তোবারক হোসেন খোকন.দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। বিগত সময়ে সাধারণ মানুষ হাসপাতাল থেকে তার কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা পায়নি। রোগীদের কে মা-বাবা ভাই-বোন মনে করে চিকিৎসাসেবা দিন। হাসপাতালকেই যেনো রোগী না হতে হয়। একজন চিকিৎসক হিসেবে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা দেয়া আপনার নৈতিক দায়িত্ব।শনিবার (০৪ এপ্রিল) দুপুরে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা নিয়ে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথি হিসেবে একথা বলেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এসময়, নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, স্পীকার মহোদয়ের একান্ত সচিব, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা কমিটির সদস্যগণ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। দায়িত্বরত চিকিৎসকদের উদ্দেশ্য করে কায়সার কামাল বলেন, হাসপাতালে আউটডোর ও ইনডোরে নানা সমস্যা রয়েছে। তার পরেও হাসপাতাল থেকে যেনো প্রতিদিন রোগীরা এসে সেবা নিতে পারে সেই ব্যবস্থা করুন। ডাক্তারদের একটি কথায়, সামান্য ওষুধেও রোগী ভালো হয়ে যায়। আমরা ডাক্তারদের সেই সেবা দেয়ার বিষয়ে জোর দিতে বলছি। নেত্রকোনা জেলার মধ্যে দুর্গাপুর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা অনেক। আশ-পাশের তিন উপজেলা মানুষ এই হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। দয়া করে জনগণের সাথে সুন্দর আচরণ করে চিকিৎসাসেবা দেয়ার ব্যবস্থা আপনারা নিশ্চিত করুন।
হাসপাতালের সেবামূলক উন্নয়নের জন্য সঠিক পরিকল্পনা ও বাজেট প্রস্তত করতে হবে। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির তহবিলের সঠিক ব্যবহার এবং সার্বিক সেবার মান বাড়াতে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন। প্রশাসনিক কোনো গাফিলতি যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ না হয়, সে বিষয়েও তিনি কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বার্তা প্রদান করেন।
তিনি আরো বলেন, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমাসেই ঔষধ ও খাবার সহ নানা সংকট তৈরি হয়। সেই সংকট নিরসনের জন্য ৫০শয্যা থেকে ১শত শয্যায় উন্নীত করা, এম্বুলেন্সের ড্রাইভার নিয়োগ এবং হাসপাতালে ডাক্তারদের আবাসিক ভবন সংস্কারের বিষয়টি প্রাধান্য দেয়া হবে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এই কঠিন সময়ে একটু অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে হলেও রোগীদের যথাযথ সেবা প্রদান করার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান তিনি।
ডেপুটি স্পীকার বলেন, দুর্গাপুর এমনিতেই একটি অবহেলিত জনপদ। এখানে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও খাবার, ডাক্তার, স্টাফসহ অন্যান্য ব্যবস্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন ১০০ শয্যার। হাসপাতালে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা চালুকরণ এটা আমার নির্বাচনী ওয়াদা। রোগীদের সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় অফিশিয়াল পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে। আশা করছি, শীঘ্রই আমরা সেটা করতে পারবো।
কিউএনবি/অনিমা/০৫ এপ্রিল ২০২৬,/রাত ৯:১৭