রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ৩৫৭ পুলিশ কর্মকর্তার তথ্য চেয়েছে সদরদপ্তর ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে: আনসার মহাপরিচালক নর্থ সাউথকে উড়িয়ে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের সেমিতে ফারইস্ট শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে মায়ের আত্মহত্যা, স্বামীকে লিখলেন ‘তুমি আবার বিয়ে কোরো’ দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী পুলিশকে পেশাদারিত্ব ও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্ অক্টোবরে দেশে রপ্তানি বেড়েছে ৪.৩৯ শতাংশ গার্মেন্টস শিল্পে চলমান অস্থিরতা খুবই উদ্বেগজনক: জামায়াত আমির গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের গেজেট প্রকাশ করলো সরকার

জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল জার্মানি, চ্যান্সেলরের পদত্যাগ দাবি

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২০ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানো, শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানো, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও জলবায়ু সুরক্ষার দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে জার্মানি। এসব দাবির পাশাপাশি দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের পদত্যাগও চেয়েছেন জেন-জি প্রজন্মের তরুণেরা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) জার্মানির ৩৪টি শহরে আয়োজিত বিক্ষোভে প্রায় এক লাখ মানুষ অংশ নেন। তরুণদের সংগঠন ‘জেন-জি রেগেল্ট’ এই কর্মসূচির ডাক দেয়। তবে পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ শহরেই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আয়োজকদের প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল।

সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের (ডিডব্লিউ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা উন্নত করা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানো ও নতুন করে সেনা নিয়োগের সরকারি উদ্যোগের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ জানান তারা।

বিক্ষোভকারীদের আশঙ্কা, সরকারের এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জার্মানিতে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা পুনরায় চালুর ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের পদত্যাগের দাবিসংবলিত ব্যানার বহন করতেও দেখা যায়।

দিনের বেলায় অধিকাংশ স্থানে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যার পর কয়েকটি শহরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বার্লিনে পুলিশের হিসাবে, ব্রান্ডেনবুর্গ গেটে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। যদিও আয়োজকদের দাবি, সেখানে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল ১০ হাজার। অন্যদিকে হামবুর্গে অংশ নেন প্রায় ৬ হাজার ৭০০ জন।   

সবচেয়ে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হয় ফ্রাঙ্কফুর্টে। সেখানে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ বিভিন্ন দোকানের কাঁচ ভাঙচুর করেন। পাশাপাশি বিপণিবিতান ও কেনাকাটার এলাকায় লুটপাট চালানোর অভিযোগ ওঠে। এ সময় পুলিশের দিকে মলোটভ ককটেলও ছোড়া হয়। এসব ঘটনায় প্রায় ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব হামলার জন্য প্রায় ১০০ জন বামপন্থি উগ্রবাদীকে দায়ী করেছেন।

এদিকে কোলন ক্যাথেড্রালের কাছে প্রায় ২০০ জন বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও সাইকেল ছুড়ে মারেন। বার্লিনেও সন্ধ্যায় পৃথক একটি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা সামান্য আহত হন। পাশাপাশি ৫৬ জন পর্যন্ত বিক্ষোভকারীকে সাময়িক আটক করা হয়। হামবুর্গ, ব্রেমেন ও বন শহরেও অস্থিরতার খবর পাওয়া গেছে।

তবে পুলিশ ইউনিয়নের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পুরো জেন-জি বিক্ষোভকে সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য, মুখোশধারী কিছু ব্যক্তি মূল বিক্ষোভকারীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছিলেন।

জার্মানির এই আন্দোলন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরুণদের নেতৃত্বে চলা বৃহত্তর প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ। ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে এ আন্দোলনের সূচনা হয়।

শিক্ষা গবেষক নিনা কোলেক সতর্ক করে বলেছেন, নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না হলে তাদের মধ্যে পপুলিস্ট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সমর্থন বাড়তে পারে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০১ নভেম্বর ২০২৬,/রাত ৮:৩৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

November 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit