সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন

রুশ জ্বালানি থেকে ভারতের সরে আসা কঠিন, দাবি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২০ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল কেনা বন্ধ করে ভারতের পক্ষে রাতারাতি অন্য উৎসে চলে যাওয়া কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপের প্রভাব পর্যালোচনা করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৬০ দিনের সময় নিতে চান।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) উজবেকিস্তান ও ভারত সফরে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রুবিও এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে, রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং নিজের অর্থনীতির ওপরও সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করতে হচ্ছে।

রুবিও বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থাগুলো শুধু রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ভারতসহ কয়েকটি দেশের ওপরও শুল্ক আরোপের বিষয় রয়েছে। তাই এসব পদক্ষেপ বৈশ্বিক অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা বিশ্লেষণ করতে চান ট্রাম্প।

শুক্রবার ট্রাম্প ‘লিন্ডসে গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট’-এর আওতায় প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেন। জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করে নেওয়া এ সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি আপাতত কার্যকর হয়নি। এসব দেশের মধ্যে ভারত ও চীন রয়েছে।

রুবিও বলেন, বিশ্বে বর্তমানে নানা ধরনের সংকট চলছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ, সৌদি আরবে হুতিদের হামলা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। ফলে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এসব বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ভারত জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য এনেছে। তবে দেশটি এখনো রাশিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে। এক দিনের মধ্যে এই নির্ভরতা থেকে সরে আসা কঠিন। একই সঙ্গে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ও অংশীদার।

রুবিওর ভাষায়, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা নির্ধারণ করতে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় প্রয়োজন।

কেন রাশিয়ার তেল কেনে ভারত?

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সমুদ্রপথে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানি নিষিদ্ধ করে। অন্যদিকে, জি-৭ জোট রাশিয়ার তেল বিক্রির আয় সীমিত করতে মূল্যসীমা নির্ধারণ করে।

এ পরিস্থিতিতে ইউরোপের অনেক ক্রেতা রাশিয়ার তেল কেনা কমিয়ে দিলে মস্কো এশিয়ার বাজারে তেল বিক্রি বাড়ায়। আন্তর্জাতিক বাজারের ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় কম দামে রুশ তেল পাওয়ায় ভারতীয় শোধনাগারগুলো তা আমদানি করতে শুরু করে।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল ব্যবহারকারী দেশ ভারত আগে রাশিয়া থেকে সামান্য পরিমাণ তেল আমদানি করত। যুদ্ধের আগে দেশটির মোট তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ ছিল প্রায় ২ শতাংশ বা তারও কম। পরে ছাড়ে তেল পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারত আমদানি বাড়ায়।

একপর্যায়ে ভারতের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী হয়ে ওঠে রাশিয়া। কোনো কোনো সময়ে ভারতের মোট তেল আমদানির ৪০ থেকে ৫০ শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে ভারত প্রতিদিন প্রায় ১৯ লাখ ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে, যা দেশটির ওই মাসের মোট তেল আমদানির প্রায় ৩৫ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ভারতের অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত আইন পাস হওয়ার পর ভারত জানিয়েছিল, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তন বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে নয়াদিল্লি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে ভারত।

দেশটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, নিজেদের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে ভারত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৮ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ১১:১৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit