রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

চৌগাছায় বিএনপির ৫১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা, আটক ৯

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
  • ২২৫ Time View

এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় ৫১ জন বিএনপি নেতাকর্মীর নামে নাশকতার মামলা করেছেন পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ দাবি করেছেন দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল সাদৃশ্য হাত বোমা, বিভিন্ন সাইজের কাঠের ৭টি বাটাম, ৫টি লোহার রড ও ৭টি বিভিন্ন সাইজের ইটের টুকরো জব্দ করা হয়েছে। চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ আশিকুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলাটি করেছেন। শনিবার রাতের অভিযান চালিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে এ মামলার ৯ আসামিকে আটক করেন পুলিশ। রবিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন- চৌগাছা পৌর যুবদলের সভাপতি কুঠিপাড়া গ্রামের সালাহউদ্দিন আহমেদ, পাতিবিলা ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের ইউপি সদস্য মোমিনুর রহমান, পাতিবিলা গ্রামের মফিজুর রহমান সুজন ও কবীর হোসেন, মুক্তদহ গ্রামের ইয়াছিন আলী,ফুলসারা ইউনিয়নের আঁফরা গ্রামের বিল¬াল হোসেন ও জহুরুল ইসলাম, হাকিমপুর ইউনিয়নের বেড় তাহেরপুর গ্রামের তরিকুল ইসলাম ও হাকিমপুর গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন।

এছাড়া এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসানকে ১ নম্বর ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জহুরুল ইসলামকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।অন্য আসামিরা হলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সিংহঝুলী ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুচ আলী দফাদার ও তার ছেলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবু বক্কার সিদ্দিক, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক স¤পাদক ও পৌর কাউন্সিলর সহিদুল ইসলাম ও তার ছোট ভাই লোকমানহোসেন, উপজেলা যুবদেলর সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম ওয়াশিম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ. পাশাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রভাষক ড. জহুরুল ইসলাম, হাকিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, হাকিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপিসদস্য দেলোয়ার হোসেন, স্বরুপদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ স¤পাদক মাস্টার শহিদুল ইসলাম, হাকিমপুর দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা সামাদুল ইসলামসহ ৫১ জনের নাম উলে¬খ করে এবং অজ্ঞাত ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী সৈয়দ আশিকুর রহমান লিখিত এজহারে বলেন, সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল সাদৃশ্য হাত বোমা, বিভিন্ন সাইজের কাঠের ৭টি কাঠের বাটাম, ৫টি লোহার রড ও ৭টি বিভিন্ন সাইজের ইটের টুকরোসহ চৌগাছা থানায় হাজির হইয়া পালাতক আসামিগণ (নাম উলে¬খ)সহ ২০০/২৫০ জন আসামিদের বিরুদ্ধে এই মর্মে এজহার দায়ের করিতেছি যে, চৌগাছা থানার জিডি নং-৪৮৭, তারিখ- ১১/০২/২০২৩ ইং মূলে আমি সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ চৌগাছা থানা এলাকায় জরুরি মোবাইল ডিউটি চলাকালীন চৌগাছা থানাধীন ভাস্কর্যের মোড়ে অবস্থানকালে ইং ১১/০২/২০২৩ তারিখ ৪টার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানিতে পারি যে, বেগম খালেদা জিয়া ও নেতাকর্মীদের মুক্তিসহ ১০ দফা দাবীতে ইউনিয়ন পদযাত্রার নামে যশোর জেলার চৌগাছা থানাধীন হাকিমপুর গ্রামস্থ হাকিমপুর দাখিল মাদরাসার সামনে চৌগাছা টু কোটচাঁদপুরগামী পাঁকা রাস্তার উপর বিএনপির নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতামূলক কর্মকান্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যে ও হামলা করার জন্য লাঠি-সোটা, ইটপাটকেল, লোহার রড ও ককটেল/বোমা নিয়া অবস্থানসহ রাস্তায় যানচলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিয়া রাষ্ট্রীয় স¤পদ ক্ষতি ও জনমনে ভীতি এবং ত্রাস সৃষ্টি করিয়া অপরাধমূলক অত্মঘাতী কাজে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করিতেছে।

ঘটনার সত্যতা যাচাই ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনা করে সাড়ে ৪টায় ঘটনাস্থলে পৌছাইয়া উলে¬খিত আসামিসহ অজ্ঞাত আসামিদের উক্ত বেআইনি অত্মঘাতী কাজে লিপ্ত দেখি। পুলিশের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থক নাশকতাকারী লোকজন যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে করতে দিক-বিদিক ছুটাছুটি করে পাশ্ববর্তী বাগান ও মাঠের মধ্যে দিয়ে পালিয়ে যায়। আমি ও সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করি। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হইলে আমি সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সহায়তায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বাক্ষী আক্তারুজ্জামান মিলন (ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি), মামুন কবীর (ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক),আব্দুল জব্বার, আকরাম হোসেন ও অহিদুল ইসলামসহ (স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা) আরো অনেকের সম্মুখে ঘটনাস্থলে আসামিদের ফেলে যাওয়া লাল টেপ দ্বারা মোড়ানো দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল সাদৃশ্য হাত বোমাসহ বিভিন্ন লাঠি উদ্ধার করি।

এজহারে বলা হয়, আসামিরা একে অপরকে সহায়তা করে নাশকতার লক্ষে সমাবেত হয়ে এবং ককটেল সাদৃশ্য হাত বোমা নিজেদের দখলে রেখে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১৫(৩)/২৫-ডিসহ ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক উপাদানাবলী আইনের ৪/৫/৬ ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ করিয়াছে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩/বিকাল ৫:৫৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit