ডেস্ক নিউজ : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টিতে ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোনাভরি নদীতে আশঙ্কাজনক হারে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। এতে কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা দেখছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে তীব্র স্রোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ফলে ঘর-বাড়ি, বসতভিটা আবাদি ফসলসহ নানা স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে অতিদ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরদাবি জানিয়েছেন ভাঙন এলাকার পরিবারগুলো। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও সোনাভরি পানি অব্যাহত বৃদ্ধির ফলে বসতবাড়িতে উঠতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এতে বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া শত শত একর জমির পাট, তিল, কাউন, বাদাম, শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে চলে যাচ্ছে।
রবিবার (২০ জুন) ব্রহ্মপুত্র ও সোনাভরি নদের বিভিন্ন বিস্তীর্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কোদালকাটি ইউনিয়নের চর সাজাই, পাইকান্টারী পাড়া, পাখিউড়া, দুলাল মোড়, আনন্দবাজার, শংকর, মাধবপুরসহ মোট ৩৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছ। মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের ভেলামারী, বড়বের, কীর্তনটারী, নাওশালা, শিকারপুর, চরনেওয়াজী, নয়াচরসহ ১৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। রাজিবপুর সদর ইউনিয়নের বালিয়ামারী, ব্যাপারীপাড়া, মিয়াপাড়া, বাউলপাড়া সপ্তাহ খানেক আগে প্লাবিত হলেও মদনেরচর, বদরপুর, মেম্বরপাড়া, মুন্সিপাড়া, করাতিপাড়াসহ ১২টি গ্রাম তীব্র স্রোতে পানি ঢুকে প্লাবিত হচ্ছে প্লাবিত হচ্ছে আরো নতুন নতুন গ্রাম। চর রাজিবপুর উপজেলায় মোট ৬৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার গোলাম কিবরিয়া জানান, এরই মধ্যে সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ও পাঁচটি মাদরাসা এবং ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে যেভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে তাতে আরো অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হতে পারে। কোদালকাটি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মিয়া চান বলেন, বাড়িতে পানি উঠছে, কোথায়ও রান্না করে খেতে পারি না, চুলা পানির নিচে, কলা গাছের ভ্যালা পারি দিয়ে অন্যের বাড়িতে গিয়ে রান্না করে খেতে হয়।
বন্যা পরিস্থিতি বিষয়ে রাজিবপুরে ২ নম্বর কোদালকাটি ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ছক্কু বলেন, “এ বছর আমাদের এলাকায় বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সকল ফসল পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে বন্যা ভয়াবহ আকার নিতে পারে। সরকারিভাবে এখনও কোনো ত্রাণসামগ্রী হাতে পাইনি। “রাজিবপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান মিরন মো. ইরিয়াস জানান ও মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বলেন, এই খারাপ পরিস্থিতিতে সরকারি অনুদান দরকার।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত চক্রবর্তী জানান, “বন্যা ও নদী ভাঙন এই অঞ্চলের প্রধান সমস্যা। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রশাসনিকভাবে সাময়িক প্রস্তুতি নিয়েছি। অতি দ্রুত দুর্গম এলাকায় অসহায়দের জন্য কিছু ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়া হবে। “বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে আগামী কয়েকদিন জেলার কয়েকটি নদীতে পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। “
কিউএনবি/আয়শা/২০.০৬.২০২২ খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৪:০৭