ডেস্ক নিউজ : ঘুষ লেনদেন ও অর্থপাচারের দায়ে দণ্ডিত দুর্নীতি দমন কমিশনের বরখাস্ত পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের জামিন স্থগিত করা হয়েছে। হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে আজ মঙ্গলবার তা স্থগিত করেন আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের চেম্বার আদালত। আগামী ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত জামিন স্থগিত করে ওই দিন দুদকের আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য রেখেছেন আদালত। এ সময়ের মধ্যে হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুদককে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলা হয়েছে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে রয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তার সাজা হয়েছে। তা ছাড়া হাইকোর্টের যে বেঞ্চ তাকে জামিন দিয়েছেন, সে বেঞ্চ জামিনের ক্ষেত্রে তার অপরাধের গুরুত্ব যথাযথ বিবেচনায় নেননি। ফলে তাকে জামিন দেওয়া যুক্তিযুক্ত হয়নি। ’
তিনি আরো বলেন, ‘এসব যুক্তিতে এনামুল বাছিরের জামিন স্থগিত চাওয়া হয়েছিল। চেম্বার আদালত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে দুদকের আবেদনটি ৫ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য রেখেছেন। এ সময়ের মধ্যে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করতে বলা হয়েছে। ’
গত ১৭ নভেম্বর বিচারপতি মো. রইস উদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এনামুল বাছিরকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছিলেন। এনামুল বাছিরের নামে আর কোনো মামলা না থাকায় হাইকোর্টের জামিনে তার মুক্তিতে বাধা ছিল না বলে সেদিন জানিয়েছিলেন তার আইনজীবী ফারুক আলমগীর চৌধুরী।
ঘুষ লেনদেন ও অর্থপাচারের মামলায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ মামলায় রায় দেন। রায়ে দুদকের বরখাস্ত পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে আট বছর ও পুলিশের বরখাস্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।
এর মধ্যে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে মিজানকে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারায় ও বাছিরকে দণ্ডবিধির ১৬৫(এ) ধারায় তিন বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের ৪ ধারায় বাছিরকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৮০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বাছিরের দুটি দণ্ড একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে বলে দেওয়া হয়। অর্থাৎ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বাছিরকে।
তবে দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় তারা দোষী সাব্যস্ত হলেও একই ধরনের অভিযোগে দণ্ডিত হওয়ায় এ ধারায় কাউকে সাজা দেননি বিচারিক আদালত। এ রায়ের পর গত ১৩ এপ্রিল এনামুল বাছিরের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে তার অর্থ দণ্ড স্থগিত করেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে বিচারিক আদালতের যাবতীয় নথি তলব করেন উচ্চ আদালত।
এরপর গত ২৩ আগস্ট এনামুল বাছিরকে তার আপিল নিষ্পত্তি পর্যন্ত জামিন দেন হাইকোর্টর একটি বেঞ্চ। তবে পরদিনই সে জামিন প্রত্যাহার করে নেন আদালত। বাছিরের আপিলের সাথে জামিন আবেদন ছিল না বলে জামিন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় বলে আদেশে জানান হাইকোর্ট। এরপর নতুন করে জামিন চেয়ে আবেদন করলে সে আবেদনে গত ১৭ নভেম্বর তার জামিন হয়। গত এপ্রিলে একই মামলায় দণ্ডিত বরখাস্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে জামিন দেন হাইকোর্ট।
কিউএনবি/আয়শা/২২ নভেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/রাত ৯:১৪