ডেস্ক নিউজ : প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশ কেন এত গুরুত্ব পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মহলে, কেনই বা ঢাকা সফরে আসছেন একের পর এক মার্কিন কর্মকর্তারা। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিই তাদের আগমনের হেতু নাকি উদ্দেশ্য অন্য কিছু। এ সব ব্যাপারে জানতে সময় সংবাদ সম্প্রতি মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ এশিয়া এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদের। সাক্ষাৎকার নেন রাইসুল ইসলাম।
সময় সংবাদ: গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকজন উচ্চ পদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা একের পর এক বাংলাদেশ সফরে আসলেন। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশ কেন এত গুরুত্ব পাচ্ছে ?
ড. ইমতিয়াজ: আসলে যেটা দেখা দরকার যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো আগের থেকে অনেকটা ভালো অবস্থায় এসেছে। প্যানডেমিক এমনকি রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের পরেও বাংলাদেশ তার গ্রোথ মোটামুটি ধরে রাখতে পেরেছে। উপমহাদেশের মোটামুটি একটা অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করেছে। স্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন দেশ চাইবে ওই অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে যেন তারও একটা অংশীদারিত্ব থাকে। যেন সেও প্রফিট করতে পারে। আমেরিকাও মনে করে বাংলাদেশ ওই রকম একটা অবস্থায় গেছে, যার অর্থনৈতিক কাঠামো প্রমিসিং। তাই যুক্তরাষ্ট্র একটা পার্টনারশিপের মধ্যে আসতে চাচ্ছে।
সময় সংবাদ: শুধু অর্থনৈতিক স্বার্থই গুরুত্ব পাচ্ছে নাকি এর সাথে জড়িত আছে অন্য কোনো স্বার্থ ?
ড. ইমতিয়াজ: আমেরিকার কিছু নির্দিষ্ট চাহিদা থাকে। একটা হলো তারা মনে করে বাংলাদেশ তাদের অর্থনীতির কাঠামো তৈরি করতে পেরেছে তাই তার নিরাপত্তার যে বলয়টা সেটা আরও বড় আকারে আসা উচিত। পাশাপাশি তারা এখন মনে করে যে আমেরিকার যে সফিসটিকেটেড টেকনোলজি রয়েছে সেটা কেনার সক্ষমতাও বাংলাদেশ রাখে। এ ব্যাপারেও এক ধরনের কাঠামো তারা তৈরি করতে চাচ্ছে।
সময় সংবাদ: যুক্তরাষ্ট্রের এ সব চাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের অবস্থান কী হওয়া উচিত ?
ড. ইমতিয়াজ: বাংলাদেশ স্বাভাবিকভাবেই দেখতে চাইবে, আমেরিকার সাথে যে কাঠামোই তারা তৈরি করুক না কেন সেই কাঠামো যেন কোনোভাবেই আবার তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে না যায়। কারণ আমাদের ফরেন পলিসির প্রিন্সিপাল হলো সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। এখন আমেরিকার সাথে আমরা যদি নিরাপত্তার কারণে একটা কাঠামো তৈরি করি, এমনকি ইন্টিলেজিন্স ইনফরমেশনের ব্যাপারেও আমেরিকা যথেষ্ট উৎসাহী। তো আমরা যদি এসব ব্যাপারে কাঠামো তৈরি করি তাহলে স্বাভাবিকভাবেই অন্য দেশ এই বিষয়টিকে পজিটিভলি নাও নিতে পারে।
সময় সংবাদ: এসব সফর কী স্বাভাবিক কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ ?
ড. ইমতিয়াজ: আমি মনে করে আমেরিকার অফিসিয়ালদের আসা, ভারতের অফিসিয়ালদের আসা এমনকি চীনের কর্মকর্তাদের আসা এটাই এখন নিও নরমাল। এটাকে অন্যভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
সময় সংবাদ: এসব সফরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি কোনো প্রভাব ফেলছে কী?
ড. ইমতিয়াজ: কিছু কিছু বিষয় হয়তো সামনে চলে আসে মিডিয়াও হয়তো তখন জানতে চায়, আর এ জানতে চাওয়ার প্রেক্ষিতে তারাও তাদের চিন্তা ভাবনা প্রকাশ করে, সেটা বাংলাদেশের রাজনীতির ব্যাপারে হতে পারে, বাংলাদেশের নির্বাচনের ব্যাপারে হতে পারে। কিন্তু মূল যে জিনিসটা সেটা হলো, তারা মনে করে পার্টনারশিপের মাধ্যমে তাদের ইনভেস্টররা আরও গেইন করতে পারে সেটাকেই তারা সামনে নিয়ে আসতে চায় বাংলাদেশের সাথে। অন্য কথায় তাদের যে স্বার্থ সেটা কিভাবে রক্ষিত হবে সেটাই তাদের চিন্তার জায়গা, এবং সেই জায়গা থেকেই এই সফরগুলো হচ্ছে।
সময় সংবাদ: এসব সফরে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক আছে কী ?
ড. ইমতিয়াজ: এটা তো অস্বীকার করলে চলবে না, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মধ্যে একটা ঘাটতি আছে রাজনীতির মধ্যে একটা ঘাটতি আছে এবং সেটা যে শুধু বাংলাদেশের মধ্যে আছে তা না একাধিক দেশের মধ্যেও সে ঘাটতিটা আছে। ঘাটতিটার বড় কারণ হলো বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় একটা বিভাজন রয়েছে যেটাকে পোলারাইজড পলিটিকস বলে, সেই জিনিসটা আছে। যেহেতু বিভাজনের রাজনীতিটা আছে, আমরা সব সময়ই দেখে এসেছি যারা বিরোধী দল, সে বিরোধী দল যেই হোক না কেন, তারা মনে করে বাইরের দেশের সঙ্গে বাইরের কূটনীতিকদের সঙ্গে যদি তারা কথা বলেন, এবং তারা যদি কিছু বলেন, তাহলে কিছুটা ইমপ্যাক্ট পড়ে, তারা হয়তো কিছুটা মাইলেজ পান।
সময় সংবাদ: বাইরের কোনো শক্তির বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মাথা ঘামানো কতটা যৌক্তিক?
ড. ইমতিয়াজ: এই ব্যাপারে আমার মনে হয় কিছুটা চিন্তা ভাবনা করা দরকার। কারণ আমাদের গণতন্ত্র যতটুকুই হয়েছে সেটার বড় কারণ কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের স্যাক্রিফাইস এবং আন্দোলনের মাধ্যমেই হয়েছে। বাইরের শক্তি এসে আমাদের গণতন্ত্র ঠিক করেছে এর নজির কিন্তু পাওয়া যায় না। বরং তারা সমস্যা তৈরি করে। এই যে বাইরের শক্তি এসে বিভিন্ন লোকজনের সাথে কথা বলা, বিভিন্ন ধরনের কথা বলা এতে কিন্তু বিভাজনের রাজনীতি কিন্তু আরও বেড়ে যায়। এখন মনে রাখতে হবে যে ধরনের গণতন্ত্র আমরা চাচ্ছি সেই চাওয়ার পেছনে ন্যূনতম শর্ত হলো বড় বড় দলের মধ্যে ট্রাস্ট রাখা। কিন্তু এই যে বিদেশি শক্তিদের কথা বলা হচ্ছে তাতে কিন্তু ট্রাস্ট তৈরি হচ্ছে না বরং বিভাজনটা আরও বাড়ছে।
সময় সংবাদ: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপে তাদের স্বার্থ কী?
ড. ইমতিয়াজ: এই বিষয়টি কি তারা জেনেশুনেই করছে সেটাও আমরা জানি না আর যদি জেনেশুনেই করে তাহলেও তা একটা চিন্তার বিষয়। কারণ বিভাজনটা তারা যদি বাড়িয়েই দেন, তাহলে এর মাধ্যমে তারা তাদের কিছু অর্থনৈতিক স্বার্থ উদ্ধার করতে চান। সেই জিনিসটা আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আবার একদিক থেকে দেখলে তাদের দোষ দিয়েও লাভ নেই। কারণ আমাদের অ্যাকাডেমিসিয়ান, আমাদের মিডিয়া আমাদের গবেষকরা তারাই কিন্তু প্রশ্ন করেন, আপনি কি মনে করছেন আমাদের নির্বাচনের ব্যাপারে। সেখানে স্বাভাবিকভাবেই তারা কিন্তু উত্তর দিতে বাধ্য।
সময় সংবাদ: বিদেশিদের এসব কর্মকাণ্ডে দেশের রাজনৈতিক বিভাজন বাড়বে না কমবে ?
ড. ইমতিয়াজ: আমাদের দেখা দরকার এই যে তারা বারবার বলছেন আমরা এই ধরনের নির্বাচন চাই। তাতে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কি ট্রাস্ট বাড়ছে না বিভাজনটা বাড়ছে। আমি মনে করি তারা বিভাজনটা আরও বাড়িয়ে তুলছে। কারণ সরকারি দল যেই থাকুক না কেন তারা এটাকে নেগেটিভলি নেবেন কোনো সন্দেহ নেই। তারা ভাববেন এটা অপোজিশনের পক্ষে চলে যাচ্ছে। তারা আরও কোণঠাসা হয়ে যাবেন। যার জন্য আমিও মনে করি বিদেশি যে সব শক্তি আছে তারা যখন তাদের কর্তব্য পালন করবেন তারা যেন খেয়াল রেখেই কর্তব্য পালন করেন। যদি বিভাজন কমাতে চায়, সেই ধরনের পদক্ষেপ যদি নেয় তাহলে আমার মনে কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু বিভাজন বাড়িয়ে দিচ্ছে তার মানে হচ্ছে তাদের অন্য কোনো স্বার্থ আছে। সেই জায়গাটা আমাদেরই খেয়াল রাখা দরকার।
সময় সংবাদ: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি কী তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে ?
ড. ইমতিয়াজ: আমরা মাঝে মধ্যেই ভুলে যাই আমরা এখন একটা ধনতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার মধ্যে আছি। যেহেতু ধনতন্ত্রের মধ্যেই আছি সেক্ষেত্রে আমি যে দেশের সাথেই সম্পর্ক করি না কেন আমার প্রফিট মার্জিনটা বড় হচ্ছে কি না সেটাই আমরা দেখবো । আমার কাছে মনে হয় এই দেশগুলো তারা যা কিছুই বলুক না কেন তার মূলে কিন্তু এই প্রফিট জিনিসটাই। তার পরে অন্য জিনিসগুলো আসে। কারণ যদি আমার ঘাটতি থাকে তবে ওই ঘাটতির ওপর জোর দিয়ে সে প্রফিট মার্জিনটা বাড়াতে চায়। আবার অন্য কথায় সে মনে করে আমি যদি ওই ঘাটতি জিনিসটাকে বারবার তুলে আনি তাহলে সরকারি দলও একটু নমনীয় হয়ে আমাকে অন্য জায়গায় হয়তো একটু সুবিধা দেবে। তো আমার কথা হচ্ছে এটা যদি বাংলাদেশিরা না চিন্তা ভাবনা করে যে, আমি যে কাঠামোতে বিদেশি শক্তিগুলোর সাথে কথাবার্তা বলছি সেটা কি আমাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে নাকি আমাদের ছোটোখাটো স্বার্থ রক্ষিত হচ্ছে।
সময় সংবাদ: দেশের রাজনৈতিক শক্তিগুলোর বিদেশিদের কাছে ধর্না দেয়া তাদের জন্য কতটা সুফল বয়ে আনবে ?
ড. ইমতিয়াজ: আমার মনে হয় শেষ বিচারে কিন্তু বাংলাদেশের গণতন্ত্র কিন্তু জনগণই ঠিক করে এবং এখানে জনগণ বলতে কিন্তু আমি এখানে শুধু রাজনীতিবিদদের কথাই বলছি না, আমি মিডিয়ার কথা বলছি ছাত্র সমাজের কথা বলছি, নিরাপত্তা ও ব্যবসায়ী মহলের কথা বলছি। এরাই কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতি ঠিক করেন। এখন আমি তাদের কাছে না গিয়ে আমি বিদেশি শক্তির কাছে যাচ্ছি তার মানে হচ্ছে আমি বিদেশিদের স্বার্থই রক্ষা করছি। সেই জিনিসটাও কিন্তু আমাদের দেখা দরকার। আমরা মনে করছি তার বলাতে বুঝি সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে ট্রাস্ট বাড়ছে, কিন্তু আসলে বিভাজন বাড়ছে ট্রাস্টটা কমছে। আর ট্রাস্টটা যদি কমে যায়, তাহলে যে গণতন্ত্র আমরা করতে চাচ্ছি সে গণতন্ত্র আমি কখনোই করতে পারবো না।
সময় সংবাদ: বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হতে পারে এ রকম একটি প্রচারণা আছে, এসব নিষেধাজ্ঞার হুমকির গুরুত্ব কতখানি ?
ড. ইমতিয়াজ: স্যাংকশন দিয়ে কোনো দেশের রাজনীতি পরিবর্তন করতে পেরেছে তার নজির আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। তাহলে কিউবা বহু আগেই পরিবর্তন হতো, ইরান এমনকি উত্তর কোরিয়া যার ওপর প্রচুর স্যাংকশন দেয়া আছে সেও বহু আগেই পরিবর্তন হতো। বরং স্যাংকশন দিলে সেই দেশগুলো অন্য চিন্তা ভাবনা শুরু করে। আবার আমরা যখন মিয়ানমারের ওপর স্যাংকশন দিতে বলতাম তখন তারা বলতো না এই স্যাংকশন দিয়ে কোন কিছু পাওয়া যায় না। অথচ তারাই কিন্তু এখন আবার রাশিয়ার ওপর স্যাংকশন দিচ্ছে, অথচ মিয়ানমারের ওপর বড় ধরনের স্যাংকশন কিন্তু এখনও আসেনি। এই স্যাংকশনটা এখন একটা রাজনীতির ইনস্ট্রুমেন্টে পরিণত হয়েছে। আবার আমাদের যে ব্যবসা পশ্চিমা দেশের সাথে বিশেষ করে আমেরিকার সাথে হয়, তাতে আমরা যে লাভ করি তার অনেক গুণ বেশি লাভ কিন্তু করে আমেরিকার ইনভেস্টররা। এটা কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে। আমেরিকা এমন স্যাংকশন দেবে না যেখানে তাদের ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়। আমাদের ধারণা আমরাই বুঝি প্রফিট করি, যেহেতু আমাদের মার্কেটটা ওখানে। কিন্তু ওয়ালমার্ট বলি, জে সি পেনি এরাই তো লাভ করছে বেশি। আমাদের আরএমজি পাচ্ছে দশ টাকা তারা ওখানে পাচ্ছে চল্লিশ টাকা, পঞ্চাশ টাকা। আর যারা এসব কথা বলেন, তাদের এক পা কিন্তু ইতোমধ্যেই দেশের বাইরে, তাদের বেশিরভাগের ছেলেমেয়েরাই বাংলাদেশে থাকে না তারা পশ্চিমা দেশে থাকে। ফলে পশ্চিমা দেশের দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে তারা যতখানি আগ্রহী বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে তারা ততখানি আগ্রহী নয়। আমাদেরও তাই সচেতন হওয়া দরকার।
সময় সংবাদ: ডোনাল্ড লু ও তারপর ডেরেক শোলের আগমনের এজেন্ডা কী বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নাকি রোহিঙ্গা ইস্যু?
ড. ইমতিয়াজ: মি. ডোনাল্ড লু যখন এসেছিলেন তখন আমাদের পক্ষে বলা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে গত বছরের মার্চ মাসেই জানিয়েছিল যে মিয়ানমার মিলিটারি একটা জেনোসাইড করেছে। কিন্তু এক বছর পার হয়ে গেলেও তারা এ ব্যাপারে কোনো ফলোআপ করেনি। তখন মি. লু বলেছিলেন আপনারা আর একটু অপেক্ষা করেন আগামী মাসে ডেরেক শোলে আসছেন, তিনি আপনাদের সামনে এ ব্যাপারে অবস্থান তুলে ধরবেন । মি. ডেরেক শোলের আসার মূল কারণ কিন্তু সেটাই, অর্থাৎ রোহিঙ্গা সঙ্কট।
সময় সংবাদ: রোহিঙ্গা প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের অবস্থান কি দাঁড়াতে পারে ?
ড. ইমতিয়াজ: এখন রোহিঙ্গা প্রশ্নে কিন্তু বড় পরিবর্তন হয়েছে। আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলো অং সাং সু চির সমর্থক বিদ্রোহী ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্মেন্টকে সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে। এখন আমেরিকা হয়তো বাংলাদেশকে বলতে পারে আমি রোহিঙ্গা প্রশ্নে তোমাদের পাশে এসে দাঁড়াবো তার শর্ত হিসেবে আমি চাই তুমি ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের পক্ষে দাঁড়াবে।
সময় সংবাদ : বাংলাদেশের কী যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব মেনে নেয়া ঠিক হবে ?
ড. ইমতিয়াজ: আমি মনে করি বাংলাদেশ সে ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী হবে না। কারণ মনে রাখতে হবে, মিয়ানমার আমাদের নেইবার। আজকে আমেরিকা এটা বলছে কালকে হয়তো সে তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে। এ অবস্থায় আমরা মিয়ানমারের সাথে একটা বৈরী সম্পর্ক করতে পারি না।তবে আমেরিকা কি করতে চাচ্ছে মিয়ানমার প্রশ্নে সেটা আমরা এখন পর্যন্ত জানি না। তবে আমার মনে হয় সে ব্যাপারেই হয়তো ডেরেক শোলের আগমন।
সময় সংবাদ: মিয়ানমার প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান কী হওয়া উচিত?
ড. ইমতিয়াজ: তারা হয়তো মিয়ানমারের ওপর বড় ধরনের চাপ দিতে পারে। তবে আমাদের পক্ষে সরাসরি ন্যাশনাল ইউনিটি সরকারের পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়। কারণ আমরা মনে করি এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় তাদেরকেই সমাধান করতে হবে। আমরা মিয়ানমারের মিলিটারির সাথে এমন সম্পর্ক তৈরি করতে চাচ্ছি না যে তারা কথা বলাই বন্ধ করে দেবে। কারণ আমাদের মনে রাখতে হবে, মিয়ানমারে যে সরকারই আসুক মিয়ানমারের মিলিটারি কিন্তু থাকবে।
কিউএনবি/আয়শা/২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩/রাত ৮:১৫