রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন

উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে আখাউড়া উপজেলার ১১৩টি গ্রাম

বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ।    
  • Update Time : রবিবার, ২২ মে, ২০২২
  • ১২১ Time View
বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার প্রতিটি গ্রামে পৌঁছে গেছে বিদ্যুতের আলো। গ্রামীণ সড়ক এখন হয়েছে পিচঢালা। কাচা বা মাটির ঘর এখন আর তেমন চোখে পড়ে না অধিকাংশ বাড়ি পাকা ও আধাপাকা।সরকারের স্থায়িত্বে উন্নয়নের সুফল প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে আর ক্রমশ বদলে যাচ্ছে সবকিছু। ভূমিহীন-গৃহহীনরা সরকারের দেয়া বিনা পয়সায় ঘর পাচ্ছে।শহরের মতোই রাতের অন্ধকার দূর করতে গ্রামের রাস্তার মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে সোলার লাইট, বিনা টাকায় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে খুলতে পারছে এজেন্ট ব্যাংক একাউন্ট, ইন্টারনেট, স্যাটালাইট টেলিভিশন চ্যানেলসহ তথ্য প্রযুক্তির সকল সেবা পাওয়া যাচ্ছে গ্রামে বসেই।শহরের আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলাতে শুরু করেছে গ্রামগুলো। শহরের সুবিধা পৌঁছেছে এখন পাওয়া যাচ্ছে গ্রামেই। বদলে গেছে গ্রামীণ জীবন। পুরুষদের পাশাপাশি স্বাবলম্বী এখন গ্রামের নারীরাও। এতে সংসারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেমন হচ্ছে তেমনিভাবে পাল্টে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি।
৯৮.০৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের আখাউড়া উপজেলার জনসংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪শ’ ৭৮ জন। একটি পৌরসভা ও ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলায় গ্রাম রয়েছে ১১৩টি।আর এই উপজেলায় সাক্ষরতার হার ৫২.৭% আখাউড়ার গ্রামগুলোর প্রায় শতভাগ ছেলেমেয়ে স্কুলে যায়। আখাউড়াতে অজপাড়াগাঁও শব্দটি আর নেই। পরিবর্তনের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে সবকিছুই। পালাবদল ঘটেছে গ্রামীণ অবকাঠামোতে, খাদ্যের প্রাপ্যতায়, জীবনযাত্রার মানে, যোগাযোগ ব্যবস্থায়, শিক্ষায় ও স্বাস্থ্যের। মাটির ঘরের জায়গায় এসেছে পাকা দালান ঘর। শুধু কৃষিকাজ নয়, গ্রামের মানুষ এখন বহু ধরনের পেশায় নিজেদের যুক্ত করে জীবন বদলে নিচ্ছে। উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম কৃষ্ণনগর, বনগজ, জয়নগর, নুনাসার।
এক সময় বছরের পর বছর ধরে অবহেলিত ছিল। পাকা সড়ক না থাকায় শহর থেকে কোন যানবাহন এসব গ্রামে যেতো না। গ্রামের মানুষ বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে উপজেলা সদরে আসতো। এখন দিন বদলে গেছে উপজেলা সদর থেকে একাধিক পাকা রাস্তা হয়েছে এই গ্রামগুলোতে। ফলে বদলে গেছে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা। উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে আখাউড়ার প্রত্যন্ত গ্রাম বনগজ ও কৃষ্ণনগর গ্রামেও। যে গ্রামের মানুষ কখনও ভাবতেই পারেনি বিদ্যুৎ আলোয় আলোকিত হবে তাদের গ্রাম। শুধু কৃষ্ণনগর নয়, সবচেয়ে বেশি রাস্তাঘাটের কাজ হয়েছে উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নে, এই ইউনিয়নের কোথাও কাঁচা রাস্তা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এছাড়াও মোগড়া ইউনিয়নের ধাতুর পহেলা কুসুমবাড়ি ব্রীজ ও সড়ক, কৃষ্ণনগর ব্রীজসহ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন জুড়েই রয়েছে পাকা সড়ক।আর এই গ্রামীণ সড়কগুলো মানুষের জীবনযাত্রা পাল্টে দিয়েছে। বর্তমানে পুরুষের পাশাপাশি নানামুখী কর্মে নিয়োজিত এলাকার নারীরাও। এসব গ্রামের উৎপাদিত নানা কৃষি পণ্য নিয়ে সহজেই যাতায়াত করছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে যেমন গতি এসেছে তেমনি অর্থনৈতিক উন্নয়নও হচ্ছে। দারিদ্র্য জয় করে প্রতিটি পরিবার এখন উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখেন।
অথচ কয়েক বছর আগেও কাঁচা রাস্তার কারণে এলাকার মানুষ বেকার সময় কাটাতেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে হাঁটুসমান কাদায় পরিণত হতো রাস্তা-ঘাট। এখন এলাকার প্রতিটি মানুষের আয় বেড়েছে। আর্থ-সামাজিক অবস্থাও বদলে গেছে। বাচ্চাদের উন্নতমানের স্কুলে পড়াশোনা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুতই উপজেলাসহ অন্যান্য জায়গায় যেতে পারছেন গ্রামের মানুষ। উপজেলার চাঁনপুর গ্রামের বাসিন্দা লিয়াকত আলী বলেন, এক সময় অন্যের জমিতে শ্রম দিলেও এখন নিজেই পাকা বাড়ি করেছেন। নিজের করা সবজি বাগানের উৎপাদিত পণ্য প্রতিদিন বিক্রি করে বেশ সচ্ছল তিনি। একই গ্রামের রকিব আলী বলেন, তিন বছর আগেও দৈনিক সবজি বিক্রি করার জন্য শহরে যেতো হতো এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় পাইকার ক্রেতারা জমিতে এসে সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছে।
ছোট কুড়িপাইকা গ্রামের মিন্টু মিয়া বলেন, এলাকার উন্নয়ন তথা রাস্তাঘাটের জন্য মানুষের নানা ধরনের কাজ বেড়েছে। এতে আয়ও বেড়েছে। নানা ধরনের আয়বর্ধক কাজে জড়িত হয়ে সবাই এখন অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল। রাস্তা ভাল হওয়ায় এলাকার অধিকাংশ ছেলেমেয়ে স্কুলে যায়। যারা অন্যের জমিতে কাজ করতেন তাদের অনেকেই ছোটখাটো ব্যবসা বা বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ করছেন। কেউ কেউ নিজের অটোরিক্সা বা ভাড়ায় চালিত অটোরিক্সা চালিয়েও জীবিকা নির্বাহ করছেন। সন্ধ্যার পর এসব এলাকা ছিল ‘ঘুমন্ত গ্রাম’। আর এখন এসব গ্রামের মানুষ রাত দশটারও বেশি সময় পর্যন্ত বসে টেলিভিশন দেখেন ও চায়ের দোকানে আড্ডা আর গল্পে মেতে ওঠেন। গ্রামের মহিলারা বাড়ির পাশে নানা ধরনের সবজির বাগান করেছেন। একসময় ধান ছাড়া এসব এলাকায় যাতায়াতের সঙ্কটের জন্য অন্য ফসল আবাদ করত না কেউ। আর বর্তমানে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই সবজির বাগান হচ্ছে।
বাণিজ্যিকভাবে করলা, শসা, লাউ, কুমড়া, বেগুন উৎপাদিত হচ্ছে এবং উৎপাদিত পণ্য দ্রুতই উপজেলাসহ জেলাসদরে পাঠাতে পারছেন। যাদের মাটির ঘর ছিল অর্থনৈতিক সচ্ছলতায় তারা এখন পাকা দালান ঘর তৈরি করছেন। দক্ষিণ ইউনিয়নের হীরাপুর গ্রামের ইসমাইল মিয়া বলেন, বানিজ্যিক ভাবে শশা চাষ করেছি বিক্রির জন্য একদিনও বাজারে যেতে হয়নি। পাইকাররা (পাইকারি ক্রেতা) আমার জমি থেকেই প্রতিদিন এসে নিয়ে যায়। মোগড়া ইউনিয়নের বাউতলা গ্রামের বেকার যুবক সেলিম মিয়া এখন নিজের একটি অটোরিক্সা চালিয়ে দৈনিক আয় করেন ৬০০-৮০০ টাকা। একটি রাস্তার কারণে আমরা কোন দিকেই বের হতে পারতাম না। এখন যাতায়াত যেমন সহজ হইছে আমাদের অনেকের আয়ের পথও খুলছে। গত কয়েক বছরে পাল্টে গেছে প্রান্তিক জীবন, পাল্টে গেছে অনেক গ্রাম।
বছরে দু’একবার যারা ঢাকা কিংবা অন্য শহর থেকে নিজ গ্রামে ফেরেন বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে উন্নয়নের চিত্র দেখে তারাও অবাক হয়ে যান। সেই সঙ্গে মনের অজান্তেই স্বপ্ন বুনেন শহর ছেড়ে গ্রামে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার। আখাউড়া উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান বলেন, গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়নের ফলে বদলে গেছে গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা। এখন ক্ষেতের সবজি ক্ষেত থেকেই ন্যায্য মূল্য বিক্রি করতে পারছে। ফলে শহরের যাওয়া ঝামেলা নেই, বাড়তি পরিবহণ খরচও

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২২.০৫.২০২২ খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৭:০৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit