ডেস্ক নিউজ : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ইউএনও। নিহত শিক্ষকের অসহায় স্ত্রীর হাতে তুলে দিলেন খাদ্যসামগ্রী। তার মধ্যে ছিল ১০ কেজি চাল, ডাল, তেল, চিড়া, গুড়সহ ৯ পদের সামগ্রী। এ সময় কয়েক দিনের মধ্যেই বসতঘর মেরামতের জন্য দুই বান্ডেল টিন, ১০ হাজার টাকা ছাড়াও ২৫ হাজার টাকা দিয়ে দোকান নির্মাণ, ভিজিএফের আওতায় আনা এবং সন্তানদের বিনাখরচে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান শাহিনুর বেগম ও মেম্বার শিপন মোল্লাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার দুপুর ২টা ৫ মিনিটে ‘ভিক্ষা করছে খুন হওয়া শিক্ষকের ছেলে’-এ শিরোনামে যুগান্তর অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এটি নজরে আসে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোসেন আকন্দ ও রায়পুরের ইউএনও অঞ্জন দাশসহ কর্মকর্তাদের। শিক্ষকের স্ত্রী কোহিনুর বেগম বলেন, আমি জীর্ণশীর্ণ ভাঙা ঘরে তিন সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছি। ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে প্রতিবন্ধী ছেলেকে রাস্তায় নামিয়েছি ভিক্ষা করতে। এ সংবাদ পেয়ে যুগান্তরের সাংবাদিক আমাকে সহযোগিতা করেন এবং প্রশাসনের মাধ্যমে সহযোগিতা নিয়ে দেওয়ায় আমি খুব খুশি। আমরা যুগান্তরের কাছে কৃতজ্ঞ।
ইউএনও অঞ্জন দাশ বলেন, যুগান্তর অনলাইনে মানবিক এ রিপোর্টটি দেখেই জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দের নির্দেশনায় কেরোয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কেরোয়া গ্রামের নিহত শিক্ষকের প্রতিবন্ধী কিশোর ছেলে রিফাত হোসেন ও তার মা কোহিনুর বেগমের বাড়িতে পরিদর্শনে যাই। জেলা প্রশাসকের সরকারি তহবিল থেকে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে প্রতিবন্ধী রিফাত হোসেন ও তার পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য একটা দোকান ভাড়া করে মালামাল তোলার ব্যবস্থাসহ আরও ১০ হাজার টাকার আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হবে। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ১০ কেজি চাল, ডাল, তেলসহ খাদ্য সহায়তা ও দুই বান্ডিল টিন দিয়ে ঘর মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।
কিউএনবি/আয়শা/২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/দুপুর ১:২৪