বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ন

অন্যের ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল থেকে মুক্তির দোয়া

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২৫ Time View

ডেস্ক নিউজ : জীবন মানেই নানা চড়াই-উতরাই, সংকট আর পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা। জাগতিক চেষ্টা-তদবির বা সতর্কতা তো জরুরি বটেই, তবে এর পাশাপাশি শত্রুর চক্রান্ত বা মানুষের কুমতলব থেকে বাঁচার জন্য মুমিনের মূল হাতিয়ার হলো আল্লাহর ওপর ভরসা এবং কুরআন-হাদিসে শিখিয়ে দেওয়া বিশেষ কিছু দোয়া পাঠ করা। জীবনে যখনই কোনো ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়ে, তখন এই আমলগুলো অন্তরে এনে দেয় প্রশান্তির পরশ।

১. হজরত নুহ (আ.)-এর আকুতি ও অসহায়ত্বের মোনাজাত

মানুষের নানামুখী ষড়যন্ত্র ও বিরোধিতায় কোণঠাসা হয়ে পড়ার পর পবিত্র কুরআনে একটি চমৎকার ও কার্যকর দোয়া বর্ণিত হয়েছে। হজরত নুহ (আ.) যখন তার অবাধ্য উম্মতদের কোণঠাসার শিকার হয়েছিলেন, তখন তিনি মহান রবের দরবারে এই অসহায়ত্বের আকুতি জানিয়েছিলেন। পবিত্র কুরআনে তা এভাবে ওঠে এসেছে—

رَبِّ اَنِّىْ مَغْلُوْبٌ فَانْتَصِر

উচ্চারণ: ‘রব্বি আন্নি মাগলুবুন ফানতাসির।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি তো অসহায়। অতএব তুমি আমাকে সাহায্য কর।’ (সুরা আল-কামার: আয়াত ১০)

উপকারিতা: ইতিহাস সাক্ষী, এই দোয়ার বরকতেই মহান আল্লাহ তাআলা মহাপ্লাবন পাঠিয়ে হজরত নুহ (আ.)-কে বিজয়ী করেছিলেন এবং তার শত্রুদের সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিলেন।

২. বিপদ ও শত্রুর মোকাবিলায় নবীজির প্রিয় দোয়া

যখনই কোনো শত্রু, হিংসুক বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হতো, তখন প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল করে এই বিশেষ দোয়াটি পাঠ করতেন—

اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِمْ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাঝআলুকা ফি নুহুরিহিম, ওয়া নাউজুবিকা মিন শুরুরিহিম।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমরা আপনাকে তাদের মোকাবিলায় পেশ করছি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।’ (আবু দাউদ ১৫৩৭)

এই দোয়ার মাধ্যমে বান্দা তার সমস্ত শক্তি ও নিরাপত্তার ভার সরাসরি আল্লাহর হাতে সঁপে দেয়, যার ফলে শত্রুর যেকোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্ত ধূলিস্যাত হয়ে যায়।

৩. শত্রু সংখ্যায় শক্তিশালী হলে: ইবরাহিম (আ.)-এর ভরসা

চারপাশে শত্রুর সংখ্যা যখন অনেক বেশি এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটময় বা ভীতিকর হয়ে দাঁড়ায়, তখন সাহাবায়ে কেরাম ও পূর্ববর্তী নবী-রসূলগণ আল্লাহর একটি বিশেষ বাণীর ওপর পরম আস্থা রাখতেন। নমরুদের লেলিহান আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার প্রাক্কালে হজরত ইবরাহিম (আ.) এই কালামটিই পাঠ করেছিলেন।পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী সেই মহান বাক্যটি হলো—

حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

উচ্চারণ: ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল।’

অর্থ: ‘আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।’ (বুখারি ৪৫৬৩)

ষড়যন্ত্র বা বিপদের কালো মেঘ যখনই চারপাশ থেকে ঘিরে ধরতে চায়, তখন মুমিনের ভেঙে পড়ার কিছু নেই। দুনিয়ার মানুষের চক্রান্ত যতই নিখুঁত হোক না কেন, আসমানের মালিকের হুকুম ছাড়া গাছের একটি পাতাও নড়ে না। তাই জাগতিক সচেতনতার পাশাপাশি কুরআন-হাদিসের এই অমূল্য দোয়াগুলো নিয়মিত পাঠ করলে মনের ভেতর এক অবিচল শক্তি তৈরি হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সব ধরনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করুন এবং তার ওপর পূর্ণ ভরসা রাখার তৌফিক দান করুন। আমিন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৫ নভেম্বর ২০২৬,/রাত ৯:৫০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

November 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit