বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রায় ১১০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেন্ট কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আগামী এক বছরের জন্য সাতজন নেতা নির্বাচন করেন। নির্বাচনে ভোট গ্রহন সফলে সকল ম্যাজিস্ট্রেট, আইনশৃংখলা বাহিনী, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রার্থী ও ভোটার সবাই বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সকাল নয়টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহন।
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে এমন আয়োজন। ভোটে নির্বাচিতরা নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সহপাঠ কার্যক্রম, পানি, ফুলের বাগান, পাঠ্য বই, আপ্যায়ন ইত্যাদি বিষয়ে দেখভাল করবে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ি ২০১১ সাল থেকে স্টুডেন্ট কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে গত দু’বছর যাবত নির্বাচন করা যায়নি।
ভোট দেওয়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার আদর্শ কেজি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বিন্দু পাল, নবীন হোসেন ও ওমর আহমেদ জানায়, জীবনে প্রথম ভোট দিতে পেরে তারা বেশ খুশি। এখন সহপাঠিদের ভোট দিয়ে বড় হয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দেওয়ায় কোনো জড়তা থাকবে না।
ওই ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবক শারমীন সুলতানা, টুম্পা পাল, রুহুল মিয়া বলেন, ‘এই নির্বাচন বেশ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি নেতৃত্ব দেয়ার বিষয়টি শিক্ষার্থীরা স্কুল পর্যায় থেকে শিখতে পারবে।’আখাউড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মৌসুমী আক্তার সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিলে নির্বাচিতরা সহপাঠির মতামতকে গুরুত্ব দিবে। এতে তারা গণতন্ত্রের শিক্ষা লাভের পাশাপাশি ভবিষ্যতে জনপ্রতিনিধি হওয়ার গুণাবলি অর্জন করবে।’
সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার উম্মে সালমা বলেন, ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল নি:সন্দেহে সরকারের একটি প্রসংশনীয় উদ্যোগ। এই নির্বাচন শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। শিশুকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা গণতন্ত্রের চর্চা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে।’