শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
জাতীয় স্মৃতিসৌধে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার সময়ে এক নারী আটক সৌদিতে স্ট্রোক করে বাংলাদেশির মৃত্যু   তেল পেতে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন, সীমিত সরবরাহে বাড়ছে ভোগান্তি আটোয়ারীতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা দবির উদ্দীনের লাশ দাফন ভিয়েতনামের সঙ্গে তিন গোলে হারল বাংলাদেশ রাঙামাটিতে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান; ৪শ’ ইয়াবাসহ গ্রেফতার-৩৬ ‎তবে কি দেশ স্বাধীন করাই আমার অপরাধ? অপমানে কাঁদলেন বীর প্রতীক আজিজুল হক ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্তে দুশ্চিন্তায় বিশ্বকাপের পাঁচ দেশ নরসিংদীতে মাদকসেবীদের হামলায় মসজিদের ইমাম জখম আটোয়ারীতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

ঘুমধুমের তুমব্রু সীমান্তে আতঙ্ক : ঘুমহীন ঘরবন্দি জীবন

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ২১৪ Time View

ডেস্কনিউজঃ মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান গোলাগুলির কারণে বান্দরবানের ঘুমধুমের তুমব্রু সীমান্তে বসবাসকারীদের মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না। রাত-দিন অব্যাহত গোলাগুলির কারণে সীমান্তবর্তী এলাকার ৩০০ পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে প্রশাসন।

সীমান্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তুমব্রু এলাকা পরিদর্শন করেছেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি। এদিন বেলা ১১টার দিকে ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে এসে জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন স্কুল ঘুরে দেখেন তিনি।

ঘুমধুম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলা প্রশাসনের বৈঠকে ঝুঁকিতে থাকা সীমান্তের নিকটবর্তী ৩০০ পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছে।

ঘুমধুম বাজার এলাকার বাসিন্দা মোস্তাকিম আজিজ (২৬) জানান, সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরকান আর্মি মাঝে চলমান সংঘাতে আমরা খুবই আতঙ্কে রয়েছি। দিন-রাত সমানে গুলিবর্ষণ চলছে। দেড় মাস ধরে চলা এ সংঘাতে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা স্বজনদের কাছে নিরাপদ স্থানে সরে গেছে। তুমব্রু বাজারের প্রায় সব দোকানপাট বন্ধ।

ঘুমধুম ইউপির ৩নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোহাম্মদ আলম বলেন, রোববার রাতেও মিয়ানমারের মংডুর তুমব্রু, পানিরছড়া ও রাইম্মাখালি গ্রাম গুলোতে প্রচণ্ড গোলাগুলি চলেছে। গুলির শব্দে রাত জেগে সময় কেটেছে সীমান্তে বসবাসকারীদের। আতংকে ধান চাষ, ক্ষেত খামার ও শাকসবজির ক্ষেতেও যাওয়া যাচ্ছে না।

গৃহিনী স্বপ্না বালা (৫০) বলেন, চাষাবাদ দেখতে যাওয়া দূরে থাক, ঘর থেকে বের হওয়াও কঠিন। গোলাগুলির বিকট শব্দে শিশুরাও কেঁপে উঠছে। এলাকার বাইরে আত্মীয়-স্বজন না থাকায় এলাকাও ত্যাগ করা যাচ্ছে না।

বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম তারিক বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সীমান্তে বসবাসরত লোকজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত লোকজনের নিরাপত্তায় কাজ করছি আমরা। সার্বিক গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হচ্ছে।

অপরদিকে, কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালীর সীমান্তবর্তী এলাকার অর্ধশতাধিক পরিবারকেও নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া পরামর্শ দিয়েছেন পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী। ওপারে ব্যাপক গোলাগুলিতে সীমান্তের এসব পরিবার আঘাতপ্রাপ্ত হবার আশংকায় উপজেলা প্রশাসনের কাছে এ আবেদন করেন চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি অব্যাহত থাকায় সীমান্তে বাংলাদেশি যেসব পরিবার ঝুঁকির মুখে রয়েছে, তাদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে, সেখানে বসবাসকারীদের মতামতেই তাদের সরানো হবে। প্রাথমিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়া আছে, পরিস্থিতি খারাপ হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সরকার। সীমান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে। ঝুঁকির মুখে স্থানীয়দের সরিয়ে নিতে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। মূলত তুমব্রু, ঘুমধুম, ফাত্রাঝিরি সীমান্তের খুব কাছে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সরানো হবে। সরানো পরিকল্পনায় থাকা ৩০০ পরিবারের আশ্রয়ের জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে। মূল কথা, সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সব কিছু গুছিয়ে রাখা হচ্ছে।

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনের আগে ঘুমধুম ইউপি কার্যালয়ে স্থানীয়দের ঝুঁকির বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা ফেরদৌস, ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সীমান্তে আতংকের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা চিন্তা করে উখিয়ার কুতুপালংয়ে সরিয়ে নেওয়া ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসির পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার।

উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট মিয়ানমার থেকে নিক্ষেপ করা ২টি মর্টার শেল অবিস্ফোরিত অবস্থায় ঘুমধুমের তুমব্রু’র উত্তর মসজিদের কাছে পড়ে। এ ঘটনার পাঁচ দিন পর গত ৩ সেপ্টেম্বর ঘুমধুম এলাকায় দুটি গোলা পড়ে এবং ৯ সেপ্টেম্বর একে ৪৭ এর গুলি এসে পড়ে। তবে গত শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মাইন বিস্ফোরণ ও গুলি-মর্টার শেল নিক্ষেপে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে নো ম্যান্স ল্যান্ডে বসবাসরত রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। তুমব্রু বাজার ও উত্তরপাড়া, বাইশারি সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থান রয়েছে। সহজে কাউকে সীমান্ত এলাকাসহ বাজার, গ্রামে ঢুকতে দিচ্ছে না।

বিপুল/১৯.০৯.২০২২/ রাত ৮.৫২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit