আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বেলারুশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বেল্টার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২৩ মে) জাতিসংঘের মহাসচিব আন্থোনি গুতেরেসকে লেখা এক চিঠিতে বলা হয়, ইউক্রেনের নিরাপত্তা জোরদারের জন্য আন্তর্জাতিক তৎপরতা ও বিস্তারকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের হুমকি হিসেবে দেখছেন লুকাশেঙ্কো। সম্ভাব্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এড়িয়ে ইউরোপে এই আঞ্চলিক সংঘাত প্রতিরোধ করতে বিশ্বকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের কিছু শক্তিশালী দেশ ইউক্রেনে কোটি কোটি ডলার ও অস্ত্র সরবরাহ করছে। রাশিয়ার সামরিক অভিযানের নিন্দা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কিন্তু নেতারা রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এড়িয়ে গেছে। যুদ্ধ বন্ধে ও পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকি এড়াতে রাশিয়ার সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা নেই।
বেলারুশের নেতা ইউক্রেনে অস্ত্র বিক্রি না করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছেন। একইসঙ্গে হুমকিস্বরূপ বলেন, বেলারুশের কাছেও রুশ পারপাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। লুকাশেঙ্কো বরাবরই জাতিসংঘকে শান্তিরক্ষাকারীর ভূমিকা পালনের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। ইউক্রেনে অভিযান পরিচালনাকারী রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো নিন্দা না জানিয়ে লুকাশেঙ্কো বলেন, রাশিয়ার কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে ইউক্রেনে পরিস্থিতি জটিল করছে পশ্চিমারা।
এদিকে সোমবার (২৩ মে) রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে এক বৈঠকে লুকাশেঙ্কো বলেন, পশ্চিমারা ইউক্রেনকে চুরমার করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, ইউক্রেনের পশ্চিম অংশ দখল করতে চায় পোল্যান্ড ও ন্যাটো। যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, পশ্চিম ইউক্রেনের বেলারুশ ও রুশ সীমান্তে ন্যাটো সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে। একই বৈঠকে পুতিন বলেন, রুশ অর্থনীতিতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেই আঘাত সামলে নিতে সক্ষম মস্কো।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনায় শুরু থেকেই হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন। এর আগেও তিনি বলেছিলেন, পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপ রাশিয়াকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তার এমন আশঙ্কা থেকে তাকে পুতিনের উসকানিদাতা হিসেবে দেখা হয়েছিল।
নিষেধাজ্ঞায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া রাশিয়ার দীর্ঘদিনের মিত্র বেলারুশের উত্তরে ইউক্রেনের সীমান্ত রয়েছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়াকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার ও সেনা সহায়তা করে আসছে দেশটি। চলমান যুদ্ধে রাশিয়াকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানালেও সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই বলেও জানিয়েছে বেলারুশ।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে হামলা চালানোর নির্দেশ দেন। এরপর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রুশ বাহিনী। টানা তিন মাসের লড়াইয়ে বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। ধ্বংস হয় বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক স্থাপনা। ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ গুরুত্বপূর্ণ সব শহর। হামলা থেকে বাঁচতে ইউক্রেন থেকে পালিয়েছে লাখ লাখ মানুষ।
কিউএনবি/আয়শা/২৪.০৫.২০২২ খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৩:১৪