ডেস্ক নিউজ : একলোক আর্থিকভাবে মোটামুটি সামর্থ্যবান। তার বাবা ব্যাংক থেকে সুদী ঋণ নিয়ে বাড়ি করেছে। যেটা ভাড়া দেওয়া হবে। ঐ লোক তার বাবাকে সুদী ঋণ নিতে নিষেধ করেও বিরত রাখতে পারেনি। আবার বাবা বাড়ি তৈরি করার সময় তার থেকেও বেশ কিছু টাকা ঋণ নিয়েছে।
যা ঐ বাড়িতে কাজে লাগিয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো— ঐ বাড়ি থেকে প্রাপ্ত ভাড়া সে গ্রহণ করতে পারবে কি না? সে কি ঐ বাড়িতে থাকতে পারবে? আর তার বাবার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে সে বাড়ি থেকে অংশ পেলে তা কি সে গ্রহণ করতে পারবে? উপরোক্ত সবগুলো ছূরতে যদি তার জন্য টাকা নেওয়া বৈধ না হয় তাহলে তার যে টাকা বাড়িতে লাগানো হয়েছে তা কি তিনি নিয়ে নিতে পারবেন?
সুদের ভিত্তিতে ঋণ নেওয়া-দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম। কুরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
وَ اَحَلَّ اللهُ الْبَیْعَ وَ حَرَّمَ الرِّبٰوا
‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২৭৫)
অপর এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন—
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَ ذَرُوْا مَا بَقِیَ مِنَ الرِّبٰۤوا اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ فَاِنْ لَّمْ تَفْعَلُوْا فَاْذَنُوْا بِحَرْبٍ مِّنَ اللهِ وَ رَسُوْلِهٖ.
‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা কিছু অবশিষ্ট আছে তা পরিত্যাগ করো। যদি তোমরা মুমিন হও। যদি তা না কর তবে আল্লাহ ও তার রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের সংবাদ জেনে নাও।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২৭৮-২৭৯)
হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত জাবের (রা.) বলেন—
لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آكِلَ الرِّبَا، وَمُؤْكِلَهُ، وَكَاتِبَهُ، وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ: هُمْ سَوَاءٌ
‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদ ভক্ষণকারী, সুদ প্রদানকারী, সুদের লেখক এবং সাক্ষীগণকে অভিসম্পাত করেছেন এবং বলেছেন, (গুনাহের ক্ষেত্রে) তারা সবাই বরাবর।’ (মুসলিম ১৫৯৮)
সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ লোকের বাবার সুদী ঋণ নেওয়া হারাম হয়েছে। এখন তার কর্তব্য হলো, অবিলম্বে ব্যাংকের সকল ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া এবং আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা-ইস্তেগফার করা।
আর ঐ বাড়ি তৈরিতে যেহেতু তার ছেলের টাকা আছে এবং সে বাবাকে সুদী লোন নিতে নিষেধও করেছে তাই সুদী লোনের গুনাহ ঐ ছেলের উপর বর্তাবে না এবং ঐ বাড়ি থেকে প্রাপ্ত অংশে বসবাস করা এবং এর আয় গ্রহণ করা তার জন্য জায়েয হবে।
মূলকথা হলো—
নিরুপায় হোক বা না হোক কোনো অবস্থাতেই সুদী ব্যাংক থেকে টাকা লোন নেয়া বৈধ নয়। কারণ সুদ মিশ্রিত সম্পদ হারাম। সুদের উপর ঋণ নিয়ে বাড়ি নির্মাণ করা জায়েয নয়। কারণ সুদ সর্বাবস্থায় হারাম এবং কাবীরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
ব্যক্তিকে অবিলম্বে খালেছ তওবা করতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব ঋণ পরিশোধ করতে হবে। উক্ত ঋণ দ্বারা নির্মিত বাড়ির ভাড়া ভোগ করা নাজায়েয হবে না। কেননা সূদ অবৈধ হলেও ঋণ বৈধ। তাছাড়া ঋণদাতা সুদ নিয়ে থাকে, ঋণ গ্রহীতা নয়।
অতএব তিনি উক্ত নির্মিত ঘরে বসবাস ও প্রাপ্ত অর্থ ভোগ করতে পারবেন (ফাতাওয়া আশ-শাবকাতুল ইসলামিয়াহ ১২/৬৯২৩, ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়েমাহ ১৩/৪১১) সর্বোপরি এই সুদী লেনদেনের জন্য গ্রহীতাকে অবশ্যই অনুতপ্ত হৃদয়ে তওবা করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘পাপ থেকে তওবাকারী ব্যক্তি পাপমুক্ত ব্যক্তির ন্যায়।’ (ইবনু মাজাহ ৪২৫০, মিশকাত২৩৬৩)
কিউএনবি/আয়শা/০৫ নভেম্বর ২০২৬,/রাত ৯:৫০