
মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি : ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের আলাদিপুর গ্রামে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ সেই লেখক স্টিফান সরেন পরিবার পরিজন ও ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ মেটাতে জীবন জীবিকায় এখন ইটের ভাটায় ইট ভাংছেন। সরকারিভাবে এই আদিবাসী স্টিফান সরেনের কেউ খোঁজ রাখেনি। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদিপুর গ্রামের মৃত রুবেল সরেনের পুত্র স্টিফান সরেন (৪৭) ১৯৯৭ সালে এইচ.এস.সি পাশ করে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৭ পর্যন্ত একটি বেসরকারি সমাজ সংগঠন পদে এনজিওতে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চাকুরী করেন। তারপর চাকুরী চলে যাওয়ায় বিভিন্ন নার্সারী থেকে গাছ ক্রয় করে এনে গ্রাম গঞ্জে চারা বিক্রি করেন। হাটে বাজারে এসব চারা বিক্রি করে এতদিন সংসার পরিচালনা ও ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ যুগিয়েছেন। বর্তমান তার দিনপথ আর ভালো চলছে না।
কিন্তু করোনা মহামারী প্রকোপের পর থেকে পাল্টে গেছে তার জীবন চলার গতি আগের মত নেই চারা বিক্রি, আগের মত নেই আয়ের উৎস। জীবন চলার গতিকে ঠিক রাখতে এখানে ওখানে ও সেখানে করেন দিনমজুরীর কাজ। কিন্তু এই মজুরী কাজগুলো বর্তমানে নিয়মিত পাচ্ছেন না। পড়েছেন মহাবিপাকে। তাই নিজের কর্মস্থানের জন্য হাতে হাতুড়ি ধরে ভাংছেন ভাটার ইটের খোয়া। এতে দিন হাজিরা ৩শত টাকা পেয়ে সংসারটােেক কোনভাবে টিকিয়ে রেখেছেন। এ বয়সে যে কোথাও তার চাকুরী হবে তাও জুটছে না চাকুরী। চাকুরী ক করতে গেলে লাগে সঠিক শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়স। ৪৭ বছর বয়স হওয়ায় তিনি পড়েছেন বিপাকে। বাকী জিবনটুকু চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। দুই ছেলে মেয়ে লেখা পড়া করছেন।
মেয়ে অনামিকা সরেন (১৮) চলতি বছরে শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজ হতে ৩.৫৮ পেয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেন। ছেলে রোমীয় সরেন (১৫) রাজারামপুর এসইউ উচ্চ বিদ্যালয় কারিগরী শাখায় নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেন। স্তিফান সরেন যদিও একজন আদিবাসী গল্প, কবিতা লেখার ক্ষেত্রে তার রয়েছে বেশ সুনাম ২০০০ ইং সাল থেকে স্থানীয় জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সমজ চেতনা মূলক আনেক গল্প কবিতা তার প্রকাশ পেয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে শিশু কিশোর সংগঠনের পাতাতেও তার কবিতা প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু কে রাখে কার খবর? কষ্টে দিন যাপন করলেও স্বপ্ন দেখছেন একদিন তিনি জীবনে সফলতা ফিরে পাবেন। কেউ তার পাশে দাঁড়ায় নি। বর্তমান তার ছেলে মেয়ে ও পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে দিন যাপন করছেন। বর্তমান ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া ও সংসার চালাতে ইটের ভাটায় ইট ভাঙ্গার কাজ করে দিনযাপন করছেন। সরকারি সহায়তা করলে তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে বাঁচতে পারবেন।
কিউএনবি/আয়শা/২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৪:৪৫