আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনই সরে আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আগে এর ফলাফল দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর হওয়া নিশ্চিত করতে চান তিনি।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প এ কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে। আমরা এখনই চলে যেতে পারি, কিন্তু আমরা নিশ্চিত করতে চাই, এর ফলাফল যেন দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক সাফল্যের দাবি করে ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন তেহরানকে পরাজিত করেছে। তার দাবি, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। তবে যুদ্ধের সমাপ্তি, সম্ভাব্য চুক্তি কিংবা সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা ঘোষণা করেননি।
সমাবেশে বক্তব্যের সময় হরমুজ প্রণালি নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ রয়েছে। পাশাপাশি প্রণালিটির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার কথাও বলেন তিনি।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ যুদ্ধের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
নির্বাচন-পরবর্তী হামলার পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ
ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিতের মধ্যেই নতুন করে ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত এবং জ্বালানি অবকাঠামো। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অনুমোদন ট্রাম্প দেবেন কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। চলতি বছর ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার একাধিক প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, যেসব সামরিক পরিকল্পনা থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে, সেগুলো নিয়ে প্রশাসন মন্তব্য করে না। তবে ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে জন্য সব বিকল্প বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।
পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পরবর্তী সময়ে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল, অবরোধ এবং দুই দেশের পারস্পরিক শর্ত নিয়ে মতপার্থক্য সমাধানের পথে বাধা হয়ে রয়েছে।
তথ্যসূত্র : আনাদোলু
কিউএনবি/অনিমা/২২ অক্টোবর ২০২৬,/সকাল ১১:৩৭