শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন

‌‘প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন’র তকমা দিয়ে ৪০ টাকার কয়েন কোটি টাকায় বিক্রির ফাঁদ

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১০৯ Time View

 

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি জালিয়াত চক্রের তিন দালাল ও এক রসায়নবিদকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। যারা তামার তৈরি ৮০ টাকার কয়েন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে বিক্রি করে আসছিল কোটি টাকায়। এ সময় তাদের কাছ ৪২টি ধাতব মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভারে অভিযান চালিয়ে চক্রের আরেক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জের একটি বাঁশ ঝাড় থেকে উদ্ধার করা হয় ১১ লাখ টাকা।

ডিবি পুলিশ জানায়, কথিত মহামূল্যবান কয়েকটি কয়েন ক্রেতার সামনে স্কচটেপে মোড়ানো প্যাকেট থেকে খোলা হয়। কার্বন কাগজের আরেকটি প্রলেপ ছিড়ে কয়েন বের করে ম্যাগনিফায়িং গ্লাস দিয়ে পরীক্ষা করেন কথিত রসায়নবিদ। সাজানো পরীক্ষায় রসায়নবিদ ৪ ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করেন। পরীক্ষার পর রসায়নবিদ জানান এরমধ্যে দুটি কয়েন আসল। ক্রেতা, বিক্রেতা ও দালালেরর উপস্থিতিতে দুটি কয়েনের দাম নির্ধারণ হয় ৫ কোটি টাকা। কথিত ৪০০ বছরের পুরানো দুটি কয়েনের দামে ক্রেতা সন্তুষ্ট হয়ে ৪০ লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধের তারিখ ঠিক করে বিদায় নিলেন।

নির্দিষ্ট তারিখে বাকি টাকা দিয়ে কয়েন নিতে গিয়েই ঘটে বিপত্তি। খোঁজ নেই দালাল বা বিক্রেতার। এরপর বাধ্য হয়ে ক্রেতা পুলিশকে জানান।

প্রতারিত হওয়া এক ক্রেতা বলেন, কয়েন বিক্রির কথা বলে আমাকে নিয়ে গেছে। তখন আমার কাছে বিক্রির কথা বলে স্ট্যাম্প করে ৪০ লাখ টাকা নিয়েছে। এই ভণ্ড-প্রতারকরা এমন পরিবেশ তৈরি করে যে মানুষের তখন আর বিবেক বুদ্ধি কাজ করে না।

পুলিশ জানায়, শত বছরের পুরানো কয়েন দরকার এমন লোকদের টার্গেট করে চক্রটি। পরে নিজেরাই দালাল ও বিদেশি ক্রেতা সেজে কোনো তারকা হোটেলে বসে দরদাম ঠিক করে। আসলে ককয়েনগুলো পুরনো না। এগুলো গুলিস্তান থেকে কিনে আনা হয়, যা শুধু তামা দিয়ে বানানো।

এ বিষয়ে ডিবি গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মশিউর রহমান বলেন, সাধারণ তামা দিয়ে এসব কয়েন তৈরি হয় যাতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নাম লিখে দেওয়া হয়। এই কয়েনগুলোকে একদল প্রতারকরা গুলিস্তান থেকে কিনে নেয়। তারপর চক্রটি বাংলাদেশি সরলমনা কিন্তু লোভী টাইপের লোকদের বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে দেখায় এবং একেকটির দাম চান ৪-৫ কোটি টাকা।  
আসলে এই কয়েনটার মূল্য ৪০ থেকে ৫০ টাকা। কিন্তু সেটার জন্য প্রতারকরা কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) মো. হারুন অর রশীদ বলেন, এ রকম প্রতারক চক্র বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। দ্রুত বড়লোক হওয়ার চেষ্টা, অস্বাভাবিক কোনো প্রলোভন থেকে সবার সাবধান হওয়া জরুরি।

সূত্র : সময় নিউজ

কিউএনবি/অনিমা/১৫ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ |সকাল ১১:৫৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2025
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৩
IT & Technical Supported By:BiswaJit