শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন

প্রবাসী স্বামীর টাকায় পড়াশোনা-চাকরি, পরে সহকর্মীর সঙ্গে প্রেম, অতঃপর…

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২৯ Time View

ডেস্ক নিউজ : বরিশালের মুলাদীতে প্রবাসী স্বামীর কষ্টার্জিত অর্থে পড়াশোনা ও সরকারি চাকরি পাওয়ার পর সহকর্মী শিক্ষকের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্বামী আদালতে মামলা দায়ের করার পর হাজিরা দিতে গেলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে ওই শিক্ষিকাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

বুধবার (৪ নভেম্বর) এ ঘটনায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ওই শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে মেহেন্দীগঞ্জের আসোলী সন্তোষপুর গ্রামের মাস্টার সুলকান গিয়াস উদ্দীনের ছেলে প্রবাসী মনির হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে মুলাদী উপজেলার ডিক্রীরচর গ্রামের শাহে আলম সিকদারের মেয়ে নাসরিন সুলতানার বিয়ে হয়।

সে সময় নাসরিনের শিক্ষাগত যোগ্যতা কম থাকলেও, বিয়ের পর উচ্চশিক্ষার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তার পাশে দাঁড়ান স্বামী মনির। প্রবাসে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে পাঠানো অর্থে স্ত্রীর পড়াশোনা ও যাবতীয় খরচ জুগিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, স্বামীর উপার্জিত অর্থ ও সহযোগিতায় পরবর্তীতে মুলাদীর কাজিরচর ইউনিয়নের বেগম সামচুন্নাহার শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি পান নাসরিন।

আরও জানা গেছে, বিদ্যালয়ে চাকরির সুবাদে অপর শিক্ষক বানারীপাড়া উপজেলার চাখার গ্রামের কেরামত আলী হাওলাদারের ছেলে তারিকুল ইসলামের সঙ্গে নাসরিনের ঘনিষ্ঠতা ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে ২০২৪ সালে শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তারিকুলকে ভোলা জেলার একটি শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। তবে এরপরও তাদের গোপন যোগাযোগ অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। গত জুলাই মাসে নাসরিন তার স্বামী মনির হোসেনের সঙ্গে বিচ্ছেদ করে তরিকুল ইসলামকে বিয়ে করেন। ওই সময় মনিরের টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যান নাসরিন। 

এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই মনির হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে বরিশাল জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (কাজিরহাট) আমলি আদালতে মামলা করেন। মামলায় তিনি স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেন। এতে সহকারী শিক্ষক নাসরিন সুলতানা, তারিকুল ইসলাম ও তাদের সহযোগী জাহেদুল ইসলামকে আসামি করা হয়।

ওই মামলায় গত ২ নভেম্বর সহকারী শিক্ষক নাছরিন সুলতানা ও তারিকুল ইসলাম আদালতে হাজির হন। শুনানি শেষে বিচারক আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতে কারাবন্দি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর গত ৪ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক সুরাইয়া খান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে নাছরিন সুলতানাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

মনির হোসেন চৌধুরী জানান, তার প্রবাসের উপার্জিত টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন নাসরিন সুলতানা। এখন দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ন্যায়বিচার পেতেই আদালতে মামলা করেছেন তিনি।

বেগম সামচুন্নাহার শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে সহকারী শিক্ষিকা নাসরিন সুলতানা আদালতে হাজির হয়ে কারাগারে গেছেন। শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। মামলা নিষ্পত্তির পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৫ নভেম্বর ২০২৬,/রাত ১০:১২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

November 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit