হলে কুইক নিউজ কে তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বরাবর টাকা ফেরত দেওয়া সংক্রান্ত একটি এসেছে। তবে এখন বিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। কমিটি গঠন শেষে সভাপতির মাধ্যমে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সময় চাওয়া হবে।’এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। নানা কারণে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করানো হয়েছে। দুদকের যে টাকার কথা বলা হচ্ছে সেটা তো এত বেশি আসেনি। যে টাকা এসেছে সেটা ভ্যাট কেটে যা এসেছে তাই ক্যাশ বইয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। ঋণের যেসব টাকার নেওয়ার কথা বলা হয়েছে সেগুলোও জমা দেওয়া হয়েছে।’তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাফর আহমেদ বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে হওয়া অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অনেক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।’ দুদক থেকে পাওয়া টাকার ভাউচারে ৪১০০ উল্লেখ আছে বলে জানান তিনি।
কিউএনবি/অনিমা/২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩/বিকাল ৪:২৯