সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
৮৬ রানের লক্ষ্য দিয়েও চ্যাম্পিয়ন, টি-টোয়েন্টিতে ইতিহাস রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের বিক্ষোভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদোর বিয়ের কার্ড, দাওয়াত পেয়েছিলেন মেসি? ‎সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চাই গড়বে মেধাবী ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম—–লালমনিরহাটে ত্রাণমন্ত্রী দুলু ইরানে হামলার বিষয়ে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন সৌদি যুবরাজ যুদ্ধবিরতি নাকি প্রতারণার ছক— ট্রাম্প আসলে কী চান? সাবেক এমপি তুহিনসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা চলতি মাসে দেশজুড়ে টানা বৃষ্টি ও বন্যার আভাস তিন দিনের মধ্যে বন্যার আশঙ্কা, প্লাবিত হতে পারে যেসব জেলা আগুনে আর ঘি ঢালবেন না: হৃতিককে কেন বললেন কঙ্গনা

নির্বাচনমুখী রাজনীতিতে বেড়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৫ জুলাই, ২০২২
  • ১০৫ Time View

ডেস্কনিউজঃ নির্বাচনমুখী রাজনীতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা অনেকটাই বেড়ে গেছে। বিগত দুটি ‘বিতর্কিত’ জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আগামী নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক হতে পারে, সেই ‘পরিবেশ’ তৈরির লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা বেশ সোচ্চার ভূমিকায় রয়েছেন। নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে তারা এখন নিয়মিতই বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে আগামী নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ভাবনাগুলো তারা বোঝার চেষ্টা করছেন। একই সাথে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে যেকোনো সহযোগিতারও আশ্বাস দিচ্ছেন তারা।

২০২৩ সালের ডিসেম্বর অথবা ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন। রাজনৈতিক দলগুলো ওই নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় এজেন্ডা প্রস্তুত করছে। বিরোধী দলগুলো ‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার’ ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে সরকারি দল বিরোধীদের হুমকি-ধমকি পাত্তা না দিয়ে নির্বাচনে জিতে টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসার পরিকল্পনা আঁটছে।

তবে বিগত দুটি জাতীয় (২০১৪ ও ২০১৮) নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশে নানামুখী বিতর্ক তৈরি হওয়ায় আগামী নির্বাচন নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়েও এক ধরনের অনিশ্চয়তার কথা বলা হচ্ছে কোনো কোনো মহল থেকে। বিএনপির নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো আন্দোলনে নামতে মোক্ষম সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী নির্বাচনকে তারা ‘চ্যালেঞ্জে’ ছেড়ে দিতে চায় না। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকার পতনের হুঁশিয়ারিও দেয়া হচ্ছে। এমন একটি অবস্থায় নির্বাচন সামনে রেখে কূটনৈতিক তৎপরতাও বেশ বেড়েছে।

বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। দেশটি আগামীতে একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আশা করছে। গত ৫ জুলাই মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুকে এক পোস্টে বলা হয়, ‘গণতন্ত্র হলো শান্তি, সমৃদ্ধি এবং নিরাপত্তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মানবতার সবচেয়ে স্থায়ী উপায়। আর গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো নির্বাচন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের নেতা নির্বাচন করবে বলে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশা করে।’ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস নতুন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালের সাথে বৈঠককালেও সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের ওপর জোর দেন। গত ৩ জুলাই বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাইকমিশনের নেতৃত্বে অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টভুক্ত (ওইসিডি) ১৪টি দেশের রাষ্ট্রদূতরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ইসি সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করে আগামী নির্বাচন নিয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন। ওই বৈঠক শেষে প্রতিনিধিদলের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথাল চুয়ারড।

বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন বিষয়ে নাথাল চুয়ারড বলেন, ‘নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত, দেশের গণতন্ত্র আরো কার্যকর ও শক্তিশালী করা এবং অংশগ্রহণমূলক ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিতে সহায়ক অবস্থা তৈরি এবং সব অংশীজনের যথাযথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা নির্বাচন কমিশনকে যেকোনো প্রকার সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। গণতান্ত্রিক ধারা আরো শাণিত করার মধ্য দিয়ে নাগরিকদের আকাক্সক্ষা প্রতিফলন ঘটাতে সহায়তা করতে চায় ওইসিডির সদস্য দেশগুলো।

ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকোলসও। তিনি পরে নিজের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেন, ‘বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্পষ্টতই নজর রাখছে।’

কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, কূটনৈতিক পার্টিগুলোতেও এখন মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে আগামী নির্বাচন। এসব পার্টিতে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাও নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরছেন।

চলতি সপ্তাহে ঢাকায় জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়ক জিন লুইস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াটলি বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠককে বিএনপির তরফ থেকে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলা হলেও দেশের রাজনৈতিক অবস্থা ও আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গও আলোচনায় উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। আগামী নির্বাচনে বিএনপির অবস্থানও তুলে ধরা হয় এসব বৈঠকে। বিএনপির নেতারা মনে করেন, মাঠের আন্দোলনের পাশাপাশি কূটনৈতিক সংযোগও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে তারা প্রভাবশালী দেশগুলোর সোচ্চার ভূমিকা প্রত্যাশা করে।

অন্য দিকে আওয়ামী লীগও তাদের মিত্র দেশগুলোর সাথে সংযোগ রক্ষা করে চলছে। র্যাব ও পুলিশের ৭ কর্মকর্তার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রভাবও তারা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছে।

কিউএনবি/বিপুল/১৫.০৭.২০২২/দুপুর ১২.৪০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit