ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজশায়ারের একটি রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ঘাঁটির নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে ভেতরে প্রবেশের অভিযোগে লাটভিয়ার দুই নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ক্যামব্রিজশায়ারের আরএএফ মোলসওয়ার্থ ঘাঁটিতে।
বুধবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১০টার দিকে ঘাঁটির নিরাপত্তা টহল দেওয়ার সময় একটি পরিত্যক্ত গাড়ি দেখতে পায় ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পুলিশ (এমডিপি)। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়।
এমডিপি ও ক্যামব্রিজশায়ার পুলিশের যৌথ তল্লাশি চালানোর কয়েক ঘণ্টা পর ঘাঁটির চারপাশের নিরাপত্তাবেষ্টনীতে একটি ছোট অংশ ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ঘাঁটির সীমানার ভেতর থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তি লাটভিয়ার নাগরিক এবং তারা যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। তাদের বয়স ৩৬ ও ৩২ বছর।
প্রাথমিকভাবে নিষিদ্ধ স্থাপনায় অনধিকার প্রবেশ এবং সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের সন্দেহে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের ক্যামব্রিজশায়ারের একটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে পরবর্তী সময়ে তাদের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। ২০২৩ সালের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের ৪ নম্বর ধারার আওতায় তাদের আবার গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই ধারায় যুক্তরাজ্যের স্বার্থের পরিপন্থী কোনও উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ স্থানে প্রবেশকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ তদন্তে
ঘটনাটি বর্তমানে সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ তদন্ত করছে। তবে তদন্তকারীরা রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এটিকে সম্প্রতি আলোচিত আরেকটি ঘটনা- গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে ঘটে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করছেন না।
তবে বিষয়টি তদন্তের ক্ষেত্রে কোনও সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে।
লন্ডনের কাউন্টার টেররিজম পুলিশিংয়ের প্রধান কমান্ডার হেলেন ফ্লানাগান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক স্থাপনাগুলোকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও উদ্বেগ বেড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মোলসওয়ার্থের ঘটনার সঙ্গে গত সপ্তাহে ফেয়ারফোর্ডে ঘটে যাওয়া ঘটনার কোনও যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, “সামরিক স্থাপনাগুলোকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের উদ্বেগ ও আগ্রহ বেড়েছে- এ বিষয়টি আমরা ভালোভাবেই অবগত। তবে এ পর্যায়ে এমন কোনও তথ্য নেই, যা থেকে বলা যায় যে এই ঘটনার সঙ্গে গত সপ্তাহের আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের ঘটনাগুলোর কোনও সম্পর্ক রয়েছে।”
গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা ঘাঁটি মোলসওয়ার্থ
আরএএফ মোলসওয়ার্থ যুক্তরাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনা। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)-এর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘাঁটিতে ইউরোপ ও আফ্রিকা অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার কেন্দ্র রয়েছে। একই সঙ্গে এখানে ন্যাটোর একটি গোয়েন্দা কেন্দ্রও রয়েছে।
ঘাঁটিটি ইংল্যান্ডের হান্টিংডনের পশ্চিমে এবং নর্দাম্পটনশায়ারের সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।
এ কারণে ঘাঁটির নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে দুই ব্যক্তির ভেতরে প্রবেশের ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। তাদের প্রবেশের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং তারা ঘাঁটির ভেতরে কী করতে চেয়েছিলেন, তা জানতে তদন্ত চলছে।
এদিকে, ঘটনার পর আরএএফ মোলসওয়ার্থের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াও এখনও স্পষ্ট নয়। সূত্র: বিবিসি, স্কাই নিউজ
কিউএনবি/অনিমা/০৮ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ৯:৫৫