ডেস্ক নিউজ : তৈরি পোশাক খাতের ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে দেশের পণ্য রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই এক মাসে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৯৩ কোটি মার্কিন ডলারে, যা আগের বছরের অক্টোবরে ছিল ৩৮২ কোটি ডলার। রোববার (১ নভেম্বর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এই চিত্র উঠে এসেছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই থেকে অক্টোবর) দেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০৮ কোটি ৫৯ লাখ মার্কিন ডলারে। এর আগের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার clock ১৩ কোটি ৭০ লাখ ৩০ হাজার ডলার। ফলে গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় এবার রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতেও প্রবৃদ্ধির এই ধারা বেশ স্পষ্ট। চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে এই খাত থেকে মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ৩৭৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ২৯৯ কোটি ৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থাৎ চার মাসের ব্যবধানে তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক Taz শতাংশ।
কেবল অক্টোবর মাসের একক হিসাবে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। গত বছরের অক্টোবরে যেখানে পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছিল ৩০১ কোটি ৯৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার, সেখানে চলতি বছরের অক্টোবরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৬ কোটি ৭৭ লাখ ৯০ হাজার ডলারে।
পোশাক খাতের প্রধান দুটি উপখাত নিটওয়্যার ও ওভেন—উভয় ক্ষেত্রেই এই চার মাসে ভালো প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। জুলাই-অক্টোবর সময়ে নিটওয়্যার রপ্তানি আয় ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৭২ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ওভেন পোশাকের রপ্তানি আয় ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০১ কোটি ৭৩ লাখ ডলারে। শুধু অক্টোবর মাসের হিসাবে নিটওয়্যার ও ওভেনে যথাক্রমে ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের তালিকায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক বাজার হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৩৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি। এছাড়া শীর্ষ বাজারগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে যুক্তরাজ্য এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জার্মানি। অন্যদিকে চতুর্থ স্থানে থাকা স্পেনে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
প্রচলিত বড় বাজারগুলোর পাশাপাশি নতুন ও উদীয়মান বাজারগুলোতেও বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। এই গন্তব্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে তুরস্কে, যেখানে রপ্তানি আয় ৮২ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়ে ২৯ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার ডলারে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া প্রধান রপ্তানি গন্তব্যের তালিকায় সপ্তম স্থানে থাকা ভারত এবং নবম স্থানে থাকা জাপানের বাজারেও রপ্তানি আয় ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।
ইপিবির মতে, বৈশ্বিক বাজারে দেশের রপ্তানি খাতের এই সাফল্য মূলত আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা এবং দেশীয় উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। রপ্তানি প্রবৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পণ্যের মানোন্নয়ন, বাজার বহুমুখীকরণ এবং বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে কাজ করে যাওয়ার কথা জানিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো।
কিউএনবি/অনিমা/০১ নভেম্বর ২০২৬,/রাত ৮:৪৯